১৪ ফেব্রুয়ারি পহেলা ফাল্গুন, একই দিন বিশ্ব ভালোবাসা দিবসও। বসন্তের মাতাল হাওয়ায় এসেছে ভালোবাসা দিবস। ঋতুরাজ বসন্তে ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় প্রকৃতি। আর ভালোবাসা প্রকাশের প্রধান অনুষঙ্গ ফুল। দুটি বিশেষ দিন একসঙ্গে হওয়াতে ফুলের চাহিদা এসময়ে থাকে তুঙ্গে। আর চাহিদা বেশি বলে দামও থাকে চড়া। ক্রেতাদের অভিযোগ, ফুল বিক্রেতারা দাম হাঁকেন ইচ্ছেমতো। বিক্রেতারা জানান, বাড়তি দামে কিনতে হয় বলে দাম কমানোর সুযোগ থাকে না।
মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শাহবাগের ফুলের দোকানগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়— পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে বিক্রি জমে উঠেছে।
সাধারণ সময়ের চেয়ে প্রতিটি দোকানেই তোলা হয়েছে বেশি ফুল। দেশি-বিদেশি নানান রকম ফুল দিয়ে বোঝাই হয়েছে প্রতিটি দোকান। গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকা, গ্ল্যাডিওলাস, জারবেরা, রজনীগন্ধ্যা, লিলি, গাঁদা, জিপসি, মাম, ক্যালেন্ডোলাসহ বিভিন্ন ধরনের ফুল সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রেতারা। কেবল ফুলই না, ফুল দিয়ে তৈরি মালা, মাথার ফুলের রিং, গাজরাও পাওয়া যাচ্ছে দোকানগুলোতে।
বাজারে ফুলের চাহিদা এবং ফুল দুটোই রয়েছে। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে চড়া মূল্যে। আর এই চড়া মূল্যের কথা স্বীকার করেছেন খোদ বিক্রেতারাই। তারা বলছেন, এবার তাদের ফুল কিনতে হয়েছে বেশি দামে তাই বিক্রিও করছেন বেশিতেই। দাম বেশি থাকায় অন্যবারের মতো চাহিদামতো ফুল কিনতে পারেননি তারা।
শাপলা পুষ্প কেন্দ্রের মো. মিরাজ হোসেন শাহেদ বলেন, এবার ১ লাখ টাকার ফুল উঠিয়েছি। গত বছর উঠিয়েছিলাম ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার। এবার মনে হচ্ছে বেচা-বিক্রি কম হবে তাই কম ইনভেস্ট করেছি। কালকে বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস— সেই অনুপাতে আজকে (মঙ্গলবার) এখনও তেমন বিক্রি হয় নাই। দেখি কালকে কী হয়!
বিক্রি নিয়ে আরেক ফুলবিক্রেতা মুজিবর বলেন, মানুষের কাছে তো টাকা থাকতে হবে। তা না হলে কিনবে কীভাবে। ফুলের দামে মানুষ গরুর মাংস কিনে খেতে পারবে।
অহনা ফুল কুটিরের বিক্রেতা আব্দুর রহিম বলেন, গত বছর ভালোবাসা দিবস আর বসন্ত উপলক্ষে ৩ লাখ টাকার ফুল উঠিয়েছিলাম। কিন্তু এবার দাম বেশি বলে ২ লাখ টাকার ফুল উঠিয়েছি। এবার ফুলের চাহিদা আছে, মানুষ আসছে, দেখে চলে যাচ্ছে। দাম বেশি বলে কিনছে না। গত বছর একটা গোলাপ ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি করেছি। আর এবার বিক্রি করছি ৮০-৯০ টাকায়।
ফুল কিনতে আসা হৃদয় বলেন, এবারে ফুলের দাম বেশি। হাতের জন্য যে গাঁদা ফুলের মালা থাকে সেটা আজকে কিনলাম ১০০ টাকা দিয়ে। এটা সাধারণত ৬০-৭০ টাকায় আগে কিনতাম। পহেলা ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবস যেহেতু একসাথে একটু বেশি খরচ না হয় হোক।
জায়ান ও প্রমি দম্পতি এসেছিলেন ফুল কিনতে। তারা বলেন, এবার ফুলের দাম অনেক বেশি রাখছে। আবার বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দামও চাচ্ছে। আমরা চুলে গোঁজার আর হাতের জন্য ফুল কিনেছি ২০০ টাকা দিয়ে। আমাদের কাছে চেয়েছিল ৩০০ টাকা।
পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে শুধু ফুলই কিনছেন না সৌখিন মানুষেরা। অনেককেই দেখা যায় ফুলের দোকানের সামনে বিভিন্ন ফুলের সাথে ছবি তুলতে। তবে এই ছবি তোলা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের রয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।
ফুল কিনতে আসা সুমন ও তমা অভিযোগের সুরে বলেন, এবার ফুলের সাথে ছবি তুলতে দিচ্ছে না। ফুল কিনলে ফুলের সাথে ছবি তুলতে দেয়। আগে এরকম ছিল না, এবারই এরকম দেখছি।
ছবি তোলা নিয়ে নাইম পুষ্প বিতানের বিক্রেতা মো. আকাশ বলেন, ছবি তুললে এলে তো কোনও সমস্যা নাই। কিন্তু একেকজন ছবি তুলতে এসে তুলতেই থাকে। এরকম সারাদিন আসতেই থাকে। দোকানের সামনে ভিড় করে থাকে। এতে ফুল যেমন নষ্ট হয় তেমনি যারা কেনার কাস্টমার তারা দোকানে আসতে পারেন না। তাই ছবি তোলা নিষেধ করে দিয়েছি।
ফুলের পাশাপাশি স্থানীয় সুপার শপগুলোতে গিফট ও চকলেটের বিক্রি বাড়ছে। তবে ভালোবাসা দিবসে এই বিক্রি আরও বাড়বে বলে জানান বিক্রেতারা।
মিরপুর ১১ নম্বরের স্থানীয় এক সুপার শপের ম্যানেজার শরিফুল বলেন, ভালোবাসা দিবসে সকাল থেকেই চকলেট কেনার জন্য ইয়াং ছেলেপেলে আসে। সারাদিনই বিক্রি হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন গিফট বিশেষ করে পুতুলের চাহিদা বেশি থাকে।
ছবি: প্রতিবেদক








