ট্রান্সজেন্ডার কারা?

উদিসা ইসলাম
৩১ মার্চ ২০২১, ১১:০০আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২১, ১১:০০

হিজড়া একটি সংস্কৃতি। রূপান্তরিত নারী ও রূপান্তরিত পুরুষরা এই সংস্কৃতির মধ্যে থাকেন। তারা ট্রান্সজেন্ডার। সহজ এই বিভাজনটি নিয়ে এখনও সমাজে রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার পরিস্থিতির মধ্যে আজ পালিত হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সজেন্ডার ডে অফ ভিজিবিলিটি–বাংলা মানে করলে দাঁড়ায় আন্তর্জাতিক রূপান্তরকামী দৃশ্যমানতা দিবস।

নিজেদের সত্তা ও লিঙ্গ পরিচয় প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন যারা সেসব রূপান্তরকামী মানুষদের জীবনকে বুঝতে ও বোঝাতে ২০০৯ সাল থেকে এই দিনটি পালন হয়ে আসছে। ট্রান্সজেন্ডারকে একটি আমব্রেলা উল্লেখ করে বাংলাদেশে ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, হিজড়া হচ্ছে একটি সংস্কৃতি। এরমধ্যে ট্রান্সজেন্ডার নারী ও ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ অবস্থান করে। আমাদের দেশে বিষয়গুলো নিয়ে কম কথা হওয়ায় অস্পষ্টতা রয়েছে। তবে বিভিন্ন জায়গায় কাজের সুযোগ হওয়ায় সম্প্রতি পরিস্থিতি বদলেছে। কিন্তু সার্বিকভাবে পরিবর্তন এখনও আসেনি।

পরিবর্তন আনতে প্রতিবছর এই দিনে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেন ট্রান্সজেন্ডাররা। শুরুটা হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। রূপান্তরকামী আন্দোলনকর্মী রাচেল ক্র্যান্ডেল (Rachel Crandall)-এর উদ্যোগে শুরু হয় এই দিনটি উদযাপন, যা আজ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের নানা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

হো চি মিন ইসলাম

ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট হো চি মিন ইসলাম জানান, নিজেকে নারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে তাকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এ মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, হিজড়া হচ্ছে একটা কালচার। প্রথা বা পেশাও বলা যেতে পারে। ট্রান্সজেন্ডার সেই প্রথা কালচার না, এটা জেন্ডার আইডেন্টিটি, লিঙ্গীয় পরিচয়। অনেকে ছেলের শরীর নিয়ে জন্মে কিন্তু মনে মনে নারী সত্তায় অবস্থান করেন এবং একসময় তাদের শরীরটাকেও নারীর দিকেই নিয়ে যায়। একইভাবে নারীর শরীর নিয়ে জন্মে মনে মনে পুরুষের সত্তায় বেঁচে থাকতে নিজেকে পরিবর্তন করে পুরুষ হিসেবে। দৃশ্যমানতার কারণে আমাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে অনেক এগিয়েছে সমাজ, কিন্তু সেই পরিবর্তন সার্বিকভাবে হচ্ছে না। তিনি মনে করেন, পরিবর্তন আনতে হলে দুটো জিনিস করা দরকার। ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য লেখাপড়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। কেননা, এরকম বহু উদাহরণ আছে, শিক্ষাক্ষেত্রে বুলিংয়ের শিকার হয়ে তারা ঝরে পড়ে এবং কাজের জায়গায় যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাওয়া এবং কাজ চালিয়ে যাওয়া নিশ্চিত করতে হবে।

জয়া সিকদার

‘সম্পর্কের নয় সেতুর’ প্রেসিডেন্ট জয়া সিকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, লিঙ্গ রূপান্তরিত নারী ও পুরুষ এক ধরনের আর আন্তলিঙ্গীয় পরিচয় বিষয়টা সম্পূর্ণ আলাদা। এই দিবসের মধ্য দিয়ে সমাজের কাছে আমরা আমাদের উপস্থিতি তুলে ধরতে চাই। আমরা বার্তা দিতে চাই, আমরাও আছি, আমরা আপনাদেরই। কোন না কোন পরিবার থেকেই আমাদের জন্ম, তাহলে আমাদের আলাদা করে দেখা হবে কেন? তিনি মনে করেন, তাদের ট্রান্সজেন্ডার না বলে তৃতীয় লিঙ্গ বলার যে প্রবণতা সেটি বন্ধ করতে রাষ্ট্রকে উদ্যোগী হতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের পরিচয় নিয়ে এখনও যে দ্বিধান্বিত পরিস্থিতি দেখতে পাই, তার পরিবর্তন চাই।

/এমআর/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে আনন্দের বন্যা
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে আনন্দের বন্যা
ভাইভার আগের ১ ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ, কী করবেন এ সময়?
ভাইভার আগের ১ ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ, কী করবেন এ সময়?
সুইডেনে হ্রদের বুকে ভাসমান বাড়ি, প্রকৃতির মাঝেই রাতযাপন
সুইডেনে হ্রদের বুকে ভাসমান বাড়ি, প্রকৃতির মাঝেই রাতযাপন
অজ্ঞাত স্থান থেকে রায়হানের বার্তা, ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’, নতুনরা ভয়ংকর হয়ে উঠবে
অজ্ঞাত স্থান থেকে রায়হানের বার্তা, ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’, নতুনরা ভয়ংকর হয়ে উঠবে
সর্বাধিক পঠিত
অবশেষে সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপে অচলাবস্থার অবসান
অবশেষে সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপে অচলাবস্থার অবসান
বিএনপির বাইরেও  ১১ ভোট বেশি পেয়েছেন মির্জা ফখরুল
বিএনপির বাইরেও ১১ ভোট বেশি পেয়েছেন মির্জা ফখরুল
পাল্টা পদক্ষেপে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিলো ভারত
পাল্টা পদক্ষেপে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিলো ভারত
‘আপনিই আমার সব’: ট্রাম্পকে লেখা ব্যক্তিগত সহকারীর আবেগী চিঠিতে প্রেমের বিতর্ক
‘আপনিই আমার সব’: ট্রাম্পকে লেখা ব্যক্তিগত সহকারীর আবেগী চিঠিতে প্রেমের বিতর্ক
যে ৩ কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি রুমিন ফারহানা
যে ৩ কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি রুমিন ফারহানা