X
বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২
২২ আষাঢ় ১৪২৯

জলমহাল ইজারার অনলাইন আবেদন এখন জেলা-উপজেলায়

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২০:১৪

জলমহাল ইজারা পেতে অনলাইন আবেদন এখন জেলা ও উপজেলায়ও করা যাবে। এমন বিধান সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার

গত বৃহস্পতিবার (১০  ফেব্রুয়ারি) এ আদেশ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

আদেশে বলা হয়েছে, জেলা ও উপজেলা থেকে জলমহাল ইজারা পেতে সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি, ২০০৯ অনুযায়ী নিবন্ধিত ও প্রকৃত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি কর্তৃক অনলাইনে ইজারার আবেদন দাখিলের ব্যবস্থা প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভূমি সচিব মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জলমহাল ইজারার জন্য জেলা এবং উপজেলা থেকে সাধারণ আবেদন ক্যাটাগরিতে অনলাইনে আবেদন দাখিলের বিধান প্রবর্তন করা হয়। স্বচ্ছতার জন্য জেলা এবং উপজেলা থেকে সাধারণ আবেদন আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। এ জন্য জলমহালের ইজারা ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নির্ধারিত বর্ষপঞ্জিকার মধ্যে নিষ্পন্ন করার জন্য প্রজ্ঞাপনে কর্মপরিকল্পনা করে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, 'উন্নয়ন প্রকল্পে' ৬ বছরের জন্য ২০ একরের ঊর্ধ্বে সরকারি জলমহাল এবং বিশেষ ধরণের বিবিধ জলমহাল ইজারা আবেদন মন্ত্রণালয় পর্যায়ে ভূমিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে 'সরকারি জলমহাল ইজারা সংক্রান্ত কমিটি'র সভায় উপস্থাপন ও অনুমোদন হয়। 'সাধারণ আবেদনে' ৩ বছরের জন্য ২০ একরের ঊর্ধ্বে বদ্ধ সরকারি জলমহালের ইজারা আবেদন ‘জলজলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি’র সভায় উপস্থাপন ও অনুমোদন হয়। 'সাধারণ আবেদনে' ৩ বছরের জন্য ২০ একর পর্যন্ত বদ্ধ জলমহালের ইজারা আবেদন ‘উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি’র সভায় উপস্থাপন ও অনুমোদন হয়।

ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর জারিকরা এক পরিপত্রের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয় উন্নয়ন প্রকল্পে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে জলমহাল ইজারার আবেদন অনলাইনে দাখিলের সুবিধা চালু করে। land.gov.bd ভূমিসেবা কাঠামো থেকে অথবা সরাসরি jm.lams.gov.bd ওয়েব পোর্টালে গিয়ে জলমহাল ইজারার জন্য আবেদন দাখিল করা যাচ্ছে। এছাড়া, জলমহাল ইজারার আবেদন অনলাইনে দাখিল এবং ইজারা প্রক্রিয়ার বিস্তারিত উপর্যুক্ত ওয়েবপোর্টাল থেকেই জানা যাচ্ছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থাপিত ইজারা আবেদনের শতভাগই অনলাইনের মাধ্যমে দাখিল করা হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারির উপর্যুক্ত প্রজ্ঞাপনের ফলে এখন সাধারণ আবেদনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও অনলাইনে জলমহাল ইজারার আবেদন দাখিলের সুবিধা চালু হলো। এর মাধ্যমে মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যরা ইজারা প্রক্রিয়ার নানাবিধ জটিলতা এড়াতে পারবেন। এছাড়া এ সম্পর্কিত যাতায়াত কমে যাওয়ায় সমিতির সদস্য মৎস্যজীবীদের অনেক অর্থ সাশ্রয় হবে।

উল্লেখ্য, বিল, হাওর, বাওর, নিম্ন জলাভূমি ও নদ-নদীতে মৎস্য আহরণের এলাকাকে জলমহাল বলা হয়। এক হিসাব মতে, ছোটো-বড় মিলিয়ে  দেশের জলমহালের সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার। এসব ইজারা দিয়ে বছরে প্রায় শতকোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়। বেশ কয়েকটি জলমহাল ঐতিহ্যবাহী ও দর্শনীয় স্থান হিসেবে ইজারাবিহীন রাখা হয়েছে যেমন, দিনাজপুরের রামসাগর, সিরাজগঞ্জের হুরাসাগর। মাছ সংগ্রহের অভয়াশ্রম ঘোষিত জলমহালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সুনামগঞ্জের টাংগুয়ার হাওড়, মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওড় ইত্যাদি।

বছরের জন্য ২০ একরের ঊর্ধ্বে বদ্ধ সরকারি জলমহালের ইজারা অনুসূচি:

