শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর আপনজনদের অশ্রুসিক্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে চিরশায়িত হয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ও গণসংহতি আন্দোলনের জাতীয় পরিষদের সদস্য আরিফুল ইসলাম এবং সাবেক ছাত্রনেতা সৌভিক করিম।
বুধবার (৮ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর আজিমপুর গোরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে (৮ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় দ্রুতগামী ট্রাকের ধাক্কায় তাদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
তরুণ রাজনীতিক, প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির পরিচিত মুখ আরিফুল ইসলামের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবার, সংগঠন ও কর্মস্থলে। দুর্ঘটনার পর আরিফুল ইসলাম ও সৌভিক করিমকে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বুধবার সকালে ইস্কাটন গার্ডেন এলাকায় আরিফুল ইসলামের বাসার সামনে মরদেহে সম্মান জানান শোকাহতরা।
এরপর জোহরের নামাজের পর ইস্কাটন গার্ডেনের সুইড স্কুল মাঠে আরিফুল ইসলাম ও সৌভিক করিমের জানাজা হয়। জানাজায় পরিবারের পক্ষ থেকে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি কথা বলেন।
জানাজায় অংশ নেওয়া বিশিষ্টজনেরা উল্লেখ করেন, ছাত্রনেতা আরিফুল ইসলাম তার মানবিক, সহাস্য ও প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচিত মুখ ছিলেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় মঈন-ফখরুদ্দিন সরকারের সময় ২০-২২ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন আরিফুল ইসলাম। পরবর্তীকালে তিনি সরাসরি রাজনীতির পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী হন। ছাত্রবেলায় করেছেন সাহিত্যের ছোট কাগজ কালনেত্র। বিগত কয়েক বছর ধরে তিনি বিজ্ঞান বিষয়ক প্রকাশনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি শিশু-কিশোরদের জন্য ‘প্রকৃতি পরিচয়’ প্রকাশনার প্রকাশক ছিলেন। এছাড়া প্রকাশনা সংস্থা ইউপিএলের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। আরিফুল ইসলাম স্ত্রী রেবেকা নীলা, একমাত্র সন্তান নক্ষত্র, বাবা, বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়, ভক্ত, অনুরাগী রেখে গেছেন।
বিশিষ্টজনেরা উল্লেখ করেন, ছাত্রনেতা সৌভিক করিম ছাত্র রাজনীতির পর সংগীত নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মৃত্যুর আগে তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করতেন। সৌভিক করিম গীতিকার, সুরকার ছিলেন, চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।
জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক আহমেদ কামাল, লেখক গবেষক মোরশেদ শফিউল ইসলাম, অধ্যাপক তানজীমউদ্দীন খান, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, অধ্যাপক হাসান আল জা'য়েদ, সহযোগী অধ্যাপক মিথিলা মাহফুজ, গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, প্রাবন্ধিক-চিন্তক ফিরোজ আহমেদ, মনির উদ্দিন পাপ্পু, বাচ্চু ভুঁইয়া, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার, গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, রাষ্ট্র সংস্কারের দিদারুল ভুঁইয়া; সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, যুবদল নেতা অ্যাডভোকেট এরশাদ হোসেন, আইনজীবী রাকিব হোসেন, মহিতুল হাসান বিশাল, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের আহ্বায়ক ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপা চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফুর রহমান, জনতার অধিকার পার্টির তারিকুল ইসলাম ভুঁইয়া, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মানবেন্দ্র দেবনাথ, ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল, দৈনিক সমকালের প্ল্যানিং এডিটর ফারুক ওয়াসিফ, শিল্পী অরূপ রাহী, সায়ান, অমল আকাশ, বীথি ঘোষ, প্রবর রিপন, শ্যাম সাগর ম্যানকিন, চিত্রপরিচালক তানিম নূর ও হাবিবুর রহমান, ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি প্রবীর সাহা, সৈকত মল্লিক, গোলাম মোস্তফা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম সোহেল, জাহিদ সুজন, অ্যাক্টিভিস্ট রাখাল রাহা প্রমুখ।
পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বাংলাদেশ যুব ফেডারেশন, নারী সংহতি, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি, বহুমুখী শ্রমজীবী হকার সমিতি, কৃষক মজুর সংহতি, সম্মিলিত পেশাজীবী সংহতি, ছাত্র ইউনিয়ন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীসহ বিভিন্ন সংগঠন।
দুই দিনের শোক ঘোষণা গণসংহতি আন্দোলনের
তরুণ রাজনীতিক আরিফুল ইসলাম ও সৌভিক করিমের মৃত্যুতে শোকাহত গণসংহতি আন্দোলন। দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল দলের পক্ষ থেকে আগামী শুক্রবার (১০ নভেম্বর) ও শনিবার (১১ নভেম্বর) শোক ঘোষণা করেন।
শুক্রবার বিকালে আসরের নামাজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে ইস্কাটন গার্ডেন মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করা হবে।
শনিবার গণসংহতি আন্দোলনের পক্ষ থেকে স্মরণসভার আয়োজন করা হবে। সময় দলের পক্ষ থেকে জানানো হবে।
আরও পড়ুন-









