চার বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয় রানা হাওলাদারের। তখন চিকিৎসকরা তার বাম হাতের কনুইয়ের নিচের অংশ কেটে ফেলে দেন। সেই থেকে শরীরের অক্ষমতাকে পুঁজি করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে আসছে সে। এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) পশ্চিম রামপুরা থেকে ইয়াবাসহ রানাকে গ্রেফতার করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ।
বুধবার (২৬ অক্টোবর) সকালে সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানান ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক। রাজধানীর শ্যামলীতে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
উপ-পুলিশ কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক বলেন, ‘গ্রেফতার রানা হাওলাদার পেশায় অটোরিকশা চালক। তবে তার মূল পেশা ইয়াবা ব্যবসা। অটোরিকশা চালিয়ে সে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে যাত্রী আনা-নেওয়ার পাশাপাশি ইয়াবা ডেলিভারির কাজ করতো। বাম হাতে প্লাস্টিকের কৃত্রিম হাত লাগানো দেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কখনও তাকে সন্দেহ করতো না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রানা নিবিঘ্নে মাদক কারবার করে আসছিল।’
তিনি বলেন, ‘রানা হাওলাদার বেশ কিছুদিন ধরে মিরপুরে বসবাস করছে। প্রথম স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে চলে যাওয়ার পরে গত সপ্তাহে সে দ্বিতীয় বিয়ে করে। মঙ্গলবার মিরপুর থেকে নতুন বউকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিল রানা। পরে রামপুরা এলাকায় এসে বউকে বসতে বলে। এরপর ইয়াবা ডেলিভারি দিতে গিয়ে হাতিরঝিল থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় সে।
গ্রেফতার রানা হাওলাদারের বাড়ি শরীয়তপুরে। গত ৭-৮ বছর ধরে সে মাদক ব্যবসায় জড়িত বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। কিন্তু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর গত চার বছর ধরে বাম লাগানো প্লাস্টিকের কৃত্রিম হাতকেই ইয়াবা বহনের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতো রানা।
এইচ এম আজিমুল হক বলেন, ‘গ্রেফতার রানা হাওলাদারের বাম হাতের কনুইয়ের নিচে লাগানো প্লাস্টিকের কৃত্রিম হাতের ভেতরে নীল রঙয়ের ছোট ব্যাগে ইয়াবা পাওয়া গেছে। তার কাছ থেকে পুলিশ ১৫৫ পিস সাদা রংয়ের ইয়াবা জব্দ করেছে।’
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত রানা হাওলাদারের বিরুদ্ধে শরীয়তপুরের সখিপুর থানায় দুটি মাদক মামলাসহ তিনটি মামলা রয়েছে। আর এ ঘটনায় আরও একটি মাদক মামলা হয়েছে। তাকে আদালতে তুলে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। রিমান্ড পেলে কার কাছে মাদক সরবরাহ করতো, কোথা থেকে সংগ্রহ করতো, এ বিষয়ে জানা যাবে বলে জানান ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক।









