বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক (সশস্ত্র) মো. বাচ্চু মিয়া ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা’ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। বাচ্চু মিয়াসহ এবার ঢাকা মেট্রোপলিটনের পুলিশের ২৯ সদস্য এই পুরস্কার পেয়েছেন।
বাচ্চু মিয়া নিজেই বাংলা ট্রিবিউন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সম্মাননা গ্রহণের পর অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, এই সম্মাননায় ভূষিত হয়ে জীবনে আর চাওয়া-পাওয়ার আর কিছু নেই। সেবার জন্যই সর্বোচ্চ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছি। আর কয়েক মাস চাকরি আছে। আগামী অক্টোবর মাসে চাকরি থেকে অবসরে যাচ্ছি। অবসরের সময়ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। আমার আর কিছু চাওয়ার নাই।
বাচ্চু মিয়ার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার মামুননগর ইউনিয়নের বাড়ি গ্রামে। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তিনি দুই পুত্র ও দুই কন্যার জনক। ১৯৮৪ সালে কনস্টেবল হিসেবে পুলিশে যোগ দেন। শুরুতে রাজারবাগ পরিবহন, দুই নম্বর কোম্পানির টুআইসি ও ডিএমপির বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৩ সালে ঢামেকে পুলিশ ফাঁড়িতে কিছু দিন দায়িত্ব পালনের পর একই বছর শান্তিরক্ষা মিশনে যান আফ্রিকার সুদানে। সেখানে ১ বছর ২২ দিন পার করে দেশে ফিরে যোগ দেন রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে। এরপর আবার ২০১৬ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যোগ দেন। সেখানে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করায় ওসি (পরিদর্শক) পদে পদোন্নতি লাভ করেন।
এর আগে মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিনে ৪০০ পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।
অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ৩৫ পুলিশ সদস্যকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’; ৬০ জনকে ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ৯৫ পুলিশ সদস্যকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ এবং ২১০ জনকে ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা’ পদকে ভূষিত করা হয়।








