প্রকাশিত কলামের প্রতিবাদ

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
১৭ এপ্রিল ২০২২, ০১:০৭আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২২, ০১:০৭

গত ১৫ এপ্রিল ‘বাংলা ট্রিবিউন প্রদত্ত সম্মাননা বনাম লন্ডন ষড়যন্ত্র’ শিরোনামে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিকের লেখা একটি কলামের প্রতিবাদ করেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী ইউকে বাংলা প্রেসক্লাবের প্রেসিডেন্ট কে এম আবুতাহের চৌধুরী। ওই কলামে তার সম্পর্কে মিথ্যাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রতিবাদলিপিতে আবুতাহের চৌধুরী লিখেছেন, ‘আমি গত ৪৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা ও সমাজ সেবায় জড়িত। আমি বর্তমানে ইউকে বাংলা প্রেস ক্লাব ও বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইউকের প্রসিডেন্ট।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি লন্ডন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলা পোস্টের প্রধান সম্পাদক, সাপ্তাহিক ইউরো বাংলার প্রধান সম্পাদক ও লন্ডন বাংলার সম্পাদক ছিলাম। এখনও সাংবাদিকতায় জড়িত আছি।’

‘পেশাগত কারণে সাপ্তাহিক সুরমা, সাপ্তাহিক জনমত ও মাসিক দাওয়াত পত্রিকায় কাজ করেছি। এখনও সাংবাদিকতায় জড়িত আছি। আমি বাংলা টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইন টিভির নিয়মিত উপস্থাপক। এছাড়া যুক্তরাজ্য ভিত্তিক বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছি। পেশাগতভাবে আমি একজন শিক্ষক ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারও। পাশাপাশি ব্রিটেনের কমিউনিটির সেবা ও দাতব্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে মানহানি করেছেন। তিনি আমার নাম বিকৃত করে জামায়াত নেতা আবুতাহের সিঙ্কাপনী বলেছেন। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।’

তিনি লেখেন, ‘আমি  ব্রিটেনে বাংলাদেশি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। জামায়াতে ইসলামীর সদস্য বা নেতা নই। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমি কাশিনাথ আলাউদ্দিন হাই স্কুল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম।’

‘১৯৭১ সালের ৩ মার্চ মৌলভীবাজার চৌমুহনা চত্বরে পাকিস্তানের পতাকা পোড়ানোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উল্লাস করেছি এবং জিন্নাহ মিয়ার পাকিস্তান-আজিমপুরের গোরস্থান স্লোগান দিয়েছি। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেছি ও বঙ্গবন্ধুর নির্বাচনি সভার প্রচার অভিযান চালিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ সকালে ৫ হাজার লোক নিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের প্রতিরোধ করেছি। ওই মিছিলের অন্যতম নেতা ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতা ও যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সাবেক হাইকমিশনার গিয়াস উদ্দিন মনির। ১৯৭৩ সালে আমি মুজিববাদী ছাত্রলীগ থেকে মৌলভীবাজার কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাহিত্য সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি।’

প্রতিবাদে আবুতাহের চৌধুরী বলেন, ‘ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশিজ- প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম। গত দুই বছর ধরে সংগঠনটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে। আমি এই সংগঠনের সহ-সভাপতি নই। আমার পদ মিডিয়া ডাইরেক্টর। এ সংগঠনের সভাপতি ও সহ-সভাপতি হচ্ছেন শিক্ষাবিদ ও কমিউনিটি নেতা ড. হাসনাত এম হোসেন ও ড. ওয়ালী তছর উদ্দিন।’

‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পর সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে মাত্র ১২ জনকে প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তার মধ্যে ব্যারিস্টার শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক অন্যতম। এ তালিকায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি ও সেক্রেটারির নামও ছিল না। এত কম সংখ্যক স্বীকৃতি ও সঠিক লোককে মূল্যায়ন না করায় প্রবাসে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদ হয়’ উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিবাদে তিনি আরও বলেন, ‘ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশিজের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন গবেষণা করে প্রাথমিক পর্যায়ে ১০০ জন মুক্তিযুদ্ধ সংগঠকের তালিকা করা হয়। তার মধ্যে প্রায় অর্ধেক সংগঠকই বেঁচে নেই। গত ২৯ মার্চ হাউস অব কমন্সের প্যাভেলিয়ন-টেরেসে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিলেত প্রবাসী মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের স্বীকৃতি ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।’

‘এ অনুষ্ঠানে আর্থিক সহযোগিতা করেন ব্রিটেনের বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও কমিউনিটি নেতারা। মুসলিম এইড, ইসলামিক রিলিফসহ কোনও সংগঠনের সম্পৃক্ততা এতে নেই। জামায়াত, বিএনপি বা কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততাও নেই।’

‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক হিসেবে অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের জন্য অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া হয়। তিনি অসুস্থ শরীর নিয়ে সপরিবারে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।’

আবুতাহের চৌধুরীর আরও বলেন, ‘লন্ডনে গণস্বাস্থ্যমূলক কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত মাচ হেলথ অ্যাওয়ারনেস সেন্টার নামে আমাদের একটি সংস্থা রয়েছে। আমি এ সংগঠনের চেয়ারম্যান।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে সহযোগিতা প্রদান করা হয়। আমরা আমাদের লন্ডনস্থ সংগঠনের পক্ষ থেকে গত ৩১ মার্চ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে লন্ডন এন্টারপ্রাইজ অ্যাকাডেমি হলে সংবর্ধনা দিই। ওই অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ও কমিউনিটি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’

‘লন্ডন এন্টারপ্রাইজ অ্যাকাডেমি একটি স্বনামধন্য সেকেন্ডারি স্কুল। তারা মাঝে মাঝে হল ভাড়া দেয়। এটা জামায়াতিদের আখড়া কীভাবে হলো জানি না।’

প্রতিবাদের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘জনাব শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিককে মিথ্যাচারের জন্য ক্ষমা চাওয়া ও তার ভিত্তিহীন বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি।’

 

/আইএ/এফএ/
সম্পর্কিত
ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের গুলি, জামায়াতের নিন্দা
আবারও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে জামায়াতের প্রতিবাদ
ঢাবিকে ‘কোচিং সেন্টার’ বলায় ক্ষুব্ধ সাদা দল, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম