‘দাঁড়ায় থাকলে ঠেইল্যা নিয়া যায়’

সাদ্দিফ অভি
২৯ জুলাই ২০২০, ১৩:০০আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২০, ১৩:৩১

নিউমার্কেট এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলছে বেচা-কেনা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা, আর বিকাল ৩টা থেকে ৫টা—এক জায়গায় দাঁড়ায় থাকবেন, আপনারে পাবলিক ঠেইল্যা নিয়ে যাবে। কষ্ট করে হাঁটা লাগবে না। এখন যে পরিমাণ মানুষ দেখতেছেন এইটা কিছুই না, সন্ধ্যার ভিড়ের ফাঁকে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার নিরাপত্তাকর্মীরা। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমল ও মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি জনস্রোত নিউমার্কেট এলাকায়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন–ঈদের পর এর একটা প্রভাব করোনা শনাক্তের সংখ্যার ওপরে পড়তে পারে।

সোমবার রাজধানীর কয়েকটি শপিং মল ঘুরে দেখা যায়, নিউমার্কেটের তুলনায় সেখানে ভিড় কিছুটা কম। রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং মল, রাপা প্লাজা, প্লাজা এ আরসহ কয়েকটি শপিং মলে এইরকম চিত্র। এর উল্টো চিত্র দেখা যায় নিউমার্কেট এলাকায়। সেখানে ফুটপাত থেকে শুরু করে কোথাও একটু দাঁড়ানোর জায়গা অবশিষ্ট নেই। একজন আরেকজনকে ধাক্কা দিয়েই চলছে আসা যাওয়া। দোকানিরাও ভিড়ের মধ্যে করছেন বেচাকেনা। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কোনও বালাই নেই। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছেন না কেউ। অনেকের মুখেই নেই মাস্ক, যাদের আছে তারা নাকমুখ থেকে নামিয়ে থুতনিতে ঝুলিয়ে রেখেছেন। 

নিউমার্কেট এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলছে বেচা-কেনা নিউমার্কেট এলাকার নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, সন্ধ্যার পরের এই ভিড় হচ্ছে স্বাভাবিক ভিড়। এর চেয়ে ভিড় বেশি থাকে সকালে এবং বিকালে। নূর ম্যানশনের সামনে কর্তব্যরত এক নিরাপত্তাকর্মী নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘আজকে ৩০০ মোটরসাইকেলের পার্কিং টিকিট কাটা হইছে এখন পর্যন্ত। গাড়ির টিকিট কাটলাম ৮০টা। এখন ধারণা করেন কী পরিমাণ মানুষ আসে সারাদিনে। এখন যে ভিড় দেখতেছেন এইটা আসলে কিছুই না। ঘণ্টাখানেক আগেও এখানে দাঁড়াইতে পারতেন না, মানুষ ঠেইল্যা সামনের দিকে নিয়ে যেতো।’

এসময় পাশের এক আইসক্রিম বিক্রেতা অনেকটা আক্ষেপ করে বলেন, মসজিদে গেলে ৩ ফুট দূরে দূরে দাঁড়ায় নামাজ আদায় করতে হয়। আর মার্কেটে এগুলার কিছু নাই।

নিউমার্কেট এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলছে বেচা-কেনা নিউমার্কেটে আসা কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে সাংবাদিক পরিচয় শুনে তারা কেউই কথা বলতে রাজি হননি। তবে দোকানিরা বলছেন, সবকিছু মেনে এভাবে ক্রেতা সামলানো সম্ভব না। মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ দোকানেই স্বাস্থ্যবিধি পালনের জন্য আছে শুধু মাস্ক। মাস্ক পরে ক্রেতারা বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলছেন। দোকানে দৃশ্যমান হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা নেই কেন, জানতে চাইলে নিচে থেকে বোতল বের করে দেখান তারা।  

নূর ম্যানশনের একটি কসমেটিকস দোকানের কর্মচারী রাহাত বলেন, ‘ক্রেতার মূল উদ্দেশ্য কিছু কিনতে আসা। সেজন্যই তারা আসেন। তাদের মধ্যেই কোনও সচেতনতা নাই। হাত ধোয়া কিংবা স্যানিটাইজারের কথা বললে কেউ কেউ তো ভীষণ বিরক্ত হন।’ তিনি বলেন, ‘আমাদেরও তো ক্রেতা দরকার। আর কী বলবো।’

রাস্তায় রিকশার ভিড় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং করোনাবিষয়ক জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখন মার্কেটে যেভাবে মানুষ সমাগম হচ্ছে, ঈদের পর একটা প্রভাব পড়তে পারে করোনা শনাক্তের সংখ্যার ওপর। এছাড়া সংক্রমণের হারও বেড়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, স্বাস্থ্যবিধি মেনে গরুর হাট রাজধানীর বাইরে করতে, দোকানপাট পরিচালনা করতে। কিন্তু কোনোটা তো সম্ভব হচ্ছে না। সুতরাং, এভাবেই হয়তো আমাদের চলবে, এটাই হয়তো আমাদের নিয়তি।’

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

/এপিএইচ/এমএমজে/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে