মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যেতে পাঁচ লাখ টাকার মতো খরচ হবে এবং তা ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব। তবে এর জন্য আগে দুই লাখ টাকা জমা দিতে হবে—এমন আশ্বাসে বিদেশগামীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল একটি চক্র। তাদের টার্গেট ছিল মূলত গার্মেন্টস কর্মী, গাড়িচালক ও গৃহকর্মীরা। চক্রটি প্রায় তিন শতাধিক মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সম্প্রতি রাজধানীর বারিধারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের মূল হোতা মোহাম্মদ সুজন শেখ (৩৯) ও আমিরুল ইসলাম রনিকে (৪৮) গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পায় র্যাব।
র্যাব বলছে, বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা না থাকলেও ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া যাবে, এমন প্রলোভনে ফেলতো বিদেশ গমনেচ্ছুদের। এর জন্য জনপ্রতি তারা এক থেকে দুই লাখ টাকাও নিতো। স্বল্পশিক্ষিতরাই ছিল এ চক্রের টার্গেট। তাদের দ্বিগুণ-তিনগুণ আয়ের আশ্বাস দেখিয়ে আকৃষ্ট করতো প্রতারকরা।
চক্রের মূল হোতা সুজন শেখ গত দু'বছর ধরে এ প্রতারণায় জড়িত বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারেন র্যাব কর্মকর্তারা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন শেখ জানায়, তাদের চক্রে আরও প্রায় ১৫ জন আছে যারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয়। তাদের অধীনে সাব-এজেন্টও আছে। সাবলেটে বিভিন্ন জায়গায় তারা অফিস ভাড়া নিতো। অফিসও বদলাতো ঘন ঘন।
প্রবাসী কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও বায়রার ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি কোম্পানিগুলোর নাম ব্যবহার করে চলছিল তাদের প্রতারণা। সেসব প্রতিষ্ঠানের ভিজিটিং কার্ড, স্ট্যাম্প ও কাগজপত্র নকল করে বিদেশগামীদের বিশ্বাস অর্জন করতো তারা। বলতো ১৫ দিনের মধ্যেই বিদেশ পাঠিয়ে দেবে। এরপর বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে বলতো ব্যাংক ঋণ পেতে সময় লাগছে। পরে ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইতে গেলে হুমকি-ধামকি দিতো। আর সুযোগ বুঝে বদলে ফেলতো অফিস।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সুজন শেখ মূলত গুলশান-বনানী, মালিবাগ ও কাকরাইলের বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সিতে দালালির কাজ করতো। ১৫ বছর ধরে সে এ কাজ করে আসছিল। এ ছাড়া তার সহযোগী আমিরুল ইসলাম ২০০১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করেও প্রতারণা চালাতো। দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকা নিয়ে সে বিদেশ গমনেচ্ছুদের নানা গল্প বলে আকৃষ্ট করতো।