মগবাজারে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ মো. রাসেলের (২১) অবস্থায় আশঙ্কাজনক। তার চাচা মানারুল হক বলেন, ছেলেটার অবস্থা ভালো না, আপনারা তার জন্য দোয়া করবেন।
মানারুল হক বলেন, রাসেল ঠাকুরগাঁও কলেজে অনার্সে পড়াশোনা করে। ৩ ভাই বোনের মধ্যে সে সবার বড়। তার বাবা জসিম উদ্দিন গ্রামে কৃষি কাজ করেন। মা গৃহিণী। রাসেলের বাকি এক ভাই ও এক বোন পড়াশোনা করে। ছোট বোন হীরা দশম শ্রেণি ও ভাই হৃদয় তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। তার বাবা'র পক্ষে তাদের পড়াশোনা করাতে খুবই কষ্ট হয়। তাই ছেলে রাসেল গত ছয় মাস আগে ঢাকা এসে পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি নেয়। বেঙ্গল মিটে। এখানে যা বেতন পায়, তার খরচ রেখে বাকিটা বাসায় পাঠাতো। ভাগ্যের কী পরিহাস সে মগবাজারে বিস্ফোরণের ঘটনায় আগত রাসেল এখন হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। এখন ভয়ে ভয়ে প্রতিটা মুহূর্ত কাটে- ছেলেটি বাঁচবে তো?
রাসেলের চাচা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার বাবার তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। এখন তার কী হবে? রাসেলের যে অবস্থা তা আমরা তার বাবাকে এখনও জানাইনি। তিনি শুনলে হয়তো সহ্য করতে পারবেন না। এছাড়াও তার চিকিৎসার জন্য টাকা খরচ করার সামর্থ্যও নেই তার। এখানে যা লাগছে তা আমরাই করে যাচ্ছি।
চিকিৎসকরা জানান, রাসেলের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। তার চাচা সেখানে দিনরাত অপেক্ষা করছেন।
মানারুল হক বলেন, আমাদের বলা হয়েছে সে এখন কথা বলতেও পারছে না। এইচডিইউর ভিতর থেকে বেডের নাম ধরে ওয়ার্ডের বয়রা ডাকলেই চমকে উঠছি।
রাসেল একটু কথা বলতে পেরেছিল ঘটনার পরপরই। তিনি বলেন, রাসেল জানিয়েছে ঘটনার সময় সে তার কর্মস্থলে কাজ করছিল। হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে, কোনও কিছু বুঝার আগেই আগুন এসে তার গায়ে লাগে। তারপর আর কিছুই বলতে পারেনি।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শংকর পাল জানিয়েছেন, রাসেলের শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। তিনি বলেন, আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। তার জন্য যা যা প্রয়োজন আমরা সবই করে যাচ্ছি।









