গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উরফি বড়বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোজ কান্তি বিশ্বাসকে লাথি, মারধর ও সাময়িক বরখাস্তের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি মনোজ কান্তি বিশ্বাসের সাময়িক বরখাস্ত স্থগিতসহ শিক্ষকদের নানান জটিলতা নিরসনের দাবি জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-তে এই সংবাদ সম্মেলন করে তারা।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক মনোজ কান্তি বিশ্বাসকে দুই দফায় ঘুষি এবং অমানুষিক নির্যাতন করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তারা মারধর করেই ক্ষান্ত হননি, তড়িঘড়ি করে মনোজ কান্তি বিশ্বাসকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন তৈরি করে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন।’
তিনি জানান, ৩ অক্টোবর নবজাতক সন্তান হওয়ায় মনোজ কান্তি দাস সেদিন বিদ্যালয় ছুটির আগেই স্ত্রী ও সন্তানকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান। স্কুল ছুটির পর ৪টা ১২ মিনিটে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার গৌতম চন্দ্র রায় বিদ্যালয়ে আসেন। এসে তিনি মনোজ কান্তি বিশ্বাসকে ফোন করে ডেকে আনেন। মনোজ কান্তি বিশ্বাস বিদ্যালয়ে আসা মাত্রই গৌতম চন্দ্র রায় তাকে লাথি, কিল, ঘুষি মারতে থাকেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘৩ তারিখের পর ৫ অক্টোবর শিক্ষক দিবসে আবারও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের ভাগ না দেওয়ায় স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এবং তার লোকজন মনোজ কান্তিকে বেধড়ক মারধর করেছেন। শিক্ষক দিবসে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ওপর এমন হামলা ন্যক্কারজনক, হৃদয় বিদারক এবং চরম অমানবিক।’
সংবাদ সম্মেলন থেকে বক্তারা গোপালগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে প্রত্যাহার-সহ দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং প্রধান শিক্ষক মনোজ কান্তি বিশ্বাসের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান, সহসভাপতি আছমা খানম, বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা গবেষণা পরিষদের সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান সহ প্রমুখ।









