তেজগাঁওয়ের উত্তরা মটরস থেকে কুনিপাড়া রানার্স পর্যন্ত সড়কের উদ্বোধন করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।
বুধবার (৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় উন্নয়ন কাজ শেষ হওয়ার পর সড়কটি উদ্বোধন করেন তিনি। ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে উদ্বোধন করা সড়কটির দৈর্ঘ্য ৬৫৬ মিটার। এতে ৬৫৬ মিটার পাইপ ড্রেন এবং ৫৯০ মিটার ফুটপাত রয়েছে।
উদ্বোধনকালে মেয়র বলেন, ‘আজকে যে জায়গায় দাঁড়িয়ে কথা বলছি, এক বছর আগেও কিন্তু এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলা যেতো না। আমি নির্বাচনের সময় বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি, এখানেও এসেছিলাম। তখন বলেছিলাম, এই এলাকার এই অবস্থা কেন। আজ এই জায়গায় সেই দুরাবস্থার অবসান হলো।’
মেয়র আতিক বলেন, ‘আমরা চাই এই ঢাকাকে একটি সুন্দর ঢাকায় রূপান্তরিত করতে। আমরা জানি যে, আমাদের অনেক সমস্যা আছে। কিছু সমস্যা মানুষের তৈরি। আমরা দেখেছি, কীভাবে রাস্তাগুলোকে দখল করে রাখা হয়।’
খাল পরিষ্কার ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ সম্পর্কে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, আমরা ১ জানুয়ারি খালের দায়িত্ব পেয়েছি। আমি ইব্রাহিমপুর খালের সামনে যখন দাঁড়ালাম, তখন দেখি খালের দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৬০ ফুট, যখন ফিতা দিয়ে মাপলাম, ওই খাল আর ৬০ ফুট নাই। ওই খাল হয়ে গেছে মাত্র ১০ ফুট। তাহলে বৃষ্টি হলে পানি যাবে কোথায়? সেই পানি বিভিন্ন রাস্তায় চলে আসবে। আমি কালশি খাল ও গোদাখালী খাল থেকে ২০০ ট্রাক ডাবের খোসা উদ্ধার করেছি। এখান থেকে জাজিম ৩৬টি, টেলিভিশন, ফ্রিজ সবকিছু খালে পেয়েছি।’
উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জনগণকে বলে যাচ্ছি, যে রাস্তা ও খাল আমরা পরিষ্কার করে দেবো, সেই খাল এবং সেই রাস্তা যেন আপনারা তদারকি করেন। সেই অঙ্গীকার আপনাদের থেকে আমরা চাই। সে দায়িত্ব আমি দিয়ে গেলাম। অনেক কষ্ট করে আমার রাস্তা করি। অনেক কষ্ট করে আমরা ফুটপাত করি। অনেক কষ্ট করে ড্রেন থেকে ময়লা সাফ করি। আপনারা বলুন, কোন এলাকার ড্রেনে ময়লা আছে, আমরা প্রথমবারের জন্য পরিষ্কার করে দেবো। কিন্তু আমরা বারবার পরিষ্কার করবো না। ময়লা করবে জনগণ, এটি হবে না। আপনাদের সাহায্য পেলে এটি একটি নন্দিত ঢাকা শহর হবে।’
ভাসানটেকে গত দুই দিন ধরে চলমান অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘ভাসানটেক থেকে মানিকদি পর্যন্ত রাস্তা পার হতে ও বের হতে দুই ঘণ্টা সময় লাগতো। পকেট গেটে একটি দোতলা বাড়ির জন্য সেখানে দীর্ঘ যানজট তৈরি হতো। আমরা সেই বাড়িটি কিনে ভেঙে দিয়েছি। এছাড়া রাস্তার দুই পাশে অবৈধভাবে তৈরি করা বাড়িগুলোর বর্ধিতাংশ ভেঙে দিয়েছি। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বাড়িও রেহাই পায়নি। দখলদার যেই হোক না কেন, যত শক্তিশালীই হোক না কেন, যত বড় রাজনৈতিক ব্যক্তি হোক না কেন, অবৈধভাবে দখল করে রাখবে, এটি আমি মানতে পারব না। যারা অবৈধভাবে খাল এবং রাস্তা দখল করেছেন, তাদের জন্য আমাদের জিরো টলারেন্স অব্যাহত থাকবে।’
সম্প্রতি চালু হওয়া ইউটার্ন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘আমরা টোটাল ১০টি ইউটার্ন নির্মাণ করবো। ইতোপূর্বে তিনটি ইউটার্ন নির্মাণ করা হয়েছে। সম্প্রতি আরও তিনটি ইউটার্ন খুলে দেওয়া হয়েছে। আরও চারটি নির্মাণাধীন। সবগুলো ইউটার্ন চালু হলে এর সুফল পাওয়া যাবে।’
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরুল ইসলাম,ওয়ার্ড কাউন্সিলর সফিউল্লাহ সফি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।









