ইইউ পার্লামেন্টের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জোসেফ বোরেল ইউরোপে বসবাসরত ৩২১ জন প্রবাসীর লেখা চিঠির জবাবে জানিয়েছেন, ইইউ-বাংলাদেশ অংশীদারত্ব ইতিবাচক গতি পাচ্ছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে। প্রতিবাদী চিঠি পাঠানো প্রবাসী সেই দলভুক্তদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ জুন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ছয় জন সদস্য বাংলাদেশের দ্বাদশতম নির্বাচন, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জোসেফ বোরেলকে একটি চিঠি প্রদান করে। ইউরোপে বসবাসরত দেশের বিজ্ঞানী, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ নানা পেশার ৩২১ জন প্রবাসী ‘বাংলাদেশ সিভিল সোসাইটি ইন ইউরোপ’ এর পক্ষ থেকে গত ২৬ জুন উক্ত চিঠির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, ৬ ইইউ এমইপি লিখিত উক্ত চিঠিটি মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে লেখা ও বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপচেষ্টা মাত্র।
তারা চিঠিটিতে জানায়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যার পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও বলপূর্বক গুম শুরু হয়। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে কয়েক হাজার সামরিক বাহিনীর সদস্যের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
চিঠিদাতারা আরও বলেন, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচন প্রতিহত করতে বাংলাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। সেই সময় তারা শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
যেসব প্রবাসী ইইউ পার্লামেন্টের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জোসেফ বোরেলসহ ছয় সংসদ সদস্যকে প্রতিবাদ লিপিটি পাঠিয়েছেন তারা জানিয়েছেন, ছয় সংসদ সদস্যের বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে কোনও পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। ইইউ পার্লামেন্টের, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের জন্য যে প্রতিনিধি দল রয়েছে, সেই সব কমিটির সদস্য না হয়েও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি খর্ব করতেই তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে চিঠিটি লিখেছেন।
এই চিঠির প্রতি উত্তরে ইইউ পার্লামেন্টের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জোসেফ বোরেলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে ইউরোপিয়ান এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিসের ইইউ প্রতিনিধি দলের প্রধান রেনসী ট্যারিঙ্ক, ‘বাংলাদেশ সিভিল সোসাইটি ইন ইউরোপ’ এর সমন্বয়ক ড. মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামকে লেখা চিঠিতে জানিয়েছেন, বৈদেশিক বিষয় এবং নিরাপত্তা নীতির জন্যই ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চ প্রতিনিধি/ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জোসেপ বোরেল ফন্টেলেসের কাছে লিখিত বিস্তারিত তথ্যের জন্য ধন্যবাদ। তিনি আমাকে তার পক্ষে উত্তর দিতে বলেছেন।
তিনি জানান, আপনাদের চিঠিতে যে উদ্বেগগুলো উত্থাপন করেছেন এবং বিশেষ করে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে ৬ জন এমইপির পাঠানো ১২ জুনের চিঠিটি প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধের বিষয়ে যথাযথ নোট নেওয়া হয়েছে।
রেনসী ট্যারিঙ্ক আরও জানান, বাংলাদেশের পরিস্থিতির বিষয়ে আমি আপনাকে আশ্বস্ত করছি যে, ইইউ-বাংলাদেশ অংশীদারত্ব ইতিবাচক গতি পাচ্ছে এবং আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করেছি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো মানবাধিকার এবং অন্যান্য অগ্রাধিকারের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও সুশীল সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।









