গেলো ১৩ বছরে দেশে নিম্ন আয়ের মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রয়ক্ষমতাও বেড়েছে বলে জানিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘দেশে গত ১৩ বছরে মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে সাড়ে চারগুণ। আর এ সময়ে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে তিনগুণ, যা মধ্যম আয়ের মানুষের বেড়েছে কমপক্ষে দ্বিগুণ।
মঙ্গলবার (১ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নিজের ছাত্র জীবনের আন্দোলনের কথা তুলে ধরে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমি ছাত্র রাজনীতি করাকালে স্লোগান দিয়েছি শ্রমিকের মজুরি হতে হবে সাড়ে তিন কেজি চালের মূল্যের সমান। আজকে শ্রমিকের মজুরি কমপক্ষে ১২ কেজি চালের মূল্যের সমান। অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রয় ক্ষমতাও বেড়েছে।’
বিএনপি নেতাদের ‘না বলার রোগ রয়েছে’ মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের (সাংবাদিক) পেনশনের দাবি বহুদিনের, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বজনীন পেনশন চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন। এই পেনশনের আওতায় সবাই আসবেন। বিএনপির নেতারা সেটি নিয়েও সমালোচনা করছেন। আসলে সবকিছু নিয়ে সমালোচনার যে বাতিক সে বাতিক থেকে তারা বেরিয়ে আসতে পারছে না।’
বিএনপির সব ‘ভালো পরামর্শ’ গ্রহণ করা হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সম্পাদক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে ঘোষণা দিয়েছে সেখানে আপনাদের কোনও সাজেশন থাকলে বলুন। ভালো সাজেশন অবশ্যই গ্রহণ করা হবে। প্রত্যেকটি ভালো উদ্যোগের সমালোচনা কেন? না বলার যে রোগ পেয়ে বসেছে, সেই রোগ থেকে তাদের বের করা যাচ্ছে না। আমরা আশা করবো, এই না বলা রোগ থেকে তারা মুক্তি পাবে।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সমাজে যদি সমালোচনা না থাকে, যদি বিকল্প না থাকে তাহলে সমাজ তো এগিয়ে যাবে না। সেজন্য অবশ্যই সমালোচনা হবে, তবে সমালোচনার পাশাপাশি দেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে; সেই এগিয়ে যাওয়ার কথাও জনগণকে জানাতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সাংবাদিকদের কল্যাণে চেষ্টা করছি, সব কাজ যে করতে পারবো তা না। তবে আমার আন্তরিকতার কোনও অভাব নেই। কারণ, আপনাদের সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে চাই, আপনাদের সঙ্গে নিয়েই চলতে চাই। আমি সবসময় মন্ত্রী থাকবো না। তাই এমন কিছু কাজ করে যেতে চাই যেন আপনারা আমাকে স্মরণে রাখেন।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজে সভাপতি ওমর ফারুক, মহাসচিব দীপ আজাদ, ডিইউজে সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, সাজ্জাদ আলম খান তপু প্রমুখ।









