এরশাদ শিকদারের মেয়ে জান্নাতুল নওরিন এশার আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় অভিযুক্ত প্লাবন ঘোষ এখনও গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছে তার পরিবার। মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) বাংলা ট্রিবিউনকে এই ক্ষোভের কথা জানান মামলার বাদী এরশাদ শিকদারের দ্বিতীয় স্ত্রী সানজিদা নাহার।
২০০৪ সালের একটি হত্যা মামলায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় খুলনার একসময়ের কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারকে।
এরশাদ শিকদারের দ্বিতীয় স্ত্রী সানজিদা নাহার জানান, মামলা হওয়ার ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত আমার মেয়ের আত্মহত্যার প্ররোচনার ঘটনায় অভিযুক্ত প্লাবন ঘোষকে গ্রফতার করতে পারেনি পুলিশ। এতে আমি হতাশ। প্লাবন ঘোষের কারণেই আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এরশাদ শিকদারের মেয়ে জান্নাতুল নওরীন এশার আত্মহত্যার মামলায় অভিযুক্তকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা যায়নি। অভিযান চলছে। প্লাবন ঘোষ পলাতক রয়েছে।
গত ৪ মার্চ রাজধানীর গুলশান থানায় মেয়ে জান্নাতুল নওরীন এশার আত্মহত্যার ঘটনায় বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিকের ছেলে প্লাবন ঘোষকে অভিযুক্ত করে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন জান্নাতুলের মা সানজিদা নাহার।
মামলার এজাহারে সানজিদা নাহার উল্লেখ করেন, প্লাবন ঘোষের সঙ্গে আমার মেয়ের দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে ওই আসামি মুসলিম হয়ে আমার মেয়েকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। আমার মেয়ে এবং আসামি প্লাবন ঘোষ মাঝে মাঝে ঘুরতে যেত এবং আসামির বাড়িতে আমার মেয়েকে নিয়ে যেত। গত ৩ মার্চ রাতে প্লাবন ঘোষ আমার মেয়ে ও তার বান্ধবী সুমি আক্তারকে নিয়ে ঘুরতে যায়। সুমি আক্তারের মাধ্যমে জানা যায়, ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে তাদের দুই জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আমার মেয়েকে আসামি প্লাবন রাত ১১টার দিকে সুমি আক্তারের বাসায় নিয়ে যায়। সুমি আক্তার তাদের আপস করে দেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওই দিন রাত ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে আমার মেয়ে বাসায় ফিরে এসে বেড রুমে ঢুকে দরজার ছিটকিনি আটকে দেয়। আমি তখন ড্রইং রুমে ঘুমাচ্ছিলাম। ভোর ৫টা ২৪ মিনিটের দিকে সুমি আক্তারকে আসামির কাকু ফোন করে বলে, তুমি দ্রুত এশার বাসায় যাও। এশা প্লাবনের সঙ্গে পাগলামি করছে, আত্মহত্যা করার চেষ্টা করছে। ভোর ৫টা ২৯ মিনিটে আসামি প্লাবন ঘোষ আমার নম্বরে ফোন করে বলে, আপনার মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করছে। আমি তার ফোন পেয়ে দ্রুত রুমের দরজা খোলার চেষ্টা করলে, তার রুম ভেতর থেকে লক করা পাই। বাসার সিকিউরিটি গার্ড মেজবাহ, আলামিন ও সুমি আক্তারের সহায়তায় রুমের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দেখি, আমার মেয়ে গলায় উড়না পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে।
এজাহারে এশার মা আরও জানান, আমি পরে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারি, ছেলে মেয়ে হিন্দু মুসলিম হওয়ায় বিয়ের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য আসামি আমার মেয়েকে প্ররোচনা করে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে।









