দেশে পুরুষের পাশাপাশি নারী মাদকসেবীর হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। কিন্তু সামাজিক বাধার কারণে তারা চিকিৎসা গ্রহণে অনাগ্রহী। নারীদের মাদক সেবন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে, তা সমাজে এক সময় ভয়ঙ্কর রূপ নেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র আয়োজিত এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক জাফরুল্ল্যাহ কাজল এসব কথা বলেন।
সভায় জানানো হয়, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন গত ৯ বছরে ৬৪৭ নারীকে মাদকসেবন, মানসিক ব্যাধি ও আচরণগত বিষয়ক চিকিৎসা প্রদান করেছে। এদের মধ্যে ৪০ শতাংশ নারী মাদকসেবীরা মাদকমুক্ত হয়ে সুস্থ জীবনে ফিরে গেছেন।
এসময় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আক্তারুজ্জামান সেলিম, স্বাস্থ্য সেক্টরের সহকারী পরিচালক (মেডিক্যাল সার্ভিসেস) ডা. নায়লা পারভীন, সিনিয়র সাইকোলজিস্ট রাখী গাঙ্গুলী। আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা আহছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের যুগ্ম পরিচালক কেএসএম তারিক, সহকারী পরিচালক মোখেলেছুর রহমানসহ স্বাস্থ্য সেক্টরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, মাদকাসক্ত থেকে ফিরে আসা ব্যক্তি এবং চিকিৎসাধীন মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের পরিবার।
এতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ এক প্রতিবেদন তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে ৬৪৭ জনের চিকিৎসার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এরমধ্যে ১২৯ জন রোগী পুনরায় চিকিৎসা গ্রহণ করেন। চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারী নারীদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ ইয়াবা গ্রহণকারী, ২৮ শতাংশ গাঁজা, ১৬ শতাংশ ঘুমের ওষুধ, ১৫ শতাংশ একই সঙ্গে বিভিন্ন মাদক গ্রহণকারী, ২ শতাংশ মদ, ২ শতাংশ শিরায় মাদক গ্রহণকারী আর বাকিরা অন্যান্য মাদক গ্রহনকরী। মানসিক রোগের মধ্যে সিজোফ্রিনিয়া ৩৪ শতাংশ, মুড ডিজঅর্ডার ৩০ শতাংশ, বাইপোলার ১২ শতাংশ, ডিপ্রেশন এক শতাংশ, ওসিডি ৬ শতাংশ এবং বাকিরা অন্যান্য মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই কেন্দ্রে কেবল নারীদের দ্বারাই নারী সেবীদের চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। যেহেতু মাদক সেবন একটি অসুস্থতা, বিধায় মাদকমুক্তরা পুনরায় মাদক গ্রহণ করতে পারে। এতে পুনরায় চিকিৎসা গ্রহণে উদ্যোগী হতে হবে। সে ক্ষেত্রে সমাজের সকল পর্যায় থেকে সচেতনতার কাজ করতে হবে।
মাদক গ্রহণের কারণ উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৌতুহলের বশবর্তী হয়ে, মাদক গ্রহনকারী বন্ধুদের চাপ, একাকিত্ব, পরিবারের অন্য সদস্য বা বয়ফ্রেন্ড মাদক গ্রহণে অভ্যস্ত থাকলে, বিষণ্ণতা-হতাশাগ্রস্থ হলে, অতিরিক্ত রাগ-জেদ ইত্যাদির কারণে নারীরা মাদক গ্রহণ করে থাকেন। তবে আমাদের দেশে পারিবারিক ও সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি এখনও প্রকাশ্যে আসে না। ফলে এ সমস্যাটির সমাধান সহজ হয় না। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন নারী নির্ভরশীলদের চিকিৎসায় কাজ করছে।









