অন্য ব্যক্তিকে দিয়ে নিজের সাজা খাটানোর ঘটনায় সাত বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি যুবলীগ নেতা নাজমুল হাসানকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বদলি সাজা খাটানোর ঘটনা নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আনার পর রবিবার (১২ মে) বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের নেতৃত্বাধীন একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। আসামি নাজমুল হাসানের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। দুই জেলারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আজিম। আর অভিযোগ ওঠা দুই আইনজীবীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাহজাহান।
পরে আদালত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন। আর মামলার শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার (১৪ মে) দিন ধার্যের আদেশ দেন।
শুনানিতে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ আদালতকে বলেন, ‘নাজমুল যে হলফনামা দাখিল করেছেন, সেখানে তিনি নিজেই বলেছেন, এ রায়ের বিষয়ে তিনি জানেন না। এমনকি রায়ের পর তিনি হাজিরও হননি। তাহলে তিনি নিজেই বলছেন তিনি পলাতক। পলাতক অবস্থায় তার বাইরে থাকার সুযোগ নেই।’
পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের আগস্ট মাসে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ আনোয়ার হোসেনকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। সে সময় পালিয়ে যায় মামলার মূল আসামি ঢাকার উত্তরার ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা নাজমুল হাসান। এ ঘটনায় দুজনকে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর মামলা করে। বিচারে অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় পলাতক নাজমুল হাসানকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয় অধস্তন আদালত।
এ রায়ের পর নাজমুলের পরিচয় দিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জেল খাটেন মিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। পরে অধস্তন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে ১১ দিন জেল খেটে জামিনে বের হয়ে যান তিনি। পরে এ ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তদন্তের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। অন্যদিকে ঘটনা তুলে ধরে প্রধান বিচারপতির নজরে আনেন অধস্তন আদালতের এক আইনজীবী। পরে প্রধান বিচারপতি এ মামলার আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এই বেঞ্চ শুনানি নিয়ে বিচারক, আইনজীবী, দুই জেলার এবং আসামি নাজমুল হাসানের কাছে ব্যাখ্যা দাখিলের আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সে আদেশের ধারাবাহিকতায় সংশ্লিষ্টরা হহাইকোর্টে ব্যাখ্যা দাখিল করেন।









