দেশি পেঁয়াজের দাম কমাতে আমদানি, বাজারে উল্টো চিত্র

আসাদ আবেদীন জয়
২৭ অক্টোবর ২০২৩, ১৫:০১ আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৩, ১৯:৪৮

বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়তি থাকায় ভারতের পেঁয়াজ আনা শুরু করেছিল সরকার। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে দেশি পেঁয়াজের দাম কমেনি, উল্টো ভারতের পেঁয়াজের দামই বেড়ে গেছে। আজকে বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ১০০ থাকে ১১০ টাকায়। আর আমদানি করা ভারতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজিতে। দেশি পেঁয়াজের সাথে ভারতীয় পেঁয়াজের দামের পার্থক্য ১০ থেকে ২০ টাকা। খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে ভারতের পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে কেউই সদুত্তর দিতে পারেননি। খুচরা বিক্রেতাদের কেউ কেউ বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি কমেছে বলে দাম বেড়ে গেছে।

শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর এক নম্বরের কাঁচা বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়।

আজকের বাজারে মানভেদে দেশি পেঁয়াজ ১০০-১১০ টাকা, ক্রস জাতের পেঁয়াজ ১০০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৯০ টাকা, আলু ৬০ টাকা, বগুড়ার লাল আলু ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিকেজি পেঁয়াজের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা। আলু কেজিতে ভোক্তা পর্যায়ে ৩৫/৩৬ টাকা ও কোল্ড স্টোরেজ থেকে ২৬/২৭ টাকা হওয়ার কথা।

দেশের বাজারে যখন দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে তখন জনসাধারণের স্বস্তির জন্য ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। যাতে বাজারে কম দামে পেঁয়াজ পাওয়া যায়, একইসাথে দেশি পেঁয়াজের দামও কমে আসে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র, দেশি পেঁয়াজের দাম তো কমেনি; বরং ভারতীয় পেঁয়াজের দামই বেড়ে গেছে। এই দাম বাড়ার কারণে মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে ক্ষোভ। 

বেসরকারি চাকরিজীবী আবুল হোসেন এসেছিলেন বাজার করতে। পেঁয়াজের দাম শুনে তিনি বিক্রেতার সাথে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এমনিতেই সব কিছুর দাম বেশি, তারপরও ব্যবসায়ীদের পেট ভরে না। এখন আরও দাম বাড়িয়েছে। ইন্ডিয়ান আধাপচা পেঁয়াজ যদি ৯০ টাকা করে খেতে হয় তাহলে আর কই যাবো?

আলু পেঁয়াজ বিক্রেতা রব্বানী বলেন, আমার যদি কেনা বেশি পড়ে তাহলে আমি কম দামে কীভাবে বিক্রি করবো? আমার পেঁয়াজ (ভারতীয়) কেনাই আছে ৮৩ টাকা, তাহলে আমাকে তো ৯০ টাকা বিক্রি করতেই হবে। তাও এটা আমার আগের কেনা। কয়েক দিন পর আরও বেশি দামে বিক্রি করতে হবে।

ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে আরেক বিক্রেতা হারিস বলেন, শুনেছি পূজার কারণে ভারত থেকে কম পেঁয়াজ আসছে, তাই দাম বেড়েছে। 

আল্লাহর দান বাণিজ্যালয়ের পাইকারি বিক্রেতা হাবিবুর বলেন, আমরা আজকে ভারতীয় পেঁয়াজ ৮৫ টাকা দরে বিক্রি করছি। এগুলো আমরা গতকাল রাতে এনেছি দোকানে। গত সপ্তাহে এই পেঁয়াজের দাম ছিল ৭০ টাকা।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে এত দাম কেন বাড়লো জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমরা বলতে পারি না। আমরা যে খুব বেশি লাভে বিক্রি করছি এমনও না। আমরা ১ টাকা লাভে বিক্রি করি।

বাজার করতে আসা সোলায়মান পাটোয়ারী বলেন, কার কাছে কী বলবো? বাজারে তো কোনও কিছুর দামই কম না। সবকিছু তো বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে।

