ইসলামি ব্যাংকিংয়ের উন্নয়ন ও জাকাত টেলিভিশন চান পার্থ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৮ জুন ২০২৬, ০২:২৫আপডেট : ২৮ জুন ২০২৬, ০২:২৫

বাংলাদেশ ইসলামি ব্যাংকিংয়ের উন্নয়ন, যাকাত চর্চা ও কার্যকর বাস্তবায়নকে উৎসাহিত করা, জাকাত নেওয়ার জন্য একটি ডাটাবেজ এবং জাকাত টেলিভিশন করার প্রস্তাব দিয়েছেন ভোলা-১ আসনের সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থ। একই সঙ্গে ভোলার উন্নয়নে একটি অথরিটি করারও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।  

শনিবার (২৭ জুন) বিকালে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাবনা তিনি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন।  

বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে পার্থ বলেন, “আমি মদিনা সনদ বা মদিনা স্টেটের কথা বলেছি। জাকাত ইসলামিক ইকোনমি এবং প্রোটেকশন। বাংলাদেশের জাকাত একটা হিডেন ইকোনমি, আমরা কেউ বলতে পারি না কত টাকা জাকাত দেওয়া হয়। সরকারের জাকাত নেওয়ার একটা ওয়ে আছে বাট সেটা খুব মিনিমাল। আমি মনে করি বাংলাদেশে একটা ডাটাবেজ থাকা উচিত। প্রত্যেক নির্বাচনি আসনে কারা জাকাত নিতে পারে সেই নামগুলো একটা ডাটাবেজে রাখা উচিত। যাতে করে আমরা যেই জাকাত দিতে চাই, এমনকি প্রবাসীরাও যদি জাকাত দিতে চায়, তাহলে ওই ডাটাবেজ অনুসারে তারা ওই জাকাতটা পৌঁছে দিতে পারে। বেশি হলে কত হবে ৫০ লাখ ৬০ লাখ মানুষ আছে প্রত্যেকটা কনস্টিটুয়েন্সিতে। উই মাস্ট প্রমোট দ্য জাকাত। যেমন আগেই বললাম জাকাত আমাদের ইকোনমির অনেক বড় ব্যাপার এবং নিশ্চয়ই মানুষ জাকাত দেয়। জাকাত ছাড়াও মসজিদ, মাদ্রাসায় নিশ্চয়ই মুসলমানরা দান করে। মানুষ জাকাত দিতে চায় কিন্তু পারে না।”  

পার্থ বলেন, “আপনি নরমাল ওয়েবসাইট দেখুন। যদি এরকম ওয়েবসাইট আমাদের থাকে যেখান থেকে তাদেরকে আইডেন্টিফাই করতে পারি, অনেক প্রবাসী মানুষ আছে। প্রধানমন্ত্রী ইংল্যান্ডে ছিলেন— দেখবেন আমরা টিভিতে দেখতাম এক ঘণ্টার মধ্যে সিলেটে কোনও একটা মসজিদে হাজার হাজার পাউন্ড তারা বের করে ফেলতো। বিকজ অব অ্যাকসেসিবিলিটি। আমার মনে হয় যারা জাকাত পাওয়ার যোগ্য তাদের এই সুযোগ করে দেওয়া উচিত, যাতে জাকাতটা আরও অনেক পপুলার হয়। অ্যাট দ্য সেম টাইম আমি প্রপোজ করবো যে একটা যাকাত টেলিভিশন— যাতে আমরা ইন্ট্রোডিউস করতে পারি। যাতে বাংলাদেশে যারা যাকাত নিতে পারে তাদেরকে জাকাত যারা দিতে পারে সেই জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে পারি। এখন আউট অব সাইট, আউট অব মাইন্ড অনেকে ইচ্ছা করলেও দিতে পারে না। জাকাতের সঙ্গে আরেকটা কথা, সুদের কথা— এটাও আমাকে আমাদের একজন বলে গিয়েছিলেন। আমাদের সংসদ সদস্য জামায়াতে ইসলামের উনিও বলে গিয়েছিলেন, আমি কারেক্টলি বলি। আমি জানি এই কথা বললে হয়তো আমাকে অনেকে প্রোগ্রেসিভ মনে করবে না। এটা হতেই পারে বিকজ আমরা এমনভাবে কনভেনশনাল ব্যাংকিং সিস্টেমে ঢুকে গিয়েছি— এটা আমরা রাতারাতি পরিবর্তন করতে পারবো না। কিন্তু এটা সত্যি কথা যে পৃথিবীতে এখন ইসলামিক ব্যাংকিং ইজ দ্য ট্রেন্ড। আপনি ইংল্যান্ডে যান এটা সত্যি কথা।” পার্থ বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকের উদাহরণ টানেন এই সময়।  

পার্থ প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে বলেন, “আমাদের অপোজিশন থেকে বলা হয় বাজেট নিয়ে, বাজেট আমরা রিকোভার করতে পারবো কিনা? এনবিআরের ট্র্যাক রেকর্ড ভালো না। কিন্তু এটা মানতে হবে এনবিআরের ট্রাক রেকর্ড তখন ভালো ছিল না, যখন ১৭ বছর স্টেট প্যাট্রোনাইজ করাপশন হয়েছে ইন দিস কান্ট্রি। তখন এনবিআরের রেকর্ড ভালো না।”  

