বিচারক মো. আখতারুজ্জামানকে নিয়ে ‘অবমাননাকর বক্তব্য’ দেওয়া বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান (হাবিব) আদালতে হাজির না হওয়ায় তার অবস্থান জানাতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৬ নভেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলায় রায় প্রদানকারী বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানকে নিয়ে ‘অবমাননাকর বক্তব্য’ দেওয়ায় গত ১৫ অক্টোবর হাবিবকে তলব করে আদেশ দেন হাইকোর্ট।
আদালতের আদেশে আজ তিনি হাজির না হওয়ায় তিনি কোথায় আছেন, অর্থাৎ তিনি কারাগারে নাকি বাইরে আছেন সেটি জানাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে নির্দেশ দিয়েছেন। একইঙ্গে তার বক্তব্য অপসারণ হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে বিটিআরসিকে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান। আর বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।
পরে আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান বলেন, আদালত অবমাননার অভিযোগে হাবিবুর রহমান হাবিবকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার একটা নির্দেশনা ছিল। রেকর্ডে দেখা যাচ্ছে— উচ্চ আদালতের এ আদেশের কপি তার স্ত্রী গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তিনি আদালতে হাজির হননি। যে কারণে আদালত হাবিবের অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আগামী ৮ নভেম্বর জানাতে বলেছেন। ওই দিন পরবর্তী আদেশের জন্য রেখেছেন আদালত। একইসঙ্গে আজকে বিটিআরসি জানিয়েছে, সেই আপত্তিকর বক্তব্য তারা অপসারণ করেছেন।
শুনানির এক পর্যায়ে আদালত বলেছেন, তার অবস্থান কোথায় সেটা আগে জানি, ভেতরে থাকলে এক কথা, আর বাইরে থাকলে আরেক কথা। পরে আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে অবস্থান জানাতে নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর তৎকালীন বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। ২০১৯ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের হিসেবে নিয়োগ পান।
সম্প্রতি বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামান সম্পর্কে হাবিবুর রহমানের দেওয়া বক্তব্য ইউটিউবে দেখা যায়। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আসে। বিষয়টি আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। লিখিত আকারে হাবিবুর রহমানের দেওয়া বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালত অবমাননার অভিযোগে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়।
এ বিষয়ে ব্যাখ্যা জানাতে তাকে ৬ নভেম্বর সশরীর আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।