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বাংলা সন ১৪২৮ এর ১০ থেকে ১৫ ফাল্গুনের (আগামী ২৩ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে অনলাইনে আবেদন দাখিলের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অনলাইনে দাখিলকৃত আবেদনের প্রিন্টেড কপি ও জামানতের মূলকপি সিলগালা মুখবন্ধ খামে ১৬ ফাল্গুন (১লা মার্চ) থেকে পরের তিন কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে।  জেলা প্রশাসক ২৫ ফাল্গুনের (১০ মার্চ) মধ্যে অনলাইনে প্রাপ্ত আবেদনগুলো এবং দাখিল করা প্রিন্টেড কপি যাচাই-বাছাই করে ৩০ ফাল্গুনের (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ২৯ ফাল্গুন/১৪ মার্চ কিংবা ১ চৈত্র/১৫ মার্চ) মধ্যে ‘জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি’র সভায় উপস্থাপন ও অনুমোদনের ব্যবস্থা করবেন।

৫ চৈত্রের (১৯ মার্চ) মধ্যে ইজারা অনুমোদনের জন্য বিভাগীয় কমিশনার বরাবর প্রেরণ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক চূড়ান্ত অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে। ১০ চৈত্রের (২৪ মার্চ) মধ্যে জেলা প্রশাসক ইজারাদেশ প্রদান করবেন ও ইজারাগ্রহীতাকে অবহিত করবেন। ১৫ চৈত্রের (২৯ মার্চ) মধ্যে ইজারাগ্রহীতা নির্ধারিত কোডে ইজারামূল্য জমা প্রদান করবেন।

২৫ চৈত্রের (৮ এপ্রিল) মধ্যে ইজারাগ্রহীতার সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করে ১ বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) ইজারাগ্রহীতাকে সাধারণ আবেদনে ইজারা করা জলমহালের দখল বুঝিয়ে  দেওয়ার কথা বলা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

বছরের জন্য ২০ একর পর্যন্ত বদ্ধ জলমহালের ইজারা অনুসূচি:

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বাংলা সন ১৪২৮ এর ১০ থেকে ১৫ ফাল্গুনের (আগামী ২৩ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে অনলাইনে আবেদন দাখিলের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অনলাইনে দাখিল করা আবেদনের প্রিন্টেড কপি ও জামানতের মূলকপি সিলগালা মুখবন্ধ খামে ১৬ ফাল্গুন (১লা মার্চ) থেকে পরের তিন কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ২৫ ফাল্গুনের (১০ মার্চ) মধ্যে অনলাইনে প্রাপ্ত আবেদনগুলো এবং দাখিলকৃত প্রিন্টেড কপি যাচাই-বাছাই করে ৩০ ফাল্গুনের (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ২৯ ফাল্গুন/১৪ মার্চ কিংবা ১ চৈত্র/১৫ মার্চ) মধ্যে ‘উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি’র সভায় উপস্থাপন ও অনুমোদনের ব্যবস্থা করবেন।

৫ চৈত্রের (১৯ মার্চ) মধ্যে ইজারা অনুমোদনের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ এবং জেলা প্রশাসক কর্তৃক চূড়ান্ত অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে। ১০ চৈত্রের (২৪ মার্চ) মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইজারাদেশ প্রদান করবেন ও ইজারাগ্রহীতাকে অবহিত করবেন। ১৫ চৈত্রের (২৯ মার্চ) মধ্যে ইজারাগ্রহীতা নির্ধারিত কোডে ইজারামূল্য জমা প্রদান করবেন।

২৫ চৈত্রের (৮ এপ্রিল) মধ্যে ইজারাগ্রহীতার সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করে ১ বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) ইজারাগ্রহীতাকে সাধারণ আবেদনে ইজারাকৃত জলমহালের দখল বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

/এসআই/এমএস/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
বিশ্বকাপে নাম লিখিয়ে ইতিহাস গড়লো ইন্দোনেশিয়ার মেয়েরা
বিশ্বকাপে নাম লিখিয়ে ইতিহাস গড়লো ইন্দোনেশিয়ার মেয়েরা
রেল কর্মচারীকে কুপিয়ে হত্যা
রেল কর্মচারীকে কুপিয়ে হত্যা
আইনজীবীর ‘১২ কোটি টাকা ফিস নেওয়ার’ অভিযোগ তদন্ত চেয়ে রিট
আইনজীবীর ‘১২ কোটি টাকা ফিস নেওয়ার’ অভিযোগ তদন্ত চেয়ে রিট
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ
এ বিভাগের সর্বশেষ
উইসিস পুরস্কার পেলো ‘ডিজিটাল ভূমি কর ব্যবস্থা’
উইসিস পুরস্কার পেলো ‘ডিজিটাল ভূমি কর ব্যবস্থা’
২০২৫ সালে অটোমেশনে আসবে ভূমি ব্যবস্থাপনা
২০২৫ সালে অটোমেশনে আসবে ভূমি ব্যবস্থাপনা
ডিজিটাইজ হলো পাঁচ কোটি ১৩ লাখ খতিয়ান
ডিজিটাইজ হলো পাঁচ কোটি ১৩ লাখ খতিয়ান
‘দুর্নীতি কমাতে ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল নজরদারি করা হচ্ছে’
‘দুর্নীতি কমাতে ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল নজরদারি করা হচ্ছে’
এনআইডি দিয়ে সরাসরি জমির খাজনা দেওয়া যাবে
এনআইডি দিয়ে সরাসরি জমির খাজনা দেওয়া যাবে