ভোলাকে ইকোনমিক জোন দাবি করে পার্থ বলেন, “একটা বাড়িতে যদি তিনটা বাচ্চাকাচ্চা থাকে বা তিনজন বাচ্চা থাকে, তিনজন সন্তান থাকে আর একজন সন্তান যদি অংকে ভালো হয় বাবা-মা তার জন্য একটা এক্সট্রা টিচার দেয়।  তার মানে এই না বাবা মা অন্য কাউকে অপছন্দ করে। বাট ওই মেরিটটাকে সম্মান করে। আমার ভোলাতে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন কিউবেক মিটার গ্যাস আছে। আমাকে একটু অংকের টিচারের মতো আলাদা করে দেখা উচিত। আই অ্যাম ইন্টেলিজেন্ট, ডক্টর, ইঞ্জিনিয়ার, আমি গ্যাসে পরিপূর্ণ। আপনি আমাকে চালু করেন, আমি মন্ত্রীদের পিছে পিছে কাউকে বলি— আমাকে একটা এয়ারপোর্ট দিন, কাউকে বলি আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় দিন এবং আমাকে ভোলা ব্রিজ সেতু দিন। অনেকেই হয়তো কনফিউশড যে, এই বাজেটের মধ্যে কেন ভোলা বরিশাল সেতুর কথা আসলো না? আমি ভোলাবাসীর জন্য ঢাকায় আসার জন্য এয়ারপোর্টে চাচ্ছি না।”  

ভোলার উন্নয়ন হলে তার প্রভাব উল্লেখ করে পার্থ বলেন, “মন্ত্রী আমার পিছে পিছে ঘুরবে, ভোলার মানুষের ঘুম ভাঙবে হেলিকপ্টারের আওয়াজে। বিলিনিয়ার আসবে ভোলাতে। আমি ভোলাকে তো সেভাবে চাই। ভোলা মাস্ট বি দ্য ওয়ার্কশপ অফ বাংলাদেশ, ভোলা মাস্ট বি দ্য তামিলনাডু অফ ইন্ডিয়া, ভোলা মাস্ট বি দ্য সোলজ অফ চায়না। আপনারা আলাদা ভোলা ডেভেলপমেন্ট কমিটি করেন। এয়ারপোর্ট আমি কেন চাচ্ছি— কেননা একটা বিদেশি যখন ইনভেস্ট করতে আসে তখন সে ইনফ্রাস্ট্রাকচারের কথা জিজ্ঞেস করে। আমি ঢাকায় আসার জন্য প্লেন চাই না।  

“ভোলাকে আপনারা ইউজ করেন। ভোলা কুড বি দ্য হার্ট অব ইকোনমি অব দ্য কান্ট্রি। আর এই কারণে আমাদের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট অনেক দরকার। আমি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবো যে, ভোলা ডেভেলপমেন্ট কমিটি নামে একটা কমিটি যদি করে ভোলাকে আলাদা বরাদ্দ দেওয়া হয়। যেহেতু আমি সরকারের পার্ট না আমি কোনও মন্ত্রী বা আমার কোনও এক্সিকিউটিভ পাওয়ার নাই। আমাকে এরকম একটা অ্যাকসেসিবিলিটি করে দেওয়া যাতে, আমি আমার কাজগুলো খুব তাড়াতাড়ি বের করে নিয়ে আসতে পারি।” পার্থ চুক্তির বিষয়ে জানতে চেয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।  

/এসএমএ/এসটি/ 
সম্পর্কিত
ছেলে নেই, মেয়েকে সম্পত্তি দান নিয়ে নতুন আইনে কী আছে
সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের অংশীদারত্ব কেমন হলো, জবাবদিহি কতটা হবে
সংসদে গালিগালাজ-অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করলে প্রতিকার কী
সর্বশেষ খবর
দুর্গাপূজায় মাংস খাওয়া কেন হিন্দু বাঙালিদের ঐতিহ্য?
দুর্গাপূজায় মাংস খাওয়া কেন হিন্দু বাঙালিদের ঐতিহ্য?
তিন আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের ব্যাগেজে মিললো বিপুল পণ্য
তিন আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের ব্যাগেজে মিললো বিপুল পণ্য
মানদেব প্রণালিতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি তেল আমদানিতে বাড়ছে ঝুঁকি
মানদেব প্রণালিতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি তেল আমদানিতে বাড়ছে ঝুঁকি
বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলের নিরাপত্তা কমানো সংক্রান্ত পরিপত্রের কার্যক্রম স্থগিত 
বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলের নিরাপত্তা কমানো সংক্রান্ত পরিপত্রের কার্যক্রম স্থগিত 
সর্বাধিক পঠিত
‘ভালোবাসি-ভালোবাসি’ বলে পাগল করে ফেলেছিল, এখন বাড়ি আসায় পালিয়ে গেছে
‘ভালোবাসি-ভালোবাসি’ বলে পাগল করে ফেলেছিল, এখন বাড়ি আসায় পালিয়ে গেছে
উত্তরার অফিস থেকে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার
উত্তরার অফিস থেকে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার
টাকা দিলেই কল রেকর্ড-লোকেশন: কীভাবে চলতো এই চক্র
টাকা দিলেই কল রেকর্ড-লোকেশন: কীভাবে চলতো এই চক্র
চার্জার খালি পড়ে থাকলেও কি বিদ্যুৎ খরচ হয়
চার্জার খালি পড়ে থাকলেও কি বিদ্যুৎ খরচ হয়
এনআইডি ও মোবাইলের কল ডিটেইল রেকর্ড বিক্রয়কারী গ্রেফতার
এনআইডি ও মোবাইলের কল ডিটেইল রেকর্ড বিক্রয়কারী গ্রেফতার