গুলশান থানায় দায়ের করা নাশকতার মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও মেজর (অব.) মো. হাফিজ উদ্দিন আহমেদসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা, সাড়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ডের প্রত্যাশা করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, রাষ্ট্রপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা খালাস পাবেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরী আদালত মামলাটির রায় ঘোষণা করবেন। গত ২৪ ডিসেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৮ ডিসেম্বর তারিখ ধার্য করেন আদালত।
মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, রায়ে আসামি আলতাফ চৌধুরী ও মেজর হাফিজসহ ১৯ জনের সর্বোচ্চ ১৪ বছর ৬ মাসের সাজা প্রত্যাশা করছি। ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৪৩ ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি ৬ মাস, ৩৩২ ধারা সর্বোচ্চ শাস্তি ২ বছর, ৩৫৩ ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি ৩ বছর, ৪২৭ ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি ২ বছর ও ৪৩৫ ধারায় সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করেন, তারা আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা অনুযায়ী আসামিদের সর্বোচ্চ ১৪ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে।
অপরদিকে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর আইনজীবী তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। মামলাটি ভিত্তিহীন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত এ আসামির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আদালতে যেসব সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন তারা কেউ সরাসরি আসামির নাম প্রকাশ করেননি। আদালতকে সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে আমরা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি আলতাফ হোসেন নির্দোষ। তিনি আদৌ কোনও অপরাধ করেননি। আশা করছি তিনি মামলা থেকে খালাস পাবেন।
অন্যান্য আসামিপক্ষের আইনজীবী মমিন খান জানান, মামলায় যে নাশকতার কথা বলা হয়েছে তা আদৌ সত্য না। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানি করার জন্য আসামিদের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আশা করি আসামিরা ন্যায়বিচার পাবেন। সবাই এই মামলা থেকে বেকসুর খালাস পাবেন বলেন আশা করেন এই আইনজীবী।
মামলার অপর আসামিরা হলেন, মেজর (অব.) মো. হানিফ, এম এ আউয়াল খান, এম এ কাউয়ুম, মো. দুলাল, মো. রাসেল, মঈনুল ইসলাম, তোফায়েল আহম্মেদ ওরফে লিটন, মো. বাবুল হোসেন ওরফে বাবু, মো. আলমগীর হোসেন ওরফে রাজু, মো. জাহাঙ্গীর শিকদার ওরফে বাবু, আরিফুল ইসলাম, মো. বিল্লাল হোসেন, মো. সামসুল হক মিয়াজী, মো. বিপ্লব, মো.খুরশিদ আলম মমতাজ ও মো. মোশারফ হোসেন ও মো. মাহাবুব।
এদিকে আসামিদের মধ্যে জামিনে থেকে পলাতক রয়েছে, এম এ আউয়াল খান, এম এ কাউয়ুম, মো. দুলাল, মো. রাসেল, মঈনুল ইসলাম, বাবুল হোসেন ওরফে বাবু, মো. আলমগীর হোসেন ওরফে রাজু, মো. জাহাঙ্গীর শিকদার ওরফে বাবু, আরিফুল ইসলাম, মো. বিল্লাল হোসেন, মো. সামসুল হক মিয়াজী, মো. বিপ্লব ও মো. মাহাবুব। আসামি আলতাফ হোসেন চৌধুরী কারাগারে রয়েছেন। অপর আসামিরা জামিনে আছেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা জানা যায়, ২০১১ সালের ৪ জুন রাজধানীর গুলশান থানাধীন মহাখালী ওয়ারলেস গেট পানির ট্যাংকির সামনে বিএনপির নেতাকর্মী রাস্তার ওপর ‘অবৈধভাবে’ সমাবেশ করেন। এই সমাবেশ চলাকালে পুলিশের কাজে বাধা দেন ও আক্রমণ করেন আসামিরা। রাস্তার চলাচলরত গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান। ওই ঘটনায় গুলশান থানার এসআই শেখ সোহেল রানা চার জনের নাম এজাহারে উল্লেখ করে অজ্ঞাতানামা আরও ৩০/৪০-কে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত করে ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল গুলশান থানার এসআই কামরুল হাসান তালুকদার আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলাটির বিচার চলাকালীন আদালত ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে সাত জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন।
গত ৪ অক্টোবর ভোরে রাজধানীর উত্তরা থেকে আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) সদর দফতরের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে জানানো হয়, প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা, নাশকতা ও সহিংসতা মামলার আসামি হিসেবে এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে আটক করা হয়। গত ৫ নভেম্বর আলতাফ হোসেন চৌধুরীর জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার সিএমএম আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন। আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মোট ৪টি মামলা রয়েছে।









