রাজধানীর শ্যামলী শিশুপল্লীর দেয়ালজুড়ে লাল, নীল আর সাদার খেলা। রঙ-বেরঙের গামছা ঝুলিয়ে রাখা। ছোট-বড় থেকে মাঝারি। পুরো দেয়াল এক অন্যরকম চেহারা পেয়েছে। এত রং কিন্তু তাতে তাতিদের পরিশ্রম লুকানো।
এই দেয়ালে ৭ জনের দোকান আছে। পাবনা আর সিরাজগঞ্জ থেকে আসে গামছা। আড়াইগজ থেকে পাঁচ গজের গামছাও মেলে এখানে। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় কিংবা গাড়ি থামিয়ে অনেকেই কেনেন প্রয়োজনীয় এই জিনিসটি। কথা হয় এক দোকানির সঙ্গে। তিনি বলেন, লকডাউন-নিষেধাজ্ঞা মিলিয়ে কতদিন বন্ধ ছিল দোকান। ফুটপাতে বসতে পারিনি। গত ১০ বছর ধরে সবাই জানে এ দেয়ালে গামছা পাওয়া যায়। শুরুতে একজন থাকলেও এখন ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেড়েছে। লকডাউনে আবার কমে গেছে। গামছার দামও বেড়েছে।
পাশের ক্ষুদে দোকানি জানান, মাদ্রাসা বন্ধ। বাবা এখন অন্য কাজে গিয়ে তাকে দোকানে বসিয়ে রাখে। লকডাউনে অনেক ক্ষতি হয়েছে। পরিবারের সবাই কাজ করে সেই ক্ষতি পূরণের চেষ্টা চলছে। গামছার দাম কমপক্ষে ১০ টাকা বেড়েছে উল্লেখ করে এই ক্ষুদে ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের খরচ বেড়েছে। আগে বাবা সরাসরি আনতো, এখন সেটা সবসময় সম্ভব হচ্ছে না।
দিনে কত আয় হয় প্রশ্নে এখানকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, দিনে চার হাজার টাকার বিক্রি হয়। মানুষের গামছা লাগেই। এখানে নানা ধরনের গামছা আছে। আজকাল অনেকে জামা ফতুয়া বানায়, সেই থান কাপড়ও এখানে পাওয়া যায়। আশেপাশের সবাই এখন জায়গাটিকে গামছা দেয়াল বলে।








