X
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪
৯ শ্রাবণ ১৪৩১
এমপি আনার হত্যা

ম্যাজিস্ট্রেটসহ আ.লীগ নেতা বাবুকে নিয়ে ফোন উদ্ধারে অভিযানের নির্দেশ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৪ জুন ২০২৪, ১৭:০৭আপডেট : ২৪ জুন ২০২৪, ১৭:২২

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমকে খুনের উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলায় গ্রেফতার আওয়ামী লীগ নেতা কাজী কামাল আহমেদ বাবুর রিমান্ডের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (২৪ জুন) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতাউল্লাহর আদালত এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তাকে ঝিনাইদাহ কারাগারে পাঠানোর জন্য কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে এক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসহ বাবুকে নিয়ে তার ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধারে অভিযানের নির্দেশ দেন আদালত।

এদিন বাবুর পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সহকারি পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান কাজী কামাল আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। বাবুর পক্ষে এ এস এম আবুল কাশেম খান রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে মোবাইল ফোন উদ্ধারের অভিযানের নির্দেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী এ এস এম আবুল কাশেম খান এ সব তথ্য জানান।

গত ৯ জুন আসামি বাবুর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে রিমান্ড চলাকালীন আসামি বাবু স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান তার জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ জুন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। ওইদিন জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

৯ জুন রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, এই মামলায় শিমুল ভূঁইয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মদ ভূঁইয়া ওরফে আমান উল্লাহ সাঈদ, তানভীর ভূঁইয়া ও সিলিস্তা রহমান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। শিমুল ভূঁইয়ার জবানবন্দিতে আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজী কামাল আহমেদ বাবুর প্রসঙ্গ উঠে আসে এবং বাবুর সঙ্গে শিমুল ভূঁইয়ার কিছু পরিকল্পনার কথা প্রকাশ পায়। শিমুল ভূঁইয়া তার জবানবন্দিতে আরও জানায়, সে গত ১৫ মে কলকাতা থেকে বাংলাদেশে এসে ১৬ মে কামাল আহমেদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন। ১৭ মে তারা সাক্ষাৎ করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা বিভাগ ৮ জুন আলামত উদ্ধারের লক্ষ্যে শিমুল ভূঁইয়ার লুটেরচর সাভারের ভাড়া বাসায় বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে অভিযান চালান। তার বাসায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। পরে মোবাইল ফোনের তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মামলার ঘটনা পরবর্তী ১৬ মে থেকে হোয়াটসঅ্যাপে বাবুর সঙ্গে আসামি শিমুল ভূঁইয়ার যোগাযোগ ও কথোপকথনের তথ্য রয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কামাল আহমেদ আসামি শিমুল ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, ১৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিমুল ভূঁইয়ার সঙ্গে কামাল আহমেদ ভিকটিম আনোয়ারুল আজীম আনার অপহরণ সংক্রান্তে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেন। পরদিন ১৭ মে শিমুল ভূঁইয়ার সঙ্গে কাজী কামাল আহমেদ বাবু অত্যন্ত পরিকল্পিত উপায়ে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানাধীন ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে গাড়ির ভেতর সাক্ষাৎ করে ভিকটিমকে অপহরণ ও পরবর্তীতে হত্যা সংক্রান্ত ছবি, টাকা-পয়সা লেনদেনের বিষয়ে গোপন মিটিং করে।

গত ১২ মে সন্ধ্যায় আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস শেরেবাংলা নগর থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে মুমতারিন উল্লেখ করেন, মানিক মিয়া এভিনিউয়ের বাসায় আমরা সপরিবারে বসবাস করি। ৯ মে রাত ৮টার দিকে আমার বাবা আনোয়ারুল আজিম আনার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ যাওয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন। ১১ মে বিকাল পৌনে ৫টার দিকে বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বললে বাবার কথাবার্তা কিছুটা অসংলগ্ন মনে হয়। এরপর বাবার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও বন্ধ পাই। ১৩ মে বাবার ভারতীয় নম্বর থেকে উজির মামার হোয়াটসঅ্যাপে একটি ক্ষুদে বার্তা আসে। এতে লিখা ছিল, ‘আমি হঠাৎ করে দিল্লি যাচ্ছি, আমার সঙ্গে ভিআইপি রয়েছে। আমি অমিত সাহার কাজে নিউটাউন যাচ্ছি। আমাকে ফোন দেওয়ার দরকার নাই। আমি পরে ফোন দেবো।’ এছাড়া আরও কয়েকটি বার্তা আসে। ক্ষুদে বার্তাগুলো আমার বাবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অপহরণকারীরা করে থাকতে পারে।

আরও উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন জায়গায় বাবার খোঁজ করতে থাকি। কোনও সন্ধান না পেয়ে তার বন্ধু গোপাল বিশ্বাস বাদী হয়ে ভারতীয় বারানগর পুলিশ স্টেশনে সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপরও আমরা খোঁজাখুজি অব্যাহত রাখি। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারি, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজসে বাবাকে অপহরণ করেছে।

এই মামলায় শিমুল ভূইঁয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মদ ভূইঁয়া ওরফে আমানুল্যাহ সাঈদ, তানভীর ভূইঁয়া ও শিলাস্তা রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। রিমান্ড শেষে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছে। এছাড়া গ্রেফতার ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু রিমান্ড শেষে কারাগারে রয়েছেন।

/এআই/আরকে/
সম্পর্কিত
আদালতের নতুন সময়সূচি ঘোষণা
জনমনে স্বস্তি না ফেরা পর্যন্ত কারফিউ চলবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজধানীজুড়ে সহিংসতা: পাঁচ দিনে কারাগারে ১২৫৮ জন
সর্বশেষ খবর
কূটনীতিকরা স্তম্ভিত, বলেছেন বাংলাদেশের পাশে আছেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
কূটনীতিকরা স্তম্ভিত, বলেছেন বাংলাদেশের পাশে আছেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সংঘাতে ডিএনসিসির ২০৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি
সংঘাতে ডিএনসিসির ২০৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি
নাটকীয় হারে আর্জেন্টিনার অলিম্পিক যাত্রা শুরু
নাটকীয় হারে আর্জেন্টিনার অলিম্পিক যাত্রা শুরু
‌‌‘আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে নিয়ে নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে বিএনপি-জামায়াত’
‌‌‘আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে নিয়ে নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে বিএনপি-জামায়াত’
সর্বাধিক পঠিত
ধারণা ছিল একটা আঘাত আসবে: প্রধানমন্ত্রী
ধারণা ছিল একটা আঘাত আসবে: প্রধানমন্ত্রী
চাকরিতে কোটা: প্রজ্ঞাপনে যা আছে
চাকরিতে কোটা: প্রজ্ঞাপনে যা আছে
কোটা নিয়ে রায় ঘোষণার আগে যা বলেছিলেন প্রধান বিচারপতি
কোটা নিয়ে রায় ঘোষণার আগে যা বলেছিলেন প্রধান বিচারপতি
কোটা আন্দোলন: প্রধানমন্ত্রীর বর্ণনায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র 
কোটা আন্দোলন: প্রধানমন্ত্রীর বর্ণনায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র 
কারফিউ বা সান্ধ্য আইন কী 
কারফিউ বা সান্ধ্য আইন কী