ভোটের মাঠে বিএনপি না থাকলেও দলটির সমালোচনা করে নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
ঢাকা-১৩ আসনে নৌকার প্রার্থী জাহাঙ্গীর কবির নানক শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁও, তালতলা ও শ্যামলী এলাকায় গণসংযোগ করেন। তার সাথে দলীয় লোকজন ও সমর্থকরা ওই গণসংযোগে অংশ নেন। একটি খোলা জিপে নানক জনসাধারণের উদ্দেশ্যে অভিবাদন জানান। পরে শতদল কমপ্লেক্স থেকে শোভাযাত্রা সহকারে পশ্চিম আগারগাঁও ঈদগাহ মাঠ এলাকায় যান তিনি। সেখানে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ চালান তিনি। সেখান থেকে উত্তর শ্যামলী এলাকায় গণসংযোগ চালান নানক।
জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপি তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি যেভাবে গুপ্ত হত্যায় মজে গিয়েছিল সেই পথেই বিএনপি-জামায়াত রয়েছে। এই নির্বাচনি আসনে ২০০৮ সাল থেকে আমি দশ বছর জাতীয় সংসদ সদস্য ছিলাম। এই এলাকা সেকেন্ড ক্যাপিটাল খ্যাত বর্ধিষ্ণু এলাকা। এলাকাটিকে আমি তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত করেছি। এলাকাটিতে আগে কোনও রাস্তাঘাট ছিল না। এখনও কমিউনিটি সেন্টার সংকটসহ বহুবিধ সমস্যা রয়েছে। সেই সমস্যাগুলো আমি সমাধান করবো ইনশাল্লাহ।
ঢাকা-৬ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ সাঈদ খোকন সন্ধ্যায় রাজধানীর সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অংশে নেন। বিকেলে দয়াগঞ্জের ওয়ারী সিটি কলোনির পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারি বাংলার মাটিতে আরেকবার ব্যালট বিপ্লব হবে, ইনশাআল্লাহ।' প্রতিটি পাড়ায়, মহল্লায় ভোট প্রার্থনার জন্য আওয়ামী লীগের প্রতিটি কর্মী নেমে যাবেন। আমরা একসঙ্গে ভোট যুদ্ধ করবো ইনশাআল্লাহ। নৌকার বিজয় হবে, শেখ হাসিনা আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন। আমি বিজয়ী হতে পারলে মহান সংসদে আপনাদের কথা তুলে ধরবো।
ঢাকা-১৭ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত পশ্চিম মানিকদী ও মাটিকাটা এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন। এ আরাফাত বলেন, এদেশের মানুষ শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। সাধারণ জনগণ আগামী নির্বাচনে ভোট প্রদানের জন্য অপেক্ষা করছেন। সুতরাং কোনও প্রকার বাধা ছাড়াই সাধারণ মানুষের ভোটদান নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ জনগণ বিএনপি-জামায়াতের এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপি এখন জনবিচ্ছিন্ন একটি সন্ত্রাসী দলে পরিণত হয়েছে।
ঢাকা-১৪ আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল মিরপুরের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, আপনাদের ভোট নিয়ে আমি যদি সংসদ সদস্য হতে পারি, আপনাদের সুখে-দুঃখের সাথী হয়ে থাকবো। এখন আপনারাই সিদ্ধান্ত নেবেন কাকে ভোট দেবেন, আপনাদের সে অধিকার আছে। বিএনপি হলো একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। অপরদিকে জনগণের ভোট এবং ভাতের অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রাম করে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।









