‘আমার ছেলে পড়াশোনা করতো, করোনার জন্য স্কুল বন্ধ, সে বাইরে ঘুরাঘুরি করবে, তাই তাকে কাজে লাগিয়ে দিয়েছিলাম। কোনও লাভ হলো না। তাকে একটা ছেলে মেরে ফেললো’—ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করিডোরে এভাবেই আহাজারি করছিলেন শেফালী বেগম। কামরাঙ্গীরচরে হাসান নগর প্রিন্টের কারখানায় সহকর্মীর ছুরিকাঘাতে নিহত সয়নের (১৮) মা তিনি। ‘ছেলেকে কাজে পাঠানোই কাল হলো’ বলে আহাজারি করতে থাকেন তিনি।
ছেলের মৃত্যু যেন কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছেন না শেফালী বেগম। হাসপাতালের করিডোরে আহাজারি করতে বলছিলেন, ‘করোনায় মারা গেলেও মনটাকে বুঝাতে পারতাম, তার এভাবে মরতে হলো কেন, এত সহ্য করতে পারছি না। তাকে প্রকাশে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।’
তার সঙ্গে তো কারও সঙ্গে কোনও গণ্ডগোল ছিল না উল্লেখ করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘গোলমাল থাকলে অবশ্যই বলতো। সে জানিয়েছিল, কয়েকদিন আগে তাদের কারখানার পাশে দুই ছেলের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। সেখানে পুলিশও গিয়েছিল। সে সেখানে সমঝোতা করে দিয়েছিল। তা তো সমঝোতা হয়ে গিয়েছিল।’
শেফালী বেগম কখনও বলছিলেন, ছেলের স্কুল বন্ধের কথা, কখনও কেন কাজে পাঠালেন সেই কথা। তিনি বলেন, ‘কারখানার সামনে চৌরাস্তায় সিরাজ নামে একই কারখানার শ্রমিক আমার ছেলেকে এভাবে কুপিয়ে মারলো কেউ তাকে বাচাতে পারলো না। আমি এর বিচার চাই বিচার চাই।’
আরও পড়ুন: কামরাঙ্গীরচরে সহকর্মীর ছুরিকাঘাতে কিশোরের মৃত্যু








