নির্যাতনের কথা পুরুষ পুলিশকে জানাতে হয় বলে দেশে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ ভুক্তভোগী নারীই থানায় আসেন না। তাই, প্রত্যেক থানায় একজন করে নারী পুলিশ রাখার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে, যাতে একজন নারীর কাছে তার অভিযোগ তুলে ধরতে সমস্যা না হয়। শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) আয়োজিত অনলাইনে ‘অ্যাডা লাভলেস সেলিব্রেশন’আলোচনায় এসব কথা বলেন ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম ডিভিশনের সিনিয়র অ্যাসিসটেন্ট কমিশনার সৈয়দ নাসিরুল্লাহ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিডিওএসএনের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন, হাইটেক পার্ক অথোরিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম, এনডিসি, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নোভা আহমেদ, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আইএসপিএবির প্রেসিডেন্ট আমিনুল হাকিম ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি বিসিএসের প্রেসিডেন্ট শাহিদ উল মুনির।
সৈয়দ নাসিরুল্লাহ আরও বলেন, পুলিশ বিভাগ থেকে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে, কিভাবে নারীদের সমস্যা বা অভিযোগগুলো আরও নির্দিষ্ট করে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হবে। তবে, এ সংক্রান্ত প্রত্যেক সরকারি সংস্থা বা ডিপার্টমেন্টকে একসঙ্গে বসে কাজ শুরু করতে হবে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে শুধু আলোচনাই হচ্ছে। এবার বাস্তবায়ন শুরু করা উচিত।
আমাদের দেশে প্রায় ৪ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্রাউজ করেন। তাদের ট্রেনিং এর বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে আইএসপিএবি এর আমিনুল হাকিম বলেন, ২০০৬ সালে আইএসপিএবি থেকে একটি এমার্জেন্সি সাইবার রেসপন্স টিম গঠন করা হয়। সেক্ষেত্রে গ্রাম পর্যায়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা আমাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো। তখন সচেতনতা তৈরি করায় আমরা অল্প পরিসরে বেশ কিছু কাজ করা হয়েছে যেমন বুকলেটের মাধ্যমে সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে করণীয় প্রচারণা। এ বছর সেটা বড় পরিসরে করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিসিএসের প্রেসিডেন্ট শাহিদ উল মুনির আমিনুল হাকিম বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট-১ আইনটি সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে হবে। তবে রাতারাতি কোনও পরিবর্তন হবে না। অনেক সময় সাইবার বুলিংয়ের শিকার হলেও ভিকটিম তা বুঝতে পারে না। ভিকটিমকে এই আইন সম্পর্কে ভালভাবে সচেতন করতে হবে যাতে সে নিজেই এই বিষয়ে মোকাবিলা করতে পারে। সবাই মিলে কাজ শুরু করে দিলে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করেন তিনি।
বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম এনডিসি বলেন, মেয়েদের সাহসি হতে হবে। আমাদের দেশের মেয়েরা অনেক সময় পরিস্থিতির শিকার হয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে না শুধু মাত্র সাহস এবং সাইবার আইন সম্পর্কে সঠিক তথ্য বা ধারনার অভাবে। এসব এসব বিষয়ে হাইটেক পার্ক অথোরিটিতে আসলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বছর থেকেই সাইবার আইনটি সম্পর্কে ভিকটিমদের সচেতন করা এবং থানায় অভিযোগ করানোর বিষয়ে তাদের উদ্বুদ্ধ করতে সবার সমন্বয়ে কাজ শুরু করতে হবে জানিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন বিডিওএসএনের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান।
এ সময় নোভা আহমেদ, দেশের নারী ভিকটিমদের সম্পর্কে কোনো রিসার্চ আছে কিনা তা নিয়ে কথা বলেন।
এর আগে সকাল সাড়ে আটটা থেকে বিদেশি অতিথিদের কি নোট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে শুরু হয় বিডিওএসএন আয়োজিত দুইদিনব্যাপী অ্যাডা লাভলেস সেলিব্রেশন। সেলিব্রেশনে আইটি সেক্টরের উদ্যোক্তা, এক্সপার্ট, নীতিনির্ধারক, চাকুরিজীবীরা তাদের জীবনের গল্প বলেন ও নানাদিক নির্দেশনা দেন শিক্ষার্থীদের।
অ্যাডা লাভলেস বিশ্বের প্রথম নারী প্রোগ্রামার ও বিখ্যাত ব্রিটিশ কবি লর্ড বায়রনের মেয়ে। তাকে স্মরণ করতে তার নামে এই সেলিব্রেশন করে থাকে বিডিওএসএন।









