X
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪
৯ শ্রাবণ ১৪৩১
ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিন

সকালে সময়মতো ছাড়লেও, বিকালে যাত্রীদের অপেক্ষা

আসাদ আবেদীন জয়
১৩ জুন ২০২৪, ২০:১৮আপডেট : ১৫ জুন ২০২৪, ১৯:৩০

প্রথম দিনেই দেরিতে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে। সময়মতো ছেড়ে যেতে পারেনি ট্রেনগুলো। এদিকে ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দিনের শুরুতে ট্রেনগুলো সময়মতো ছেড়ে গেলেও, বেলা গড়াতেই বিলম্বের ফাঁদে।

যাত্রীরা সময়মতো স্টেশনে পৌঁছালেও যাত্রা শুরু করতে পারেনি সময়মতো। বেশ কিছু ট্রেন দেরিতে ছাড়ায় ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ যাত্রীদের। গরমে হাঁপিয়ে ওঠে তারা। এতে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সরেজমিনে দেখা যায় এসব চিত্র। প্ল্যাটফর্মে ও ট্রেনের ভেতরে বসে অপেক্ষা করছেন যাত্রীরা, কখন তাদের যাত্রা শুরু হবে।

ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জানান, সকাল থেকে সব ট্রেন সময়মতো ছেড়ে যাচ্ছে। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত কমিউটার, আন্তঃনগর মিলিয়ে ৩৫টি ট্রেন ছেড়ে গেছে এবং সবগুলোই সময়মতো ছেড়ে যাচ্ছে। আশা করছি যাত্রীরা নিরাপদেই বাড়ি যেতে পারবে।

মো. আরিফুল ইসলাম ঈদ উদযাপন করতে অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসে করে যাচ্ছেন ময়মনসিংহে। তিনি বলেন, ট্রেনের টিকিট কাটা থেকে সিটে বসা পর্যন্ত আমার কোনও অসুবিধা হয়নি। সাড়ে ১১টায় ট্রেন ছাড়ার কথা, এখন সময়মতো ছাড়লেই হলো। গতকাল তো সময়মতো ট্রেন ছাড়েনি দেখলাম।

পরে দেখা যায়, অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস (৭৩৫) ট্রেনটি ১৫ মিনিট দেরি করে ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা স্টেশন ছেড়ে যায়।

সকালে সময়মতো ছাড়লেও, বিকালে যাত্রীদের অপেক্ষা

নকশিকাঁথা এক্সপ্রেস (২৬) ট্রেনটি সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ১২টা ২৫ মিনিটে ঢাকা স্টেশন ছেড়ে যায়। ট্রেনটি ছাড়ার আগে যাত্রী মো. রেজাউল বিশ্বাস বলেন, আমি যাবো ফরিদপুর। ১১টা ৪০ মিনিটে ট্রেন ছাড়ার কথা। এখন সোয়া ১২টা বাজলেও ট্রেন ছাড়ছে না। ১১টা থেকে আমি অপেক্ষা করছি এই গরমের মধ্যে।

শিবচরের যাত্রী ওসমান গণি বলেন, আমি সকাল ১০টায় কমলাপুর এসে টিকিট কেটেছি। কিন্তু এখনও ট্রেনই ছাড়েনি। টিকিট পাওয়ার জন্য আগে এসেছি। এখন ট্রেন ছাড়ার নাম নাই। আসলে কমিউটার ট্রেনে এমন হবে, এটা মেনেই নিয়েছি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী রাজশাহী কমিউটার ট্রেনের টিকিট কেটেছেন খালিদ আহমেদ। তিনি বলেন, ট্রেনটি ১২টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও ১২টা ৪০ পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মেই আসেনি। পরে ট্রেনটি ঢাকা স্টেশন ত্যাগ করে ২টা ৩০ মিনিটে। এর মানে ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট দেরি করে স্টেশন ছাড়ে এটি।

এদিকে মোহনগঞ্জগামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৮৯) ট্রেনটি ১টা ১৫ মিনিটে ও চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী বনলতা এক্সপ্রেস (৭৯১) ট্রেনটি ১টা ৩০ মিনিটে নির্দিষ্ট সময়ে প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়।

চট্টলা এক্সপ্রেসের যাত্রী সত্তরোর্ধ্ব আশরাফ উদ্দিন ট্রেনের ভেতরে বসে ঘামছিলেন। তিনি বলেন, ১টার দিকে এসেছি স্টেশনে। এখন ট্রেনের ভেতর বসে আছি গরমে, বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেও পারি না। ট্রেন কখন ছাড়বে জানি না। আসলে আমাদের হাতে কিছু নাই। তাই বসে থাকা ছাড়া কোনও উপায় নাই।

সকালে সময়মতো ছাড়লেও, বিকালে যাত্রীদের অপেক্ষা

চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০২) ট্রেনটি ঢাকা ত্যাগ করে ৩টা ১৬ মিনিটে। কিন্তু এই ট্রেন ছাড়ার নির্ধারিত সময় ছিল ১টা ৪৫ মিনিটে। দেড় ঘণ্টা দেরিতে এই ট্রেন ঢাকা স্টেশন ত্যাগ করে।

একই ট্রেনের আরেক যাত্রী মো. মাহিনুল ইসলাম যাবেন ভৈরব। তিনি বলেন, আমি এসেছি দেড়টার দিকে। এখন তিনটা বেজে যাচ্ছে। ট্রেন এখনও ছাড়ছে না। কখন ছাড়বে কিছু বলছেও না। গরমে অবস্থা খারাপ।

