সুন্দর-সুশৃঙ্খল-অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরও সবার প্রশ্ন কেন?

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২০ জানুয়ারি ২০২৪, ১৫:৩৬আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৪, ১৫:৪৩

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান প্রথম ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের মাধ্যমে অপভোটের সংস্কৃতি চালু করেন। সেই সংস্কৃতি থেকে বিএনপি এখনও বের হতে পারে নাই। তাই তারা যেকোনও ভালো ভোটের মধ্যেই নিজেদের পুরোনো অভ্যাস খুঁজে বেড়ায়। আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আসছে। এবারের নির্বাচনও তেমনই হয়েছে। সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরও সবার প্রশ্ন কেন?

শনিবার (২০ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ মিলনায়তনে ‘দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে গণতন্ত্রের বিজয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এডুকেশন রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম এ আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘স্কুলের শিক্ষকদের বাধ্য করে ভোট কেটে বাক্সে ভরার জন্য। এর মাধ্যমে অপভোটের সংস্কৃতি শুরু হয়। স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের নির্বাচন যেভাবে হওয়ায় উচিত এবার ঠিক তেমনই হয়েছে। এতো সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরও ভোট কেন ৪০ শতাংশ?– এমন প্রশ্ন সবার।’

বিরোধী দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি ক্ষমতায় আসতে চান, আগামী পাঁচ বছর অপেক্ষা করুন। ক্ষমতায় আসতে হলে নির্বাচনের মধ্য দিয়েই আসতে হবে, অন্য কেউ এনে দেবে না।’

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর দে বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এসে দেশের গণতন্ত্রকে এলোমেলো করে দেয়। আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর ২০১৪, ২০১৮ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে নির্বাচন হয়েছে। ক্ষমতায় থেকেও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে আওয়ামী লীগ।’

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেসা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কামরুল আলম খান বলেন, ‘৬৯-এর নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের পরও ভোট পড়েছিল ৫০ শতাংশের কিছু বেশি। সেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ছিল। এবারের নির্বাচনে জামাত-বিএনপি অগ্নিসন্ত্রাস করে মানুষকে ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা দিয়েছে, তারপর ৪১ শতাংশ ভোট পড়েছে। এটাই প্রমাণ করে এই নির্বাচনে মানুষের অংশগ্রহণ ও সমর্থন ছিল। বিপুল সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণ প্রমাণ করে এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে।’

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সেলিনা আখতার বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো মানুষের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব বাছাই করা। কোনও দল নির্বাচনে না এলে সে অধিকার তাদের আছে। আওয়ামী লীগ মানুষের জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য ড. মো. সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খান।

/জেডএ/আরকে/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ইসলামি ব্যাংকিংয়ের উন্নয়ন ও জাকাত টেলিভিশন চান পার্থ
ইসলামি ব্যাংকিংয়ের উন্নয়ন ও জাকাত টেলিভিশন চান পার্থ
‘এশিয়ার ব্রাজিল’ দলে সুস্থ হয়ে উঠছেন ‘জাপানের মেসি’ 
‘এশিয়ার ব্রাজিল’ দলে সুস্থ হয়ে উঠছেন ‘জাপানের মেসি’ 
সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিলের চেষ্টা, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১২ নেতাকর্মী গ্রেফতার 
সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিলের চেষ্টা, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১২ নেতাকর্মী গ্রেফতার 
আদাবরে পিটুনির শিকার যুবক, হাসপাতা‌লে মৃত্যু 
আদাবরে পিটুনির শিকার যুবক, হাসপাতা‌লে মৃত্যু 
সর্বাধিক পঠিত
ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন: কারা খাবে না ক্যাপসুল, কারা খেতে পারবে?
ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন: কারা খাবে না ক্যাপসুল, কারা খেতে পারবে?
আগুনে পুড়ে ছাই সাবেক উপদেষ্টার চেম্বার, প্রাণ হারালেন দুই কর্মচারী
আগুনে পুড়ে ছাই সাবেক উপদেষ্টার চেম্বার, প্রাণ হারালেন দুই কর্মচারী
ইজারা দেওয়া হবে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের ১১ ট্রেন
ইজারা দেওয়া হবে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের ১১ ট্রেন
তীব্র গরমেও কেন এসি ব্যবহার করতে পারছে না ইউরোপ
তীব্র গরমেও কেন এসি ব্যবহার করতে পারছে না ইউরোপ
সড়কের দুই পাশে সারি সারি কালেমার পতাকা, প্রশাসনের নজরদারি
সড়কের দুই পাশে সারি সারি কালেমার পতাকা, প্রশাসনের নজরদারি