এবারের ঈদযাত্রায় অন্যান্য বারের তুলনায় ট্রেনের যাত্রীদের ভোগান্তি নেই বললেই চলে। তবে একেবারেই বিপরীত চিত্র দেখা গেছে কমিউটার ট্রেনগুলোতে। টিকিট কাটতে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া, ঝুঁকি নিয়ে দুই বগির মাঝে দাঁড়ানো যাত্রী পরিবহন, এক সিট নিতে চাইলে দুই-তিনটি টিকিট কাটতে বাধ্য করা, কম দূরুত্ব গেলেও শেষ গন্তব্যের ভাড়া নেওয়া, এমনকি দেরি করে কমিউটার ট্রেন ছাড়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, তুলনামূলক কম দূরত্বের রুটে চলাচলারী এই কমিউটার ট্রেনগুলোতে কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবেই এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে কমলাপুর স্টেশনে দেখা গেছে, যেখানে কমিউটার ট্রেনের টিকিট দেওয়া হতো সেটি কোনও ঘোষণা না দিয়েই স্থানান্তর করেছে কর্তৃপক্ষ। টিকিট দেওয়া হচ্ছে শহরতলি আট নম্বর প্লাটফর্মের কাউন্টার থেকে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন টিকিটপ্রত্যাশীরা।
বুধবার (২৮ জুন) সকালে এই ট্রেনগুলোর কাউন্টারের সামনে প্রচুর মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। কাউন্টারে যাত্রীরা অভিযোগ করেন কমিউটার ট্রেনে উঠলেই সর্বনিম্ন ৯৫ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকেও আদায় করা হচ্ছে শেষ গন্তব্যের ভাড়া। আবার যাত্রীরা সিট চাইলে বাধ্যতামূলক দুটি থেকে চারটি টিকিটের দাম পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। দাঁড়িয়ে যেতে চাইলে একটি সিটের সম্পূর্ণ ভাড়া দিতে হয় এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১৫-২০ টাকা বেশি দিতে হয়।
ঢাকা থেকে জয়দেবপুরগামী যাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পেয়েছি। তবে আমাকে ২০ টাকার টিকিট না দিয়ে মোহনগঞ্জের ৯৫ টাকার টিকিট দেওয়া হয়েছে। ইমাম হাসান নামে মহুয়া ট্রেনের আরেকজন যাত্রী জানান ৬৫ টাকার টিকিট কিনতে তার কাছে তিনটি টিকিটের দাম রাখা হয়েছে।
এদিকে গত দুই দিনে কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া কয়েকটি কমিউটারে দেখা গেছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিন, ছাদ ও দুই বগির সংযোগ স্থলে দাঁড়িয়ে গন্তব্য স্থলে যাচ্ছেন যাত্রীরা। ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ যাত্রী নিয়ে চলছে ট্রেনগুলো। যাত্রীরা জানান বগিতে জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে ট্রেনের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় ওঠে যাতায়াত করছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেসরকারি এই কমিউটার সার্ভিসগুলো বাংলাদেশ রেলওয়ের আওতায় চললেও, এর ওপর রেলওয়ের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। বাংলাদেশ রেলওয়ের বলাকা কমিউটার, দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার, মহুয়া কমিউটার, কর্ণফুলী কমিউটার, রাজশাহী কমিউটার, জামালপুর কমিউটার ও তিতাস কমিউটার বেসরকারিভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ট্রেনগুলোর পরিচালনা করেন মেসার্স এস আর ট্রেডিং ও এলআর ট্রেডিং।
কমিউটার ট্রেনে ভুক্তভোগী যাত্রীদের এসব অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে টিকিট কাউন্টারে গেলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মাসুদ সারওয়ার বেশি দামে টিকিট বিক্রি হওয়ার কথা স্বীকার করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যাত্রীরা অনেকে ২০ টাকার টিকিট কেটে এর চেয়ে বেশি দূরে ভ্রমণ করেন। তার জন্য জয়দেবপুর ও বিমানবন্দর স্টেশনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে না। একটু বেশি দূরত্বের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।
কমিউটার ট্রেনের অন্যান্য অভিযোগ নিয়ে ঢাকা রেলওয়ে বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা শাহ আলম কিরণ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের কমিউটারগুলো বেসরকারি ব্যাবস্থাপনায় পরিচালিত হওয়ার কারণে কিছু সমস্যা রয়েছে। আবার ঈদযাত্রার কারণে যাত্রী বেশি হওয়াতে কিছু সমস্যা সাময়িক। এ ছাড়া অনেক কমিউটারেই বগির সংকট আছে। ধীরে ধীরে এগুলো সমাধান হবে।
ঈদ উপলক্ষে এক সপ্তাহ ধরেই মানুষ ট্রেনে রাজধানী ছাড়ছেন। বুধবার ঈদের আগে শেষদিন হওয়ায় সকাল থেকেই ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে কমলাপুর স্টেশনে। তবে টিকিটবিহীন যাত্রীদের ক্ষেত্রে এবার কড়াকড়ি থাকায় কোনও যাত্রী বিনা টিকিটে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে পারছেন না। ঈদযাত্রায় ২৪ জুন থেকে প্রতিদিন ৪১ জোড়া আন্তঃনগর এবং ৩৬ জোড়া মেইল, লোকাল ও কমিউটার ট্রেন কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাচ্ছে।









