নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ বাগপাড়া এলাকায় একটি টিনশেড বাসায় গ্যাসের চুলায় মশার কয়েল জ্বালাতে গিয়ে আগুন লেগে একই পরিবারের এক শিশুসহ ছয় জন দগ্ধ হয়েছেন। বুধবার ( ২৪ জানুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে রাতেই চিকিৎসার জন্য শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইরস্টিটিউটে আনা হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন– সুখী আক্তার (৩২), তার মেয়ে সাদিয়া আক্তার (১১), দগ্ধ সুখীর ছোট বোন জান্নাতি আক্তার (১৬), ছোট ভাই মো. আরিফ (২১), ফুফাতো বোন রহিমা বেগম (৩৫) ও তার মেয়ে রিতু আক্তার (১৪)।
দগ্ধ রহিমার স্বামী জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, সুখীর ২২ দিন বয়সী মেয়ে মুনতাহা অসুস্থ। পাশের বাসা থেকে তার স্ত্রী রহিমা মেয়ে ঋতুকে নিয়ে তার মামাতো বোন সুখীদের বাসায় যান। রাতে ওই রুমে জান্নাতি গ্যাসের চুলায় লাইটার জ্বালিয়ে মশার কয়েল জ্বালাতেই যায়। ওই সময় সারা ঘরে আগুন লেগে এতে তারা দগ্ধ হন।
জাহাঙ্গীর আরও জানান, দুই তিন দিন আগে ওই বাসার মালিককে জানানো হয়েছিল গ্যাসের লাইন দিয়ে গ্যাস বের হয়। তবে তা ঠিক করেননি বাড়ির মালিক। লাইনটি ঠিক করলে এই দুর্ঘটনা ঘটতো না বলে অভিযোগ দগ্ধ ও তাদের স্বজনদের।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সুখী আক্তারে শরীরের ১৭ শতাংশ, রহিমার ৪৫ শতাংশ, জান্নাতি আক্তারের ১৫ শতাংশ, ঋতুর ১০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। রহিমাকে আইসিইউতে ও অপর তিন জনকে ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। সাদিয়ার ৫ শতাংশ ও আরিফের শরীরের ৩ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, তাদের কাউকেই শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না। এদের মধ্যে রহিমার অবস্থা সংকটাপন্ন।
বাগপাড়া তাইজুল ইসলামের টিনশেড বাড়ির ভাড়াটিয়া রহিমা বেগমের স্বামীর খাবার হোটেলের ব্যবসায়ী। পটুয়াখালী গলাচিপা উপজেলার নলুয়াবাগি গ্রামের বাসিন্দা তারা।









