রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়কে আবু বকর সিদ্দিক হাবু (৩৭) নামে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূলহোতা যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান ফাহিম এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ফুটপাতে বিদ্যুৎ সংযোগের ভাড়া তোলা নিয়ে ফাহিমের সঙ্গে হাবুর বিরোধ ছিল। এর সূত্র ধরেই হাবুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মামুন মাতবর জানান, বিদ্যুৎ সংযোগের ভাড়ার টাকা নিয়ে ফাহিম ও শামীম গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলছিল দীর্ঘদিন। এরই জেরে হাবুকে খুন করা হয়। এ ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিন জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয়রা জানান, যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়কের ফুটপাতের ৪০টি দোকানে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে প্রতি দোকান থেকে দিনে ৪০ টাকা তুলতেন ফাহিম। দিনে ১২-১৪শ টাকা উঠতো। সেখান থেকে ৫০০ টাকা করে দিতে হতো স্থানীয় প্রভাবশালী শামীমকে।
পরে শামীম ৮০০ টাকা করে দাবি করলে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। ঘটনার দিন শামীমের হয়ে হাবু ওই টাকা তোলা শুরু করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ফাহিম তার সহযোগীদের নিয়ে হাবুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, হাবু হত্যার নেপথ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াও চাঁদাবাজি ও ডিশ-ইন্টারনেট ব্যবসার দ্বন্দ্বের তথ্য খুঁজে পেয়েছেন তারা। শহীদ ফারুক সড়ক এলাকায় অনেকের নামেই মিটার আছে। একটি মিটারে তিন-চারশ দোকানঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ফাহিম যাত্রাবাড়ী থানা যুবদলের নেতা। তার ভাই শাহীন যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মাজহারুল ইসলামের সোর্স।
ফাহিমের ভায়রার নামে একটি মিটার ছিল। সেই মিটারে ৩শ ঘরের লাইন দেওয়ার কথা থাকলেও তার ভাগে পড়ে মাত্র ৪০ ঘরের ভাড়া। সেই টাকা থেকে শামীমকে দিতে হতো দিনে ৫০০ টাকা করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, খুনের ঘটনায় জড়িত গ্রেফতার চার জন হচ্ছেন— ফালান ওরফে কানা ফালান, সেলিম মোহাম্মদ, সুজন ও আল-আমিন। সুজন ছাড়া বাকিরা খুনের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ নেতা আবু বকর সিদ্দিক ওরফে হাবুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। হাবু যাত্রাবাড়ী ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের ১৪ নম্বর ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার আসামিরা হলেন— মুশফিকুর রহমান ফাহিম (৪৩), মো. শাকিল (৩৫), মজে ওরফে মজো (৪০), মো. কবির (৩৮), মো. সামু (৪৭), ফালান ওরফে কানা ফালান (৩৫), সেলিম মোহাম্মদ (৩৫), মো. পারভেজ (২৮), বাবু ওরফে দাড়িওয়ালা বাবু (৪৭), মো. আল-আমিন (৩৬), সুজন আকন (৩২)। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আসামি আছে আরও ৪ জন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, যাত্রাবাড়ীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, ডিশ-ইন্টারনেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের একাধিক গ্রুপের সঙ্গেও দ্বন্দ্ব রয়েছে। প্রায়ই সংঘর্ষ ঘটছে। গোয়েন্দা পুলিশ এসব বিষয়ে নজরদারির পাশাপাশি চাঁদাবাজদের তালিকাও তৈরি করছে।









