পোশাক ইস্যুতে উচ্চ আদালতকে ধন্যবাদদাতারা কারা?

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
৩০ আগস্ট ২০২২, ০৮:০০আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২২, ১২:২৬

২৫ আগস্ট দুপুর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে আয়োজন করা হয় এক মানববন্ধন কর্মসূচি। সেখানে নরসিংদী রেলস্টেশনে পোশাকের কারণে তরুণীকে হেনস্তা প্রসঙ্গে উচ্চ আদালতের বক্তব্যকে অভিবাদন জানানো হয়। এরপর একে একে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে একাধিক পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতেগোনা কয়েকজনকে মানববন্ধনের মাধ্যমে পোশাক বিষয়ে উচ্চ আদালতের বক্তব্যকে অভিনন্দন জানাতে দেখা যায়।

‘পোশাকের স্বাধীনতার’ বিরুদ্ধে ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এদের কেউই প্রশাসনকে জানিয়ে এ মানববন্ধন করেননি। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন তাদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে অনুসন্ধানের কাজ শুরু করেছে বলেও জানিয়েছে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, যা ঘটছে তা সাদা চোখে দেখার সময় নেই। কী এমন রসায়ন তৈরি হলো যে, এই ইস্যুতে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনসহ তাবলিগ-জামাত সমর্থকরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে গেলো?

বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধির দেওয়া তথ্য বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানববন্ধনটির সমন্বয়ক ছিলেন ক্রিমিনোলজি বিভাগের এক শিক্ষার্থী। তিনি প্রকাশ্যে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তরুণদের ইস্যু নিয়ে পত্রিকায় লেখালেখি করেন। তবে তার সঙ্গে থাকা আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী জাবির বঙ্গবন্ধু হলে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেন।

একই বিভাগের ইমরান করেন সূর্যসেন হলের ছাত্রলীগের রাজনীতি। তাদের সঙ্গে একই বিভাগের দুজন নারী শিক্ষার্থী ছিলেন, যাদের রাজনৈতিক পরিচয় জানা যায়নি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ১০ জনের মধ্যে পাঁচ জনের পরিচয় জানা গেছে। ৪৮তম ব্যাচের তিন শিক্ষার্থী ছিলেন, যাদের রাজনৈতিক পরিচয় নেই। বাকি দুজন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী। তারা বিভাগের ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দেখে মানববন্ধনে গিয়েছিলেন। উভয়েই তাবলিগ জামাতের সমর্থক। এ দুজনের ডাকে আরও চার জন গিয়েছিলেন মানববন্ধনে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও ১০ শিক্ষার্থী ছিলেন মানববন্ধনে। তিন জনের জামায়াত এবং তাবলীগের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কেউ কেউ অভিযোগ করলেও বাকি সাত জন সাধারণ শিক্ষার্থী।

এদিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন ১৩ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ধর্মতত্ত্ব অনুষদের আল হাদিস বিভাগের তিন জন, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের পাঁচ জন, বায়োমেডিক্যাল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তিন জন। বাকি দুই জন দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী। বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, এর মধ্যে দুজন ছাত্রলীগের সমর্থকও রয়েছেন। বাকিরা সাধারণ শিক্ষার্থী।

মানববন্ধন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানী জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কখনোই এই ধরনের প্রোগ্রামের জন্য অনুমতি দেয় না।

কর্মসূচি করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের অনুমতি নেওয়ার দরকার আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

আইন অমান্য করায় তাদের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী মেধাবী। তাদের কাছ থেকে কখনোই এ ধরনের উগ্র কথাবার্তা কাম্য নয়। এই ধরনের কথাবার্তা আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির অংশ নয়। আমাদের ক্যাম্পাস মুক্তবুদ্ধি চর্চার ক্যাম্পাস। তাদের সতর্ক করা হবে এবং এই ধরনের উগ্র কথাবার্তা থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেওয়া হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘ওইসব শিক্ষার্থী মানববন্ধন করার বিষয়ে আমাদের কিছুই জানায়নি। কর্মসূচি শুরুর পর বিষয়টি দেখেছি। তাদের নাম-পরিচয় যাচাই করছি আমরা। মূলত তারা আমাদের ছাত্র কিনা তা আগে দেখা হবে। প্রয়োজনে ডেকে সতর্ক করা হবে।’

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক নূর খান লিটন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় প্রগতির পক্ষে ছিল। তারা এই ইস্যুতে যে বক্তব্য দিয়েছে, যেভাবে দিয়েছে, নেপথ্যে কোনও একটা গোষ্ঠী কাজ করেছে বলে আমার মনে হয়েছে। ঢাবির আজকের যে প্রেক্ষাপট, সেখানে এরকম কর্মসূচি পালন করাটা অবিশ্বাস্য। নারীর পোশাক নিয়ে সমাজে কথা উঠছে, পোশাকের জন্য হেনস্তা করছে; এই যে বর্বরতা, সেটার পক্ষে তাদের দাঁড়িয়ে যাওয়া বিস্ময়ের। উচ্চ আদালতের মন্তব্য এবং সেটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস দেখে খোঁজ নিয়ে জানা গেলো সরকারে ছাত্র সংগঠন, ছাত্রশিবির, তাবলীগের সমর্থক ও তাদের বন্ধুবান্ধব মিলে কাজটি করেছে। প্রশ্ন হলো, এমন কি রসায়ন ঘটলো যে, এই কর্মসূচিতে সব সংগঠনের কর্মী সমর্থকদের উপস্থিতি দেখা গেলো?

/ইউআই/এফএ/
সম্পর্কিত
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
রামিসা হত্যা: সর্বোচ্চ সাজা চায় রাষ্ট্রপক্ষ, লঘুদণ্ডের দাবি আসামিপক্ষের
সর্বশেষ খবর
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি