নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং হামলা-মামলা দিয়ে বিরোধী দলগুলোর ওপর দমন-পীড়নের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।
সোমবার (৫ জুন) দুপুরে ঢাবির অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধন করে সংগঠনটি। সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, অধ্যাপক ড. আক্তার হোসেন খান, অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম জাহিদ, অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমানসহ আরও অনেকে।
মানববন্ধন শুরুর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী মানববন্ধনের ঠিক সামনে ‘বিএনপি-জামাতের ভোটের কারচুপি’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়ান। সাদা দলের মানববন্ধন শেষ হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করেন।
মানববনন্ধে অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ যখনই কোনও ক্রান্তিলগ্নে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। সেই পাকিস্তান শাসনামল থেকে শুরু করে বিভিন্ন অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী আচরণের প্রতিবাদ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সে জায়গায় ঢাবির শিক্ষক সমাজ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। কিন্তু সেটি এখন আর আলোচনার বিষয় নয়। আলোচনার বিষয় হলো এর জন্য দায়ী কারা। দায়ীদের খুঁজে বের করতে সরকার কোনও চেষ্টাই করছে না বা ব্যর্থ হচ্ছে। কেন ব্যর্থ হচ্ছে? সিন্ডিকেট সরকারের চাইতেও অনেক শক্তিশালী। কেননা এই সিন্ডিকেটই সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছে। গোটা অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে বাজার মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।’
বিরোধী দলের ওপর সরকার দমন-নিপীড়ন চালাচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। আজকের এই কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করার জন্যও কিছু ছাত্র আমাদের সামনে দাঁড়িয়েছে। সরকার সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের মহড়াও আমরা দেখেছি। এর মধ্যে দিয়ে আমাদের দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণিত হয়েছে।’
ড. সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ‘তিনটি ইস্যুকে সামনে নিয়ে আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। বাংলাদেশে বর্তমানে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সেই জায়গা থেকে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি ভিন্নমত দমনে সরকার যেসব কর্মকাণ্ড করছে, যেভাবে একদলীয় স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করছে তার প্রতিবাদ জানানোর জন্য। আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি আগামী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নিশ্চিত করা দাবিতে।’








