মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছেন দেশের জন্য। কোনও বাড়তি সুবিধা তাদের দরকার নেই। তবে রাষ্ট্র যদি তাদের সম্মানিত করে সেটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্য। মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি চাকরির বয়স ৬৫ বছর করার বিষয়টি নাকচ করেছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে অন্যান্যদের মতো মুক্তিযোদ্ধাদেরও চাকরির বয়স ৬০ বছরই রইল। এ বিষয়ে কথা হলে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা জানান,তারা আলাদা বিশেষ কিছু দাবি করছেন না। তারা চান না,বিষয়টি নিয়ে কোনও বৈষম্যের সৃষ্টি হোক।
মুক্তিযোদ্ধা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশ গুপ্ত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘আগে বয়স ছিল ৫৯ বছর। এখন ৬০ বছর করা হয়েছে। আর না বাড়ানো আমি মনে করি ভালোই হয়েছে। কারণ, এতে করে পরে সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মচারিদের মধ্যে এক ধরনের বিভেদ ও বৈষম্য তৈরি হবে, যেটা মোটেই সুখকর নয়। তাই বয়স না বাড়ানোর পক্ষেই অবস্থান আমার।’
অপরদিকে,ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির সভাপতি ড.এম এ হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘প্রাপ্তির জন্য যুদ্ধ করিনি। আমি ২৫ মার্চ থেকে যুদ্ধ করেছি। মনে করি না,মুক্তিযোদ্ধারা আলাদা কোনও প্রাপ্তি যোগের জন্য যুদ্ধ করেছেন।’
তবে অনুযোগের সুরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন-এই দাবিতে নানান সুযোগ-সুবিধা তারা আদায় করেছেন, যার একট বড় অংশই হলো অমুক্তিযোদ্ধা। অর্থ্যাৎ যারা মুক্তিযোদ্ধা নন তারা মুক্তিযোদ্ধা সেজে সরকার থেকে সুবিধা নিয়েছেন। আমরা যদি বলি,মুক্তিযুদ্ধ করেছি দেশের জন্য তাহলে কথাটি মিন করতে হবে। বাড়তি কোনও সুযোগের দরকার নেই মুক্তিযোদ্ধাদের।’
অপরদিকে ফেরদৌসী প্রিয়ভাসিনী বলেন, ‘এই ক্ষু্দ্র দেশে আমাদের অনেক কিছুই দরকার।সব দেওয়া সম্ভব নয় সরকারের পক্ষে। সরকারকেও স্পেস দিতে হবে। তবে বয়সটা ৬৫ করা হলে এটাও তাদের এক ধরনের সুবিধা পাওয়া হতো রাষ্ট্র থেকে। তবে না করলেও সরকারকে চাপ দেওয়ার কিছু নেই,সব কথাই যদি সরকারের বিরুদ্ধে যায় তা হলে তো হবে না। এই ক্ষুদ্র দেশে আমাদের অনেক সুযোগ- সুবিধা দরকার, সব তো আর সম্ভব নয় দেওয়া,কিছু কিছু মেনে নিতে হয়। এতে সবারই মঙ্গল।’
উল্লেখ্য,২০১৩ সালে সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি চাকরির বয়স ৬০ বছর করে। এর আগে মুক্তিযোদ্ধাসহ সবার চাকরির বয়স ছিল ৫৭ বছর। ওই সময় শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির বয়স করা হয় ৫৯।
মন্ত্রিসভার বৈঠক সূত্রে আরও জানা গেছে,মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির বয়স নিয়ে আলোচনা শুরু হলে কেউ কেউ বলেন,এর আগে দুইবার তাদের বয়স বাড়ানো হয়েছে। আর না বাড়ানোই সমীচীন হবে। কারণ, তাদের বয়স বাড়ানো হলে অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের বদলি ও পদোন্নতিতে সমস্যা হবে।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেএ/এমএসএম








