আদালত বন্ধ থাকায় আইনজীবীদের করোনাকালের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন/ঐচ্ছিক ছুটি বাতিল ও পরবর্তী বছরগুলোতে ছুটি কমিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।
বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বরাবর এমন আবেদন জানিয়েছেন সমিতির সম্পাদক ব্যরিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আবেদনে বলা হয়েছে, আমরা সকলেই অবগত আছি যে, বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রভাবে সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের সকল আদালতের বিচারিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ৫ জুলাই থেকে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হয়ে আসছিল। দেশব্যাপী জারি করা লকডাউন শিথিল হওয়ার প্রেক্ষিতে গত ১১ আগষ্ট থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আদালত সমূহ পরিচালিত হচ্ছে। করোনাকালে দীর্ঘদিন সুপ্রিম কোর্ট বন্ধ থাকলেও সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বিশেষত আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম বন্ধ ছিল না। ফলে লকডাউনেও বিচারপ্রার্থী জনগণ হয়রানি ও অনেকাংশে প্রশাসনিক নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। কিন্তু দেশব্যাপী আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিচার প্রার্থীরা আইন-আদালতে আশ্রয় লাভের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ প্রেক্ষিতে সমিতির পক্ষ থেকে গত ৪ আগস্ট অতিসত্বর হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন চালুর জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
'পরবর্তিকালে গত ১৭ আগস্ট এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২২ আগস্ট থেকে হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন শুনানি হবে মর্মে সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। এজন্য সমিতির পক্ষ থেকে আপনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।'
এদিকে দীর্ঘদিন দেশব্যাপী আদালত বন্ধ থাকায়/সীমিত পরিসরে চালু থাকায় শুধুমাত্র ন্যায় বিচারই লঙ্ঘিত হয়নি, অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অত্র সমিতি মনে করে, ২০২১ সালের বাকী সময়ের ক্যালেন্ডারভুক্ত সকল অবকাশকালীন ঐচ্ছিক ছুটি বাতিল করে এবং পরবর্তী বছরগুলোর ছুটি কমিয়ে এনে এ ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।'
তাই উপরোক্ত অবস্থাধীনে করোনাকালের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দেশের সকল আদালতের জন্য প্রযোজ্য ২০২১ সালের বাকি সময়ের সকল অবকাশকালীন/ঐচ্ছিক ছুটি বাতিল ও পরবর্তী বছরগুলোতে ছুটি কমিয়ে আনতে আবেদনে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।









