বিএনপি-জামায়াতকে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি আখ্যা দিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক নিবন্ধন বাতিল করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।
রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে হাজার হাজার মানুষকে খুন, গুম, ধর্ষণ, বোমা হামলা ও নির্যাতনের বিচার চেয়ে প্রতিবাদী সমাবেশ ‘মায়ের কান্না’ ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী শেষে এ দাবি জানানো হয়। সমাবেশটির আয়োজন করে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।
এছাড়াও সমাবেশ থেকে জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার ও এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার করার দাবিও জানান বক্তারা।
তথ্যচিত্রে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ১৯৭৫ এর আত্মস্বীকৃত খুনিদের নিয়ে জাতীয় সংসদে নিয়ে আসা নিয়ে তৎকালীন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ দেখানো হয়েছে। এছাড়াও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ের বিভিন্ন নৈরাজ্যের চিত্র তুলে ধরা হয়।
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন মজুমদার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল আমিন মজুমদার বলেন, খন্দকার মুশতাক ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে সেই অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করলেন। মানুষ হত্যা করে তার বিচার করা যাবে না, সংসদে এই পদ্ধতি এনেছেন জিয়াউর রহমান। খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছেন। তার সেই দল বিএনপি আজ গুম-হত্যার কথা বলে।
তিনি আরও বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অবমাননা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিকারী সন্ত্রাসী দল বিএনপিকে দ্রুত নিষিদ্ধসহ ২০১৪ ও ২০১৮ সালের আগুন সন্ত্রাসীদের বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চকে সাথে নিয়ে কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করবে।
সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সারাদেশে একযোগে বোমা হামলা, অগ্নিসন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, খুন, ধর্ষণ ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার করতে হবে। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা সামরিক কর্মকর্তা ও সৈনিক হত্যার অপরাধে জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার করতে হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘন করে আন্দোলনের নামে সমগ্র দেশে আগুন দিয়ে হাজার হাজার মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, খুন, ধর্ষণ ও নির্যাতনের অপরাধে বিএনপির রাজনীতি স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধসহ রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। জঙ্গিবাদ, অগ্নি সন্ত্রাস, দুর্নীতি, ধর্ষণ ও বোমা হামলার মদতদাতা বিদেশে পলাতক আসামি তারেক রহমানকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করতে হবে।









