চার বছর আগে রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বরের একটি গ্যারেজে মোটরসাইকেল মেকানিক হিসেবে কাজ শুরু করে মো. রাসেল। কিছুদিন কাজ করার পর ছেড়ে দেয় ওই পেশা। তারপরই নেমে পড়ে মোটরসাইকেল চুরিতে।
মেকানিক হওয়ার কারণে সে জানে কী করে দ্রুত মোটরসাইকেলের লক ভেঙে সেটা চালু করতে হয়। এক মিনিটেই লক খুলতে পারদর্শী রাসেল। রাজধানীর কাফরুল এলাকা থেকে পাঁচটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ তাকে বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানতে পারেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের কর্মকর্তারা।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর মুছে দিতো রাসেল। সে নিজে মেকানিক হওয়ায় বিষয়গুলো তার দখলে। বিভিন্ন জায়গায় ওঁত পেতে থাকতো। সুযোগ পেলেই লক ভেঙে মোটরসাইকেল নিয়ে পালাতো। বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন শপিং মলের সামনে থেকেও চুরি করেছে সে। প্রায় দুই বছর ধরে সে চুরি করে বেড়াচ্ছে। গত এক বছরে অন্তত ৩০টি মোটরসাইকেল চুরি করেছে বলে স্বীকার করেছে রাসেল। এছাড়া অন্যদের চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রিতেও সহায়তা করতো।
গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল আরও জানায়, এর আগেও গ্রেফতার হয়েছিল সে। তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলাও ছিল। সে নিজে মাদকাসক্ত। জেলও খেটেছে। জেল থেকে ছাড়া পেয়েই মোটরসাইকেল চুরিতে জড়ায়। চোরাই প্রতিটি মোটরসাইকেল বিক্রি করতো ২০-৩০ হাজার টাকায়।
ডিএমপি উত্তরা গোয়েন্দা বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাজধানীর কাফরুলের সেনপাড়ার একটি বাসার গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করি আমরা। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাসেলের সঙ্গে থাকা চোর চক্রের কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যায়। তবে রাসেলকে গ্রেফতার করে তার কাছ থেকে চক্র সম্পর্কে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। সে অনুযায়ী অভিযান চলছে।’
উত্তরা গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আছমা আরা জাহান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় গাড়ি চোর চক্রের বিষয়ে আমরা সবসময় সক্রিয়। যখনই তথ্য পাচ্ছি অভিযান চালাচ্ছি।’









