নানা আলোচনার জন্ম দিয়ে উদ্ধার করা হয় রামচন্দ্রপুর খালের দখল হওয়া অংশ। সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় আলোচিত পশুর খামার সাদেক অ্যাগ্রো ও পাশে থাকা বস্তিটি। তবে দেড় মাসের মাথায় আবারও দখল হচ্ছে উদ্ধার করা জায়গা।
বুধবার (১৪ আগস্ট) সকালে রাজধানী মোহাম্মদপুরের ভাঙ্গা মসজিদ রোডের মাথায় রামচন্দ্রপুর খাল সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উদ্ধার করা খালের অংশে দুটি টিনের ছাপড়া ঘর তোলা হয়েছে ও বিভিন্ন অংশে বাঁশ পুঁতে রাখা হয়েছে ঘর তোলার জন্য। এছাড়া কিছু রিকশাও এনে রাখা হয়েছে সেখানে। খুলে ফেলা হয়েছে গণপূর্তের নোটিশবোর্ড, যেখানে উল্লেখ ছিল ‘খালের এই অংশটি সরকারে খাস জমি’।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উচ্ছেদের আগে যারা এখানে বস্তি করে থাকতেন, তারাই এসে আবারও এসব স্থাপনা তুলছে। তবে এই পুনর্দখল শুরু হয়েছে বিএনপির ব্যানারে দুটি টিনশেড ঘর তৈরি থেকে।
স্থানীয়রা জানান, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পরের দিন বিকালেই একদল লোক ওই জায়গায় ঘর বানানোর কাজ শুরু করেন। এর মাঝে প্রথম ঘরটিতে বিএনপির নামে একটি ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। প্রথম দিকে এই ঘরে কেউ না আসলেও গত কয়েকদিন লোক আনাগোনা শুরু করে। তারা ঘরটিতে কয়েকটি চেয়ার রেখে যান। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতারা ঘর ওঠানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তারা ঘর তোলার বিষয়ে অবগত নন বলেও জানান।
খালের অন্য জায়গায় ঘর তোলা বাবুল নামে একজন বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, কোথায় যাবো? বস্তি ভেঙে দেওয়ার পর দুই মাস ধরে রাস্তায় আছি। এখন আবার নিজেই ঘর তুলছি। এই জায়গায় গত ২০ বছর ধরে আছি। যাবার কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।’
তিনি বলেন, ‘পাশের ঘরটা বিএনপির ক্লাব করা হয়েছিল। একটা ব্যানারও টানানো হয়েছিল। গতকাল (মঙ্গলবার) সেই ব্যানার খুলে ফেলা হয়েছে।’
এ বিষয়ে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মান্নান হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খালের জায়গা দখল করে ঘর তৈরি করতে কাউকে বলা হয়নি। কারা করেছে খোঁজ নিচ্ছি। ওইখান থেকে ব্যানার সরিয়ে দিয়েছি।’
এদিকে বিএনপির নামে এই সাইনবোর্ড কারা লাগিয়েছেন, তা সরেজমিনে খুঁজে বের করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সে অনুযায়ী আজ বুধবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি সদস্য সচিব আমিনুল হকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন বলেও জানানো হয়েছে।
সাদেক অ্যাগ্রোর খামার যে স্থানে ছিল, সেখানেও ইটের দেওয়াল তোলা হচ্ছে। নির্মাণ কাজ করা মিস্ত্রিরা দাবি করছেন, এগুলো ব্যক্তি মালিকানার প্লট। সাদেক অ্যাগ্রো উচ্ছেদের সময় এগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। তাই নতুন করে আবারও দেয়াল তোলা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে প্লট মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া নবীনগর হাউজিং এলাকায় ঢুকতে সড়কের পাশে থাকা সাদিক অ্যাগ্রোর একটি অবৈধ খামার উচ্ছেদ করা হয়। সেটিও আবার নতুন করে দখলের জন্য বাঁশ পুঁতে রাখা হয়েছে। কাজটি সাদিক অ্যাগ্রোই করেছে বলে জানান সেখানে কাজ করা কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক।
তারা জানান, উচ্ছেদের কিছুদিন পর আবারও দখল করার চেষ্টা করা হয়। তবে এখন এগুলো সরিয়ে ফেলতে বলেছে।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসের শেষ দিকে টানা তিন দিন অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদপুরের কাছে রামচন্দ্রপুর খাল ও সরকারি খাস জমি দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। খাল উদ্ধার কার্যক্রমের প্রথম দিনই অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বস্তি, রাজনৈতিক দলের অস্থায়ী কার্যালয়, মুদি দোকান ও আলোচিত সাদিক অ্যাগ্রোর পশুর খামার ভেঙে দেওয়া হয়। আগামীতে যেন নতুন করে কেউ খাল ভরাট করতে না পারে, সেজন্য খালের একাংশে শিশুদের জন্য খেলার জায়গা তৈরি করে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানায় ডিএনসিসি। তবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এরই মধ্যে বিভিন্ন খাতেই দেখা গেছে ক্ষমতার পট পরিবর্তন। এরই ধারাবাহিকতায় উদ্ধার হওয়া খালের এই জায়গাও আবারও দখল করে নিয়েছে অবৈধ দখলদাররা।









