সাম্প্রদায়িক কোনও ব্যক্তিকে মনোনয়ন না দেওয়ার আহ্বান

ঢাবি প্রতিনিধি
২২ নভেম্বর ২০২৩, ২২:২৬আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৩, ২২:২৬

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, নির্বাচনের সময় ধর্মীয় সংখ্যালঘু, নারী ও প্রান্তিক জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়া নির্বাচন কমিশন ও সরকারের দায়িত্ব। আচরণবিধিতে আছে, নির্বাচনি প্রচারণায় ধর্মের ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু আমরা দেখছি সব দল নির্বাচনি প্রচারণায় ধর্মকে নিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করলে কখনও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা হবে না, এ কারণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাহাত্তরের সংবিধানে ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। তাই যেসব দল নির্বাচন করবে, তারা যেন মৌলবাদী কিংবা সাম্প্রদায়িক কোনও ব্যক্তিকে মনোনয়ন না দেয়।

বুধবার (২২ নভেম্বর) ‘সম্প্রীতির বাংলাদেশ’ আয়োজিত ‘সম্প্রীতির বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার ঠাঁই নাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় উপস্থিত হয়ে বক্তারা নির্বাচন বিষয়ে বক্তব্য দেন। এ সময় এসব কথা বলেন তিনি।

সাবেক উপাচার্য আনোয়ার হোসেন

বাংলাদেশে কখনও সাম্প্রদায়িকতা ছিল না জানিয়ে শাহরিয়ার কবির বলেন, আমাদের হাজার বছরের সাহিত্য-সংস্কৃতিতে ধর্মীয় সমন্বয় ও সম্প্রীতির কথা বলা আছে। বাংলাদেশে চণ্ডীদাস থেকে শুরু করে লালন শাহ, বুদ্ধদেব, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল—সবাই সাম্যের কথা বলেছেন, শান্তির কথা বলেছেন, সম্প্রীতির কথা বলেছেন; মানুষকে ভালোবাসার কথা বলেছেন। নির্বাচন এলেই ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। তারা যাতে ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারে, তার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০১ সালে জামায়াত-বিএনপি জোট যেভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি আক্রমণ করেছিল, তা আমরা দেখেছি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আনোয়ার হোসেন বলেন, আজ আমরা এমন এক সময়ে একত্র হয়েছি, তখন হরতাল-অবরোধে মানুষ পোড়ানো হচ্ছে। তবে আমরা আশপাশে তাকালে দেখতে পাই, সাধারণ মানুষ হরতাল-অবরোধ মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। আমার এলাকায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ঘুরে দেখেছি, সেখানে হিন্দুদের সঙ্গে মুসলমানরাও আছে। তবে সেখানে পুলিশও আছে। দুঃখটা সেখানেই, স্বাধীন দেশে কেন পুলিশ পাহারায় এসব উৎসব করতে হবে? এখানে রাষ্ট্রের দায় যেমন আছে, তেমনি দায় আছে রাজনৈতিক দলগুলোর।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেনি। যে কারণে তারা জ্বালাও-পোড়াও অব্যাহত রেখে। তারা অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। সামনের নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা চাইবো একটি সুদূরপ্রসারী সংস্কার। যার মাধ্যমে আমরা দেশে থেকে সাম্প্রদায়িক বিষ দূর করতে পারবো। তার জন্য সরাসরি পদক্ষেপের পাশাপাশি আমাদের প্রয়োজন একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন, সাংস্কৃতিক বিপ্লব।

যেন মৌলবাদী কিংবা সাম্প্রদায়িক কোনও ব্যক্তিকে মনোনয়ন না দেয়

আলোচনা সভায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতি ঈর্ষণীয়। বাংলাদেশের জিডিপি গ্রোথ বিশ্বের অনেক দেশের জন্য উদাহরণ। কিন্তু বাংলাদেশের সম্প্রীতির জিডিপির গ্রোথ নিম্নগামী। এটি যতক্ষণ আমরা ঠিক করতে না পারি, আমরা হয়তো অনেক উন্নত হবো, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ আমরা পাবো না।

শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলিম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী বলেন, জামায়াত যেন অন্য কোনও নামে রাজনীতি না করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। জামায়াতকে যারা প্রশ্রয় দেয়, তারা যেন রাজনীতির মাঠে না আসতে পারে, সে জন্য সবাইকে সচেষ্ট থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বলেন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্রনির্বিশেষে হাজার হাজার বছর ধরে বসবাস করে এসেছি এই গাঙেয় ব-দ্বীপে। কিন্তু কখনও সাম্প্রদায়িকতার আস্ফলন আমরা প্রত্যক্ষ করিনি। কিন্ত যখনই ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, তখনই হানাহানি ও সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সম্প্রীতির বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার ঠাঁই নেই

নাট্যব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দোপাধ্যায় বলেন, শহীদ মিনারে ২ বছর ১১ মাস আগে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের পক্ষে, মৌলবাদের বিরুদ্ধে, ধর্মান্ধগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যে আওয়াজ তুলেছিলাম, সেই আওয়াজটাই— সম্প্রীতির বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার ঠাঁই নেই। বাংলাদেশ হয়েছিল, মুসলমান হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান সাঁওতাল গারোর রক্তের বিনিময়ে সেই বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার ঠাঁই নেই। সেই বাংলাদেশ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশ হচ্ছে শাশ্বত বাংলার যে চিরায়ত দর্শন— অসাম্প্রদায়িকতার বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পক্ষে লড়ে যাচ্ছি, আমরা নিশ্চিত যে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে কাছে আমরা কখনও পরাজিত হবো না।

মাত্র দেড়-দুই মাস পরে যে নির্বাচন, সে নির্বাচনের সময় বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আপনারা আওয়াজ তুলবে— সম্প্রীতির বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার ঠাঁই নেই। নির্বাচনেও আমরা সাম্প্রদায়িক শক্তির কোনও প্রতিনিধিত্ব দেখতে চাই না।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ড. ফওজিয়া মোসলেম, ব্যারিস্টার ফারজানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নিজামূল হক ভূঁইয়া, ঢাবি জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা, সিনিয়র সাংবাদিক আশরাফ আলী, সাংবাদিক সালাম আজাদ, ঢাবি সহকারী প্রক্টর মাহবুবুর রহমান লিটনসহ আরও অনেকে।

/এনএআর/
সম্পর্কিত
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে ইসি
পারমাণবিক ইস্যুর পরিবর্তে যুদ্ধ বন্ধেই জোর দিচ্ছে ইরান
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক