X
বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২
১২ আশ্বিন ১৪২৯

মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের মূল কারিগর গ্রেফতার

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৮ আগস্ট ২০২২, ১৯:১৭আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২২, ১৯:১৭

রাজধানীর গুলিস্তান এলাকার একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের মূল কারিগরকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৩। এসময় চক্রের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মোবাইল উদ্ধার ও আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করার যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (৮ আগস্ট) বিকালে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।

সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় অভিযান করে নকল মোবাইল তৈরির মূল কারিগর স্বপনকে (২৬) গ্রেফতার করে র‌্যাব-৩। তার গ্রামের বাড়ি জামালপুরের বকশিগঞ্জ। স্বপনের কাছ থেকে  মোবাইল ১৪৯৫টি, মোবাইলের নকল ব্যাটারি ৩৩৭০টি, হেডফোন ১২০টি, চার্জার ক্যাবল ৩৮৫টি, নকল মোবাইলের চার্জার ১১৫৫টি, সেলার মেশিন একটি, হিট গান মেশিন একটি, এলসিডি মনিটর ৪৩টি, ইলেকট্রিক সেনসর ১০টি, আইএমইআইআই কাটার মেশিন ১৩টি এবং বিপুল পরিমাণ ভূয়া আইএমইআইআই স্টিকার ও ভুয়া বারকোড উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারের পর স্বপন র‌্যাবকে জানায়, দুই বছর আগে তিনি ঢাকায় কাজের সন্ধানে এসে প্রথমে মতিঝিলে একটি অফিসে পিয়নের চাকরি নেন। অফিসে এক স্টাফের মোবাইল মেরামত করতে গিয়ে মোবাইল সার্ভিসিংয়ের এক কারিগরের সঙ্গে তার পরিচয়। তার মাধ্যমে তিনি জানতে পারে ব্যবসাটি লাভজনক। তখন তিনি বিনা বেতনে ওই কারিগরের কাছে কাজ শিখতে শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি মোবাইল সার্ভিসিংয়ে দক্ষতা অর্জন করেন। ইউটিউব থেকে প্রযুক্তিগত বিভিন্ন বিষয়ের ওপর জ্ঞান অর্জন করেন। এক পর্যায়ে তিনি নিজেই অভিনব পদ্ধতিতে মোবাইল তৈরি এবং আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের কাজ শুরু করেন। তিনি প্রতিদিন ৫০টি মোবাইল তৈরি করতে পারতেন। ওই কারখানায় আরও কারিগর ছিল। তারাও তাকে সহযোগিতা করতো।

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে খুচরা বিক্রেতারা ওই কারখানা থেকে নকল মোবাইল কিনতেন। এসব মোবাইল তৈরিতে ৫শ থেকে ৮শ টাকা খরচ হতো।  কিন্তু এসব মোবাইল তারা ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করতেন। মোবাইলের বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশ সংযুক্ত করে তৈরি করা এসব মোবাইলের গায়ে সিলার ও হিটার মেশিনের সহায়তায় মেড ইন চায়না, মেড ইন ভিয়েতনাম, মেড ইন ফিনল্যান্ডসহ বাহারি নাম লিখে আসল মোবাইলের মতো প্যাকেটিং করা হতো।

মোবাইলগুলোতে সিম ঢোকালে ‘বিটিআরসির ডাটাবেজে হ্যান্ডসেটটি নিবন্ধিত নয়’- মেসেজ আসতো।  মোবাইল বিক্রির পর অধিকাংশ মোবাইলেই কোনও না কোনও সমস্যার কারণে গ্রাহকরা অভিযোগ করতো।  অভিযোগের প্রেক্ষিতে গ্রাহকের কাছ থেকে মোবাইলগুলো সার্ভিসিংয়ের নাম করে কারখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হতো। কিছুদিন পর মেরামত করে গ্রাহককে ফেরত দেওয়া হতো। গ্রাহক দোকানে অবস্থানকালে বুঝতে পারতেন তার মোবাইল ঠিক আছে। কিন্তু দোকান থেকে বের হওয়ার পরেই মোবাইলে সমস্যা দেখা দিতো। তখন গ্রাহক আবার অভিযোগ করলে তারা গ্রাহকের অভিযোগ করা মোবাইলটি ফেরত রেখে মোবাইল পুনরায় মেরামত করার প্রতিশ্রুতি দিতো। এভাবে গ্রাহক হয়রানি হতে হতে মোবাইল মেরামতের আশা ছেড়ে দিয়ে নষ্ট মোবাইলটি আর ফেরত নিতে আসতেন না। তখন ওই মোবাইল পুনরায় মেরামত করে নতুন গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে দিতেন।

এ চক্রটি এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দশ হাজরেরও বেশি মোবাইল বিক্রি করেছে। এসব নকল মোবাইল বিক্রি করে ওই চক্র প্রচুর টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

/এআরআর/এমআর/
সম্পর্কিত
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
তিউনিসিয়ার জালে ৫ গোল, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারলো ব্রাজিল
তিউনিসিয়ার জালে ৫ গোল, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারলো ব্রাজিল
চিকিৎসকের মায়ের কাছে ট্রলি ফি দাবি, একসঙ্গে ১৬ কর্মচারীকে বদলি
চিকিৎসকের মায়ের কাছে ট্রলি ফি দাবি, একসঙ্গে ১৬ কর্মচারীকে বদলি
সৌদির প্রধানমন্ত্রী যুবরাজ সালমান
সৌদির প্রধানমন্ত্রী যুবরাজ সালমান
আলীকদমের নতুন ইউএনও অর‌বিন্দ বিশ্বাস
আলীকদমের নতুন ইউএনও অর‌বিন্দ বিশ্বাস
এ বিভাগের সর্বশেষ
কর্মশালা আয়োজন করে উপস্থিত নেই ট্যুরিজম বোর্ডের কেউ
কর্মশালা আয়োজন করে উপস্থিত নেই ট্যুরিজম বোর্ডের কেউ
ই-কোয়ালিটি ডাটার ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিশ্বনেতাদের আহ্বান
ই-কোয়ালিটি ডাটার ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিশ্বনেতাদের আহ্বান
ঢামেকের ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে রোগী গুরুতর আহত
ঢামেকের ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে রোগী গুরুতর আহত
ভ্রাম্যমাণ আদালতের দিকে ইট ছোড়ায় হকারের কারাদণ্ড
ভ্রাম্যমাণ আদালতের দিকে ইট ছোড়ায় হকারের কারাদণ্ড
বাবুল আক্তার ও ইলিয়াস হোসাইনের বিরুদ্ধে পিবিআই প্রধানের মামলা
বাবুল আক্তার ও ইলিয়াস হোসাইনের বিরুদ্ধে পিবিআই প্রধানের মামলা