X
সোমবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস

শেষ স্মৃতিটুকু বারবার তাড়া করবে দুর্জয়ের বাবাকে

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১২:৩৪

‘পড়াশোনা শেষ করে পুলিশ অফিসার হতে চেয়েছিল মাইনুদ্দিন ইসলাম দুর্জয়। কিন্তু সোমবার (২৯ নভেম্বর) রাতে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় পিষ্ট হয়ে তার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেলো।’ ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বিলাপ করে কথাগুলো বলছিলেন দুর্জয়ের বাবা আব্দুর রহমান। কথা বলার সময় বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি।

বন্ধুর সাথে দেখা করতে গিয়ে ফিরে আসার পথে রাজধানীর রামপুরায় বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয় দুর্জয়। ছেলে হারানোর শোকে স্তব্ধ বাবা বলছিলেন, পড়াশোনা শেষ করে একজন বড় পুলিশ অফিসার হয়ে পরিবারের হাল ধরার ইচ্ছে ছিল দুর্জয়ের। রামপুরহাট একরামুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে সে। বাণিজ্য শাখা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় মাইনুদ্দিন। পড়াশোনার ফাঁকে রামপুরায় বাবার চায়ের দোকানে সহযোগিতা করতো সে। সোমবারও বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাবার চায়ের দোকানে ছিল মাইনুদ্দিন। রাত ৯টার দিকে রামপুরা বাজার এলাকায় এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে দোকান থেকে বেরিয়ে যায় সে।

বাবা আব্দুর রহমান শেষ মুহূর্তের স্মৃতি মনে করে বলছিলেন, ‘যাওয়ার সময় সে বলে যায়— বন্ধুর সঙ্গে দেখা করে চলে আসবো। বের হওয়ার আগে ১০টা টাকাও চেয়ে নেয় সে।’ এ কথপোকথনই যে ছেলের সঙ্গে শেষ স্মৃতি হয়ে রইলো; তা ভেবেই বারবারই মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। এই স্মৃতিই তাড়া করে ফিরবে তাকে।

কিছুক্ষণ পর আবার সম্বিত ফিরে দুর্জয়ের বাবা বলেন, ‘সাড়ে ১০টার পর খবর পাই আমার ছেলে মারা গেছে।’ রাতের বেলা কেন তাকে যেতে দিলেন; সে জন্য নিজেকে অপরাধী ভেবে আবারও কান্নায় ভেঙে পড়েন আব্দুর রহমান।

আব্দুর রহমান ভান্ডারীর গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তবে সংসারের টানাপোড়নে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করছেন তিনি। গেল ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে থাকছেন পূর্ব রামপুরা তিতাস রোডে। ফুটবল পাগল দুর্জয় ভালো একটি কলেজে ভর্তি হতে চেয়েছিল। বাবা আব্দুর রহিমও তাই চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল।

শেষ স্মৃতিটুকু বারবার তাড়া করবে দুর্জয়ের বাবাকে

গতকাল সোমবারই দুর্জয়ের জন্মদিন ছিল। ছেলের মৃত্যুর খবর কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মাইনুদ্দিনের মা রাবেয়া বেগমও। বিলাপ করছেন তিনিও। কাঁদতে কাঁদতেই তিনি বলেন, ‘জন্মদিনে আমার ছেলে এভাবে চলে যাবে, মানতে পারছি না।’

মাইনুদ্দিন দুর্জয়ের পরিবারের সদস্যরা বলেন, দুই ভাই এবং বাক প্রতিবন্ধী এক বোনের মধ্যে মাইনুদ্দিন ছিল সবার ছোট। মাইনুলের বড় ভাই বনশ্রীর এক ব্যক্তির গাড়ি চালক। ছোট হওয়ায় আদরটা ছিল তার বেশি। কিন্তু পরিবারের এবং বাবা-মার আদরকে দূরে ঠেলে এখন সে পরপারের বাসিন্দা হয়ে গেছে। 

তার ভাই কান্নাজিড়িত কণ্ঠে বলছিলেন, ‘শুধু বাসের বেপরোয়া গতির কারণে আজ আমার ভাইকে হারাতে হলো। হারানোর যন্ত্রণা যে হারায় সেই বোঝে, তা বলে বোঝানো যায় না। আমরা তো আর তাকে ফিরে পাবো না, এ ঘটনার জন্য যারা অপরাধী তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান তিনি।

শেষ স্মৃতিটুকু বারবার তাড়া করবে দুর্জয়ের বাবাকে

বাসের চাপায় নিহত এই কিশোরের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে। সে লিখেছিল, ‘ঠিক ততোটা আঁধারে হারিয়ে যাবো, যতটা আঁধারে হারালে কেউ সন্ধান পাবে না।’ সত্যি সত্যিই দুই বাসের গতির প্রতিযোগিতায় চাকায় পিষ্ট হয়ে নীরবেই হারিয়ে গেলো মাইনুদ্দিন ইসলাম দুর্জয়।

/ইউএস/
সম্পর্কিত
ঢাকা মেডিক্যালে বাড়ছে রোগীর চাপ
ঢাকা মেডিক্যালে বাড়ছে রোগীর চাপ
৩০ জানুয়ারি থেকে ফাজিল পরীক্ষা হচ্ছে না
৩০ জানুয়ারি থেকে ফাজিল পরীক্ষা হচ্ছে না
দৃশ্যমান স্থানে গণপরিবহনের ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন ও কার্যকরের নির্দেশ
দৃশ্যমান স্থানে গণপরিবহনের ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন ও কার্যকরের নির্দেশ
ক্রিকেটার নাসির ও তার স্ত্রীর অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশ ৯ ফেব্রুয়ারি
ক্রিকেটার নাসির ও তার স্ত্রীর অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশ ৯ ফেব্রুয়ারি
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
ঢাকা মেডিক্যালে বাড়ছে রোগীর চাপ
ঢাকা মেডিক্যালে বাড়ছে রোগীর চাপ
৩০ জানুয়ারি থেকে ফাজিল পরীক্ষা হচ্ছে না
৩০ জানুয়ারি থেকে ফাজিল পরীক্ষা হচ্ছে না
দৃশ্যমান স্থানে গণপরিবহনের ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন ও কার্যকরের নির্দেশ
দৃশ্যমান স্থানে গণপরিবহনের ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন ও কার্যকরের নির্দেশ
ক্রিকেটার নাসির ও তার স্ত্রীর অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশ ৯ ফেব্রুয়ারি
ক্রিকেটার নাসির ও তার স্ত্রীর অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশ ৯ ফেব্রুয়ারি
সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ৮৫ বার পেছালো
সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ৮৫ বার পেছালো
© 2022 Bangla Tribune