অতি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া পূরণ এবং অর্থমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করতে সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। এই দাবি পূরণ না হলে আগামী ২ জানুয়ারি থেকে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। তিনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সরকারকে আগামী ২ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দিচ্ছি। আশাকরি সরকার আমাদের দাবি মেনে নেবে এবং অর্থমন্ত্রী তার প্রতিশ্রুতি রক্ষাও করবেন। আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ দানের পরিবেশ সবসময় বজায় রাখতে চাই। আশাকরি সরকার সে বিষয়ও বিবেচনায় রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ৬ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে আমরা শিক্ষকরা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে চূড়ান্ত পর্যায়ে আলোচনা সম্পন্ন করেছি। সে সময় অর্থমন্ত্রী আমাদেরকে কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য কোনও কাজ করছেন না।’ এ সময় তিনি অর্থমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ছিল, অষ্টম জাতীয় বেতনস্কেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য সপ্তম জাতীয় বেতন কাঠামোর মতো সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল বহাল থাকবে। এক্ষেত্রে সপ্তম বেতনস্কেলে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা অষ্টম বেতন কাঠামোয় আদৌ কমানো হবে না, অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে সিনিয়র সচিবের যে স্থান রাখা হয়, সে স্থানে গ্রেড-১ প্রাপ্ত অধ্যাপকদের মধ্য থেকে একটি অংশকে শতকরা হারে উন্নীত করার বিধান রাখা হবে, অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রারম্ভিক বেতন সপ্তম গ্রেডে সম্ভব না হলেও অষ্টম গ্রেড থেকে শুরু করা হবে।
ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল অভিযোগ করে বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা জেনেছি, উপযুক্ত তিনটি প্রতিশ্রুতির মধ্যে কেবল তৃতীয়টি বাস্তবায়নের পর্যায়ে আছে। প্রকাশিত গেজেটে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল রাখা হয়নি। অন্যদিকে গ্রেড-১ প্রাপ্ত অধ্যাপকদের মধ্য থেকে একটি অংশকে সিনিয়র সচিবের সমমর্যাদায় স্থান দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। অর্থমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি আমরা গত ৮ ডিসেম্বর সারা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছি। কিন্তু আমরা অপ্রত্যাশিতভাবে লক্ষ্য করলাম, গেজেটে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটেনি। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত করে আমরা কোনও কঠোর আন্দোলনে এর আগে যাইনি। তাই এমন অবস্থায় আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল মনসুর আহমেদ, মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. সেলিম রেজা, ড. মোহাম্মদ আনসারুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক ড. ইমদাদুল হক প্রমুখ।
/এসআইএস/এসএম/টিএন/








