‘আইডিয়ালে ভর্তি ও নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ: ইনডেক্সবিহীন সহকারী প্রধান শিক্ষক গভর্নিং বডির সদস্য’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের একাংশের প্রতিবাদ করেছেন মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক রোকনুজ্জামান শেখ।
সংবাদের মূল অভিযোগে বলা হয়েছিল, ‘রাজধানীর মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অবৈধভাবে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পদটি এমপিওভুক্ত পদ হলেও সৃষ্ট পদ দেখিয়ে নন-এমপিও কনিষ্ঠ সহকারী শিক্ষক রোকনুজ্জামান শেখকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে রোকনুজ্জামান শেখ ভর্তি-বাণিজ্য ও নিয়োগ-বাণিজ্যসহ আর্থিক দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন।’
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদফতর এবং পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরে অভিভাবকদের পক্ষে হাবিবুর রহমানের দেওয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনের অভিযোগের মূল অংশ বাদ দিয়ে ‘ভর্তি ও নিয়োগ-বাণিজ্য নিয়ে দুর্নীতি করেননি’ বলে তিনি একাংশের প্রতিবাদ জানান। যদিও প্রতিবেদনে রোকনুজ্জামান শেখের বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছিল।
রোকনুজ্জামান শেখ প্রতিবাদে বলেন, ‘ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রেখে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল ও শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বান্ধব কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় স্বার্থান্বেষী মহল ফায়দা লুটতে না পারায় আমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ভুয়া নামে দাখিল করেছেন। আমি অভিযোগকারীর সঠিক নাম ও ঠিকানা পেলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবো। আমি সহকারী প্রধান শিক্ষক রোকনুজ্জামান শেখ ভর্তি-বাণিজ্য ও নিয়োগ-বাণিজ্যসহ আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই। মোটা অঙ্কের টাকা খরচ ও প্রশ্নপত্র ফাঁস করে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিও সম্পূর্ণ বানোয়াট। গুলশানের একটি ফাইভস্টার হোটেলে বসে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের উন্নয়নের নামে মিথ্যা ও ভুয়া ভাউচার সংযুক্ত করে হিসাব দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের ব্যাপারে অধ্যক্ষকে সহযোগিতা করার বিষয়টিও সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।’
যদিও গুলশানের একটি ফাইভস্টার হোটেলে বসে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের উন্নয়নের নামে মিথ্যা ও ভুয়া ভাউচার সংযুক্ত করে হিসাব দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগটি ছিল সহযোগিতার। সে বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশিদী তার বক্তব্যে এড়িয়ে যান।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর এবং পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরে অভিভাবকদের পক্ষে হাবিবুর রহমানের দেওয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবেদন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত পদে নন-এমপিও সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষক করার বিধিবিধান নেই। অথচ শূন্য পদে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সৃষ্ট পদ দেখিয়ে। তা ছাড়া সহকারী প্রধান শিক্ষক হয়ে গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন নীতিমালার পরিপন্থী।
এ ব্যাপারে রোকনুজ্জামান শেখ প্রতিবাদ জানাননি।
অভিযোগকারী হাবিবুর রহমান অভিযোগে বলেন, ‘অভিভাবক ও শিক্ষকদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বংশধর বলে ভয়ভীতি দেখান তিনি।’
প্রকাশিত প্রতিবেদনের এ অংশের কোনও প্রতিবাদ করেননি রোকনুজ্জামান শেখ। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি শেখ পরিবারের বংশধর বলে পরিচয় দিই না, এটা সমপূর্ণ মিথ্যা কথা।’









