মেয়েকে হত্যার ঘটনায় প্রথমে মেয়ে জামাইকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন শ্বশুর জলিল দুয়ারি। অথচ প্রায় দুই বছর পর এসে সেই জামাতার জামিনের পক্ষে সাফাই দিতে এসে ফেঁসে গেলেন শ্বশুর জলিল দুয়ারি। জামাতার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে দাবি করায় শ্বশুরের বিরুদ্ধেই মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আসামি জামাতা মো. কাউসার গাজীকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আসাদ মিয়া। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. বশির উল্ল্যাহ ।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. বশির উল্ল্যাহ বলেন, ‘মেয়েকে হত্যা করার ঘটনায় জামাতাকে প্রথমে আসামি করে মামলা করেন শ্বশুর। তবে দুই বছর পরে এসে সেই মামলা প্রত্যাহার করে মেয়ের জামাইকে জামিনে সহযোগিতার অভিযোগে পটুয়াখালীর জলিল দুয়ারির বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।’
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পটুয়াখালী এলাকার সাথী আক্তার নামের এক নারীকে তার স্বামী মোহাম্মদ কাউসার গাজী নির্মমভাবে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করে সাথীর পরিবার। এ ঘটনায় পটুয়াখালীর সদর থানায় নিহত সাথী আক্তারের বাবা জলিল দুয়ারি বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় আসামি কাউসার গাজীকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় আদালত।
পরে ওই ঘটনায় নিহত সাথীর মেয়ে শিশু (৫) আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। জবানবন্দিতে সে বলে, ‘আমার আম্মুকে আব্বু লাঠি দিয়ে মাথায় এবং দাদা শরীরে আঘাত করে হত্যা করে। পরে ছাগলের রশি দিয়ে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে। ময়নাতদন্তেও আঘাতের ফলে মৃত্যুর বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
কিন্তু দুই বছর পর এসে জলিল দুয়ারি এফিডেভিট সহকারে হাইকোর্টকে জানান, তিনি প্ররোচিত হয়ে এ হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় কাউসার গাজীকে অব্যাহতি দিয়ে জামিন দিলে তার কোনও আপত্তি নেই।
এ সময় শুনানিকালে হাইকোর্ট বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা করা ঠিক হয়নি, অথবা মিথ্যা এফিডেভিট দিয়ে আসামির জামিনে সহযোগিতা করাও তার ঠিক হয়নি।
তাই এ ঘটনায় পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সেজন্য আদালত বলেন, প্রায়ই জামিন পাওয়ার জন্য আসমিপক্ষ এ ধরনের প্রতারণা বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে জামিনের চেষ্টা করে। এ ধরনের ঘটনা বন্ধ হওয়া উচিত। তাই এ ঘটনায় মামলার বাদী জলিল দুয়ারির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হলো।
এদিকে মামলার বাদী জলিল দুয়ারি এফিডেভিটে বলেন, ‘আমার মেয়ে সাথী আক্তারের গর্ভে এবং আমার মেয়ে জামাই মো. কাওসার গাজীর ঔরসে শিশু কন্যা (৫) ও ছেলে শিশুর (১) জন্ম হয়। আমার মেয়ে সাথী আক্তার জামাইকে ভুল বুঝিয়ে তার সঙ্গে রাগান্বিত হয়ে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে অন্যের দ্বারা প্ররোচিত না হয়ে গলায় দঁড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে। উক্ত আত্মহত্যায় আমার মেয়ের জামাই ও তার বাবা- মা জড়িত না। কিন্তু পরবর্তীতে কিছু কুচক্রী লোকের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করি। যা সত্য নয়। আমার মেয়ের জামাই দুটি নাবালক সন্তানের পিতা। ওদের ভবিষৎ দেখাশোনার জন্য মামলাটি পরিচালনা করা আমার আবিশ্যকতা নেই এবং মামলা থেকে আসামিকে অব্যহতি দিলে আমার আপত্তি নেই।’







