X
শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪
১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

নৈতিক স্খলন ও অপরাধ: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে চাকরি গেছে ১৫৬৬ জনের

রিয়াদ তালুকদার
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ২৩:৫৯আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ২৩:৫৯

অপেশাদার আচরণ, নৈতিক স্খলন বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২১ ও ২০২২ সালে পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আনসারের ১৫৬৬ সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে ২৬১৬ জনকে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের পর তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশের যেকোনও পর্যায়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে কেবল বদলি বা বরখাস্ত করাই নয়, বরং দায় প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

যেমনটি ছাড় দেওয়া হয়নি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে। দুর্নীতির মামলা দায়েরের পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়, পরবর্তীতে আদালতে যখন তার আট বছরের কারাদণ্ড হয়, এরপর তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

এছাড়া, ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতের জবানবন্দি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে আট বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। পরবর্তীতে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

এদিকে, মানবিক কাজ করে আলোচনায় আসা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বন্দর জোনের কর্ণফুলী থানার কনস্টেবল শওকত হোসেনকে গত এপ্রিলে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ৭১ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত সদস্যদের নানা ধরনের অপেশাদার আচরণের অভিযোগে শৃঙ্খলা ভঙ্গের ৫ হাজার ৬১৫টি এবং বিভাগীয় মামলার মধ্যে ২৫৪৭টি মামলার নিষ্পত্তি হয়। সরাসরি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে ৪০১ জনকে। চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে ৯৯৩ জনকে। এছাড়া অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় ১ হাজার ১৫৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিভিন্ন ধরনের সাজা দেওয়া হয়েছে।

বিজিবি সদস্যদের ১৫০০টি শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও বিভাগীয় মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৩০৮টি অভিযোগের। চাকরিচ্যুত করা হয়েছে ৯০ জনকে, অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে ৩৩ জনকে। এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে ১২৫৭ জনকে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৬০ সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও বিভাগীয় মামলার মধ্যে ৪১টি নিষ্পত্তি হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুই জনকে চাকরিচ্যুত এবং ১০ জনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাত জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

র‌্যাবের তথ্য বলছে, ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সদস্যদের নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় চাকরি থেকে বরখাস্ত বা বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে ৩৭ জনকে। এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে ১৯৯ জনকে।

পুলিশ সদর দফতরের আরেক তথ্য বলছে, নৈতিক স্খলন কিংবা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে ২০২২ সালে কনস্টেবল থেকে এসআই পদমর্যাদার ৩৯৭ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে ৩৮২ জনকে। বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে ১৫ জনকে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার অপারেশনস বিপ্লব কুমার সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পুলিশ সদস্যদের অপেশাদার আচরণ কিংবা কোনও ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার অভিযোগ এলেই তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে। কাউকে কোনও ধরনের ছাড় দেওয়া হয় না। অভিযোগ এলে তদন্তের মাধ্যমে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনের মধ্যে থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনও সদস্য কোনও ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের কোনও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে তা তদন্তে প্রমাণিত হলে চাকরি থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডক্টর তৌহিদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পেশাদার বাহিনীর কোনও সদস্য অপরাধ করলে এর দায় নিতে চান না বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। যদিও বাহিনীতে থাকা অবস্থায় অপরাধগুলো করে যাচ্ছে কর্মচারীরা। পরবর্তীতে দেখা যায় বদলি করে দেওয়া হয়। শুধু বদলি নয়, ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনলে যেকোনও বাহিনীর জন্য তা সুখকর বার্তা দেবে। এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাজ করা উচিত।

/এফএস/এমওএফ/
সম্পর্কিত
এমপি আজিমের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের দাবি কলকাতা পুলিশের
র‌্যাব হেফাজতে নির্যাতনে নারীর মৃত্যুর অভিযোগ, আসকের উদ্বেগ
ভারতীয় পুলিশের দুই সদস্য ঢাকায়   
সর্বশেষ খবর
সবাই মিলেও পাননি একজনের সমান ভোট, হারাচ্ছেন জামানত
সবাই মিলেও পাননি একজনের সমান ভোট, হারাচ্ছেন জামানত
খারকিভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৭
খারকিভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৭
নির্মাণের ২ মাস পর থেকেই বন্ধ চট্টগ্রামের একমাত্র এস্কেলেটর ফুটওভার ব্রিজটি
নির্মাণের ২ মাস পর থেকেই বন্ধ চট্টগ্রামের একমাত্র এস্কেলেটর ফুটওভার ব্রিজটি
সোহাগসহ পাঁচ জনকে ফিফার সাজা
সোহাগসহ পাঁচ জনকে ফিফার সাজা
সর্বাধিক পঠিত
নেপথ্যে ২০০ কোটি টাকার লেনদেন, সিলিস্তাকে দিয়ে হানি ট্র্যাপ
এমপি আজীম হত্যাকাণ্ডনেপথ্যে ২০০ কোটি টাকার লেনদেন, সিলিস্তাকে দিয়ে হানি ট্র্যাপ
পূর্ব তিমুরের মতো খ্রিষ্টান দেশ বানানোর চক্রান্ত চলছে: শেখ হাসিনা
পূর্ব তিমুরের মতো খ্রিষ্টান দেশ বানানোর চক্রান্ত চলছে: শেখ হাসিনা
কবে থেকে পরিকল্পনা ও কেন কলকাতায় হত্যা, জানালো ডিবি
এমপি আনার হত্যাকবে থেকে পরিকল্পনা ও কেন কলকাতায় হত্যা, জানালো ডিবি
বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র?
বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র?
এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না আমার ভাই এমপি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে: মেয়র সেলিম
এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না আমার ভাই এমপি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে: মেয়র সেলিম