করোনায় আক্রান্ত হয়ে দিনাজপুরের এম. আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন পুলিশ কনস্টেবল এনামুল হক (৪৩)। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত হয়। বুধবার (১০ জুন) অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় আনা হচ্ছিল ঠিকই। কিন্তু দুপুরের দিকে পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। এনামুল দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য এনামুলকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে আনার পথে চান্দুরা নামক স্থানে এসে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, নিহত এনামুলের গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড়ে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যবস্থাপনায় এনামুলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠানোসহ যথাযথ প্রক্রিয়ায় তার দাফন করা হয়।
আইজিপির শোক
বুধবার করোনায় বাংলাদেশ পুলিশের দুই সদস্য ইন্সপেক্টর মো. আব্দুল আজিজ ও কনস্টেবল মো. এনামুল হকের মৃত্যুতে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
আইজিপি এক শোকবার্তায় বলেন, ‘দেশে করোনা প্রতিরোধের প্রথম দিন থেকেই জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের বীর সদস্যরা সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শহীদ ইন্সপেক্টর মো. আব্দুল আজিজ এবং শহীদ কনস্টেবল মো. এনামুল হকসহ করোনাযুদ্ধে এযাবৎ আমাদের ২১ জন সহকর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন। তারা জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। এই আত্মত্যাগের জন্য তারা পুলিশ সদস্যদের কাছে আদর্শ ও অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবেন।’
আইজিপি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
উল্লেখ্য, করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মোট ২১ জন সদস্য মারা গেছেন।