স্বপন খান নামের এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সব সময় এই চট্টলা এক্সপ্রেস দেরি করে ছাড়ে। কখনোই সময়মতো ছাড়ে না। আমি নিয়মিত এই ট্রেনে যাতায়াত করি। কখনোই এই ট্রেন সময়মতো ছাড়তে পারে না।

পরে চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০২) ট্রেনটি ঢাকা ছাড়ে ৩টা ১৬ মিনিটে। এই ট্রেন ছাড়ার নির্ধারিত সময় ছিল ১টা ৪৫ মিনিটে। এতে দেরি হয় দেড় ঘণ্টা।

বিকাল সাড়ে ৩টায় রিফাত নামের সিল্কসিটি ট্রেনের যাত্রী বলেন, ২টা ৪০-এ ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এখনও ট্রেন প্ল্যাটফর্মেই আসেনি। কখন ছাড়বে কে জানে! এই ট্রেনের আরেক যাত্রী মহিউদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই হচ্ছে আমাদের ঈদের আনন্দের যাত্রা। ট্রেন আসার নামই নাই!

রাজশাহীগামী সিল্কসিটি (৭৫৩) ট্রেনটি ২টা ৪০ মিনিটে ঢাকা স্টেশন ছাড়ার কথা থাকলেও ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মে দেখা যায়নি। ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে আসে ৪টা ৫ মিনিটে। আর ট্রেনটি ঢাকা ছেড়ে যায় বিকাল ৫টার দিকে। এ ক্ষেত্রে দেখা যায় ট্রেনটি আড়াই ঘণ্টা দেরিতে যাত্রা শুরু করে।

এদিকে ঈদযাত্রার দুই দিনই দেরিতে যাত্রা হওয়া সত্ত্বেও রেলপথমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম বিকালে ঢাকা রেলস্টেশন পরিদর্শন শেষে দাবি করে বলেন, ‘গতবারের মতো এবারও গোল্ডেন প্লাস পাবো।’

সকালে সময়মতো ছাড়লেও, বিকালে যাত্রীদের অপেক্ষা

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘গত ঈদে রেলের সার্ভিস ভালো হয়েছে। এতে অনেকেই বলেছে আমি প্রথম পরীক্ষায় নাকি গোল্ডেন প্লাস পেয়েছি। আমাদের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে নিরাপদে ঈদুল আজহার যাত্রা এবারও ভালো করতে চাই। এবারও গোল্ডেন প্লাস পাবো আশা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সব প্রস্তুতি আছে। ঢাকা থেকে ৬৪টি ট্রেন ছাড়ে দুই একটা ট্রেন বাদে ৩০টা ট্রেন ইন টাইম যাত্রা করেছে। সবাইকে অনুরোধ করবো এবারের যাত্রা যেন গতবারের চেয়ে ভালো হয়। আপনাদের জন্য রেল কাজ করে যাচ্ছে।

ট্রেন কেন দেরিতে ছাড়ছে, এমন প্রশ্নে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘পুরনো কোচ রাতারাতি নতুন করতে পারবো না। ফ্যান ঠিক করা হচ্ছে। আবার অনেক সময় যাত্রী বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত কোচ লাগাতে হয়। এতে সময় বেশি লাগে। কিছু ট্রেনে লম্বা দূরত্বে ক্রসিংয়ে সময় বেশি লাগে। আগামী ঈদ থেকে আর কোনও অভিযোগ থাকবে না।’

এদিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আখাউড়াগামী তিতাস কমিউটার ট্রেনটি ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মে আসতে পারেনি। অথচ ট্রেনটির ঢাকা স্টেশন ছাড়ার কথা ৫টা ৪৫ মিনিটে।

/এএজে/এনএআর/
সম্পর্কিত
বৃহস্পতিবার থেকে স্বল্প দূরত্বের কিছু যাত্রীবাহী ট্রেন চলবে
নিরাপত্তার স্বার্থে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ
চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের সড়ক ও রেলপথ অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ
সর্বশেষ খবর
কূটনীতিকরা স্তম্ভিত, বলেছেন বাংলাদেশের পাশে আছেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
কূটনীতিকরা স্তম্ভিত, বলেছেন বাংলাদেশের পাশে আছেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সংঘাতে ডিএনসিসির ২০৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি
সংঘাতে ডিএনসিসির ২০৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি
নাটকীয় হারে আর্জেন্টিনার অলিম্পিক যাত্রা শুরু
নাটকীয় হারে আর্জেন্টিনার অলিম্পিক যাত্রা শুরু
‌‌‘আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে নিয়ে নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে বিএনপি-জামায়াত’
‌‌‘আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে নিয়ে নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে বিএনপি-জামায়াত’
সর্বাধিক পঠিত
ধারণা ছিল একটা আঘাত আসবে: প্রধানমন্ত্রী
ধারণা ছিল একটা আঘাত আসবে: প্রধানমন্ত্রী
চাকরিতে কোটা: প্রজ্ঞাপনে যা আছে
চাকরিতে কোটা: প্রজ্ঞাপনে যা আছে
কোটা নিয়ে রায় ঘোষণার আগে যা বলেছিলেন প্রধান বিচারপতি
কোটা নিয়ে রায় ঘোষণার আগে যা বলেছিলেন প্রধান বিচারপতি
কোটা আন্দোলন: প্রধানমন্ত্রীর বর্ণনায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র 
কোটা আন্দোলন: প্রধানমন্ত্রীর বর্ণনায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র 
কারফিউ বা সান্ধ্য আইন কী 
কারফিউ বা সান্ধ্য আইন কী