গত সপ্তাহের সাথে তুলনা করলে আজকে বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। এই দাম কমকে তুলনামূলক কম দাম বলা যায়। প্রকৃতপক্ষে এখনও সবজির দাম বেশিই রয়েছে। আজও সবচেয়ে কম দামে ৪০ টাকা দরে সবজি বিক্রি হচ্ছে।

আজকের বাজারে লম্বা বেগুন ৮০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৮০ টাকা, কালো গোল বেগুন ১৪০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, করল্লা ১০০ টাকা, উচ্ছে ১০০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, পটল ৭০-১০০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০-১০০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ টাকা, শিম ১৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা, ধনেপাতা ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতিটি লাউ ৮০ টাকা, ফুলকপি ৬০-৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা ও চাল কুমড়া ৮০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এক্ষেত্রে দেখা যায় বেশ কিছু সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

এছাড়া আজকে রুই মাছ ৪০০-৬০০ টাকা, কাতল মাছ ৪০০-৫৫০ টাকা, কালিবাউশ ৬০০ টাকা, চিংড়ি মাছ ৮০০-১২০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৫০০ টাকা, কৈ মাছ ৩৫০ টাকা, পাবদা মাছ ৮০০ টাকা, শিং মাছ ৫০০-৫৫০ টাকা, বেলে মাছ ১০০০ টাকা, টেংরা মাছ ৮০০ টাকা, কাজলি মাছ ১০০০-১২০০ টাকা, বোয়াল মাছ ১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

ব্রয়লার মুরগি ১৮৫-২০০ টাকা, কক মুরগি ২৯২-৩০০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৩০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০-৭৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আজকেও প্রতি ডজন লাল ডিম ১৫০ টাকা ও সাদা ডিম ডজনপ্রতি ১৪৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।

এছাড়া মুদি দোকানের পণ্যের দাম আজকেও রয়েছে অপরিবর্তিত। চিকন মসুর ডাল ১৩০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ১১০ টাকা, মুগ ডাল ১৩০ টাকা, খেসারি ডাল ৮০ টাকা, বুটের ডাল ৯০ টাকা, ছোলা ৭৫ টাকা, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৭৫ টাকা, চিনি ১৩৫ টাকা, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৪০ টাকা, আটা দুই কেজির প্যাকেট ১২০ টাকা, খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ২২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

/এমএস/এমওএফ/
সম্পর্কিত
‘দোকানদাররা বলে দাম কমেছে, কিন্তু কীভাবে বা কতটুকু কমে আমরা বুঝতে পারি না’
‘এখন কম কিনে অভ্যস্ত হয়ে গেছি, কিছু বলতে পারি না, সহ্যও করতে পারি না’
আমদানি করা মাল্টা-আপেলের দাম কমছে না কেন
সর্বশেষ খবর
দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : সমাজকল্যাণমন্ত্রী
দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : সমাজকল্যাণমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে নতুন কৌশল নিয়েছে ইরান: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে নতুন কৌশল নিয়েছে ইরান: রয়টার্স
শ্রীলঙ্কার পথে পথে বিনামূল্যে খাবার বিতরণের উৎসব কেন
শ্রীলঙ্কার পথে পথে বিনামূল্যে খাবার বিতরণের উৎসব কেন
টিভিতে আজকের খেলা (২১ অক্টোবর, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা (২১ অক্টোবর, ২০২৬)
সর্বাধিক পঠিত
পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, দুইপক্ষ এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, দুইপক্ষ এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি তুলতে গাড়ি থামালেন প্রধানমন্ত্রী, দিলেন উপহার
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি তুলতে গাড়ি থামালেন প্রধানমন্ত্রী, দিলেন উপহার
ওআইসির কাশ্মির প্রস্তাবের নিন্দা ভারতের
ওআইসির কাশ্মির প্রস্তাবের নিন্দা ভারতের
যুদ্ধজাহাজ পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র, পাল্টা নৌবাহিনী পাঠিয়েছে চীন: এবার প্রকাশ্যে মুখোমুখি
যুদ্ধজাহাজ পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র, পাল্টা নৌবাহিনী পাঠিয়েছে চীন: এবার প্রকাশ্যে মুখোমুখি
২৩০০ আবেদন করে চাকরিহীন প্রিন্সটনের পিএইচডি ধারী
২৩০০ আবেদন করে চাকরিহীন প্রিন্সটনের পিএইচডি ধারী