জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া অভিযোগ করে বলেছেন, ‘বড় রাঘব-বোয়ালরা এখন আর টাকা বা ডলারে ঘুষ খান না। তারা এখন ঘুষ হিসেবে নেন সোনার বার। সব জায়গায় সিন্ডিকেট করে কর্মকর্তারা দুর্নীতি করেন। টাকা না দিলে কাজ হয় না। মাসের পর মাস ঘুরতে হয়। কার্যালয়ে গিয়ে কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় না।’
মঙ্গলবার (১৩ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে গোলাম কিবরিয়া এই দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আগে মানুষ মনে করতো একটি বিশেষ বাহিনী ঘুষ খায়। এখন এমন কোনও দফতর নেই, যেখানে কেউ ঘুষ খান না। যারা ঘুষ খান না, দুর্নীতি করেন না, তারা এখন সংখ্যালঘু, দুর্বল ও বোকা কর্মকর্তা। তাদের দাফতরিক তেমন কোনও কাজও নেই।’
যারা বিদেশে টাকা পাচার করে বেগমপাড়ায় বাড়ি করেছেন, তাদের ৯০ ভাগ আমলা দাবি করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘এত দিন শোনা যেতো কানাডায় বেগমপাড়া। কত দিন আগে দেখা গেলো লন্ডনে বেগমপাড়া। বেগমপাড়া বলতে মানুষ মনে করে এটা সংসদ সদস্যরা করেছেন। যারা টাকা পাচার করে বিদেশে বাড়ি করেছেন, যাদের কারণে বেগমপাড়া নামটি এসেছে, তাদের শতকরা ৯০ ভাগ আমলা।’
গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘বড় বড় রাঘব-বোয়াল এরা কারা, খুঁজে বের করেন। আমরা যদি জানতে পারি, এ দেশে যাদের জানার দায়িত্ব, তারা কেন জানবে না? তারা অবশ্যই জানে। না জানলে তাদের বাদ দিয়ে যারা জানে, তাদের দায়িত্ব দেন। এমন লোক বসান, যারা বসলে ঘুষ, দুর্নীতি বন্ধ হবে।’
বিরোধী দলের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেখানে জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা-নিরাপত্তা রক্ষায় বৃহৎ সেনাবাহিনী পাঠানো দরকার। পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য কমপক্ষে তিন লাখ সেনাসদস্য দরকার। সেই সঙ্গে আধা সামরিক বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কমপক্ষে পাঁচ লাখ সদস্য দরকার। যাতে একজন লোকও অপহরণের শিকার না হয়, কারও প্রাণ না যায়।’









