‘২০৫০ সালের মধ্যে বরেন্দ্র অঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হবে’

ঢাবি প্রতিনিধি
২২ মে ২০২৪, ১৯:১২আপডেট : ২২ মে ২০২৪, ১৯:১২

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ২০৫০ সালের মধ্যে বরেন্দ্র অঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বক্তারা। বুধবার (২২ মে) আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মুনীর চৌধুরী মিলনায়তনে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলন (পরিজা) ও ঢাবি পরিবেশ সংসদ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

পরিজার সভাপতি প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ডাকসুর সাবেক জিএস ডা. মুশতাক হোসেন, পরিজার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল, পরিজার সহসভাপতি ক্যামেলিয়া চৌধরী, ঢাবি পরিবেশ সংসদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রাশেদ, লেখক ও গবেষক অপূর্ব কুমার দাশ, পুরান ঢাকার নেতা জি এম রুস্তম খান, মো. ইব্রাহীম প্রমুখ।

আলোচনা সভায় ধারণা পত্র উত্থাপন করেন প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান ও সঞ্চালনা করেন আমির হাসান মাসুদ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব ও পদ্মা নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ ভারত নিয়ন্ত্রণ করার কারণে নদীর নাব্য হারিয়ে জেগে উঠেছে বিশাল বিশাল চর। পানির স্তর বছরে গড়ে স্থানভেদে দুই থেকে তিন ফুট করে নিচে নেমে যাচ্ছে। এই হার অব্যাহত থাকলে আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে এই অঞ্চল সম্পূর্ণরূপে মরুভূমিতে পরিণত হবে। পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা না হলে ভাঙনের কারণে নদীর প্রশস্ততা আরও ব্যাপকভাবে বাড়বে।

শুষ্ক মৌসুমে ভারতের একতরফা পদ্মার পানি প্রত্যাহারের ফলে বরেন্দ্র এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হবে জানিয়ে তারা বলেন, ভাটির দেশ হিসেবে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ায় আমাদের দেশে পানির সংকট আরও ঘনিভূত হচ্ছে এবং নৌ চলাচল, সেচব্যবস্থা ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে, উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো শুষ্ক বালুচরে পরিণত হয়েছে। দেশের প্রায় ১৪০ টি নদ-নদী এখন মৃত প্রায়। দেশের প্রায় ১৩টি নদীর অস্তিত্ব এখন বিলীনের পথে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের মানচিএ থেকে হারিয়ে যাবে এসব নদী।

মো. আবদুস সোবহান বলেন, আমাদের বায়ু নিশ্বাসযোগ্য রাখার পাশাপাশি, জীববৈচিত্র্য,খাদ্য, পানি সরবরাহ, ওষুধ, পোশাক-পরিচ্ছদ, আশ্রয়স্থলের জোগান দিচ্ছে। জীববৈচিত্র্য হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ চলনশক্তি। বিশ্ব অর্থনীতির ৪০ শতাংশ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চাহিদার ৮০ শতাংশ আসে জৈব সম্পদ থেকে। মানবতার ভাগ্য, কল্যাণ সুদৃঢ়ভাবে জৈববৈচিত্র্যের সঙ্গে জড়িত। বর্তমান বিশ্বের সব প্রাণীর খাদ্য নিরাপত্তা আজ হুমকির সম্মুখীন। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষেণের মাধ্যমে সব প্রাণীর খাদ্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান করা সম্ভব।

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, আমরা আমাদের প্রকৃতি পরিবেশ ও জলবায়ুকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছি। প্রাণ-প্রকৃতিকে ধ্বংস করে কোনও উন্নয়ন পরিকল্পনা টেকসই হয় না। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বব্যাপী যে প্রভাব, সেখানে আমাদের আরও প্রাণ ও প্রকৃতিনির্ভর পরিকল্পনার কোনও বিকল্প নেই। কিছু হলেই আমরা যেভাবে গাছ হত্যা করি, বন উজাড় করি তা অদূর ভবিষ্যতে আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ধাবিত করবে।

/এনএআর/
সম্পর্কিত
এল নিনোর আসন্ন প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি নিন: জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
পাগলা নদীতে নেমে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু
ব্রহ্মপুত্র তীরে বালু ব্যবসায়ীদের টোল ঘর গুঁড়িয়ে দিলো এলাকাবাসী
সর্বশেষ খবর
নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলার কথা স্বীকার ট্রাম্পের
নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলার কথা স্বীকার ট্রাম্পের
সোনাক্ষির সুস্থতায় কাজে লাগছে হোমিওপ্যাথি, বিতর্কে নেটিজেনরা
সোনাক্ষির সুস্থতায় কাজে লাগছে হোমিওপ্যাথি, বিতর্কে নেটিজেনরা
নিজের বিড়ালকে আলিঙ্গন করার দিন আজ
নিজের বিড়ালকে আলিঙ্গন করার দিন আজ
স্পেনের ৭২ বছরের পেনাল্টি আধিপত্যের ইতি যেভাবে
স্পেনের ৭২ বছরের পেনাল্টি আধিপত্যের ইতি যেভাবে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের