বাজেট জটিলতায় আটকে আছে শাহবাগ শিশুপার্কের সংস্কার কাজ

জুবায়ের আহমেদ
০২ মার্চ ২০২৩, ১০:০০আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৩, ১০:০০

২০১৯ সালে ঢাকার শাহবাগ শিশু পার্কটি নতুন করে সংস্কারের উদ্যোগ নেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কিন্তু চার বছর অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত কাজ শুরু করতে পারেনি সংস্থাটি। শিশুপার্কের অভ্যন্তরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের সময়সীমা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং বাজেটজনিত জটিলতায় পার্কের কাজ এখনও শুরু করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শাহবাগ শিশুপার্কে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘স্বাধীনতা স্তম্ভ’ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় আন্ডারগ্রাউন্ড গাড়ি পার্কিংয়ের কাজ চলছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হয়ে ২০১৯ সালের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এই সময় বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। এরপর আলাদা প্রকল্পের মাধ্যমে শিশুপার্কের সংস্কারের কাজ শুরু করবে ডিএসসিসি।

সংশ্লিষ্টদের থেকে জানা যায়, স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের মূল বরাদ্দের কিছু টাকা শিশুপার্কটির আধুনিক রাইড স্থাপনের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ডিএসসিসিকে প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু এই টাকা যথেষ্ট মনে না করায় শুরু থেকেই ডিএসসিসি তা নিয়ে আপত্তি জানায়। এ নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের একাধিকবার যোগাযোগও হয়। এবং পরবর্তীকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে শিশু পার্কের আধুনিকায়ন করতে বলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পরে ডিএসসিসি একটি নতুন বাজেটে প্রকল্প তৈরি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।

প্রকল্প সমন্বয়য়ের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের পরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম (যুগ্ম সচিব) বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের প্রজেক্ট, এই বিষয়ে মোবাইলে কিছু বলা যাবে না। তবে শিশুপার্ক প্রকল্পটি এখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দেখবে।’

শিশুপার্কের বর্তমান চিত্র

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী সালেহ আহম্মেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পার্কে সবার সমন্বয়য়ে কাজ চলছে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের কাজ প্রায় শেষের দিকে। আমরাও ওই (শাহবাগ শিশু পার্ক) প্রকল্প স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সেখান থেকে প্রকল্পটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে গেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন কমিটির সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপনও করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্প স্থানটি পরিদর্শন করাসহ ডিজাইন তৈরি করা হয়ে গেছে। এখন অনুমোদন হলে দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়া ও পার্কের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হবে।’

তবে ঠিক কবে থেকে পার্কের আধুনিকায়নের কাজ শুরু হবে এবিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে সালেহ আহম্মেদ কিছু বলতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘একনেক থেকে পাস হলেই দ্রুত সময়ে কাজ শুরু হবে।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ডা. মো. সারোয়ার বারী  বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা নেই। জেনে জানানো যাবে।’

সরেজমিন শিশুপার্ক ঘুরে দেখা যায়, পার্কটি ভঙ্গুর অবস্থা পড়ে রয়েছে। ভেতর স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের ভূ-গর্ভস্থ গাড়ি পার্কিংয়ের কাজ চলছে। পার্কের অধিকাংশ রাইডের অস্তিত্ব বিলিন হয়েছে। চরকি জাতীয় দুটি রাইড টিন দিয়ে ঘেরা। পার্কটি কোন নকশায় বানানো হবে— তার কোনও তথ্য বা ছবি সংবলিত ব্যানার টানানো নেই। ফটকে কেবল ছোট্ট একটা টিনে লেখা ‘সাবধান পার্কের উন্নয়নের কাজ চলিতেছে।’

এদিকে পার্কটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বিনোদনের সুযোগ হতে বঞ্চিত হচ্ছে শিশু-কিশোররা। পার্কটি চালু আছে বা পার্কের সংস্কার কাজ শেষ মনে করে অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের নিয়ে এসে ফিরে যাচ্ছেন, হতাশ হয়ে। বিশেষ করে শুক্র-শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনগুলোতে পার্কে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককেই। পার্কের আশপাশের দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি নিয়তই দর্শনার্থীরা আসেন। তাদের অধিকাংশই ঢাকার বাহিরের দর্শনার্থী।

সংস্থারের অপেক্ষায় রাজধানীর শাহবাগের শিশুপার্ক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষক ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন,  ‘বাস্তবতা হলো— ঢাকায় শিশুদের জন্য তেমন উল্লখযোগ্য কোনও বিনোদনকেন্দ্র নেই। এমতাবস্থায় দীর্ঘদিন এই পার্কটি বন্ধ থাকা সত্যই দুঃখজনক। এই পার্ক ঘিরে যেমন অনেকের স্মৃতি জড়িত, তেমনই স্বল্প খরচে শিশুদের জন্য বিনোদনের একটি নির্ভরযোগ্য স্থান। পার্কের আধুনিকায়ন প্রকল্প হাতে নেওয়ার আগেই এটি কিভাবে  দ্রুত সম্পন্ন করা যায়, তা চিন্তা করা প্রয়োজন ছিল।’ তিনি বলেন, ‘এটিকে শুধু বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে না দেখে শিশুদের মানসিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে দেখা উচিত এবং সেই গুরুত্ব থেকেই দ্রুত এই পার্কের শিশুবান্ধব সংস্কারের প্রত্যাশা করছি।’

উল্লেখ্য, শাহবাগ শিশু পার্কের জায়গার মালিক গণপূর্ত অধিদফতর। পার্কটি পরিচালনার দায়িত্ব এখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি)। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে পার্কের সামনে একটি বিজ্ঞপ্তি টানিয়ে এটি বন্ধ ঘোষণা করেছিল ডিএসসিসি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ‘ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় শিশুপার্কের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের কাজ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন থাকায়, অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শিশুপার্ক সর্বসাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে।’

ছবি: নাসিরুল ইসলাম

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
কদমতলীতে ইন্টারনেট সার্ভিসের ৩ কর্মীকে মারধর
মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টির পূর্বাভাস ঢাকায়, কমতে পারে গরম
সর্বশেষ খবর
নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ডে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হলো নৌবহরে
নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ডে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হলো নৌবহরে
জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী
জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী
রেললাইনে আটকে গেলো মাইক্রোবাস, ট্রেনের ধাক্কায় পুকুরে
রেললাইনে আটকে গেলো মাইক্রোবাস, ট্রেনের ধাক্কায় পুকুরে
দেশীয় খামারিদের পশুতেই শতভাগ কোরবানি হয়েছে:  প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
দেশীয় খামারিদের পশুতেই শতভাগ কোরবানি হয়েছে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের