বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি স্থপতি ড. খন্দকার সাব্বির আহমেদ বলেছেন, আমাদের ইনোভেশন নাই, নতুন আইনে কেউ আসছেন না। শুধু আছে ফেয়ার (মেলা) ও প্লট ইত্যাদি এসব। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, রাজউক প্লট বাণিজ্য বন্ধ করুক। তারা প্লট বাণিজ্যে মনোনিবেশ করায়— রাষ্ট্রের জন্য তাদের যেসব কাজ করা দরকার ছিল, সে ক্যাপাসিটি তারা হারিয়েছে। আমরা মনে করি, রাজউককে ঢেলে সাজানো উচিত।’
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের প্রত্যাশা এবং জনস্বার্থ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থপতি ড. খন্দকার সাব্বির আহমেদ বলেন, গতকাল (রবিবার) আমরা রাজউকের চেয়ারম্যানসহ প্ল্যানিং ইনস্টিটিউট, আইএবি, ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান— অনেকে আমরা বলেছি, ডিটেইল এরিয়া প্লান (ড্যাপ) সংশোধন করার জন্য। উনি আমাদেরকে বলেছেন, আমাদের সংশ্লিষ্ট যে উপদেষ্টা আছেন, তার কাছে তিনি এই মেসেজটা তুলে ধরবেন। আমরা আরও বলেছি, রাজউকের যে প্ল্যান অনুমোদনের কমিটিগুলো আছে, সেখানে স্থপতিদের সম্পৃক্ত করতে হবে। আমরা চাই, রাজউকের প্রতিটি কমিটিতে আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর বাইরে স্থপতিদের রাখতে হবে। রাজউকের নিচের স্তরগুলোতে অনিয়ম-দুর্নীতিতে অবস্থা আরও খারাপ। এগুলো সমাধান করতে গেলে কাঠামোগত চেঞ্জ দরকার। আমরা মনে করি, রাজউকের চেয়ারম্যানের যে একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, সেটার ওপরে একটা গভর্নিং কাউন্সিল থাকা দরকার। যেখানে সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা, বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। এটা ছাড়া শহরের এতগুলো মানুষের ভোগান্তি আমরা সমাধান করতে পারবো না।
এসময় তিনি আরও বলেন, আমরা দেখি, রাস্তার মাঝখানে গাছ লাগানো হচ্ছে। কিন্তু গাছ লাগানো দরকার ফুটপাতে। গাড়িরতো ছায়া দরকার নাই, ছায়া দরকার মানুষের। রাস্তার মাঝখানে গাছ লাগানোর জন্য রাস্তা পারাপারে অসুবিধাও হয়। চালকরা অনেক সময় রাস্তা পারাপারের মানুষদের দেখতে পান না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।
তিনি বলেন, ড্যাপে অবশ্য ভালো পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ডিটেইল এরিয়ার এই প্লানটি ডিটেইল নয়। ঢাকা শহরের ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত জায়গা ইনফরমাল (অপরিকল্পিত)। যেখানে কোনও কোনও এলাকায় মানুষের ঘনত্ব বেশি, কোথাও রাস্তা অপরিকল্পিত, আবার কোথায় ভালো পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। এই ৬৬ শতাংশের জন্য ড্যাপে কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। এখানে রাজুকের কর্মকর্তারা এলাকাভিত্তিক ফ্লাটের ‘ফার’ (ফ্লাটের উচ্চতার রেশিও) কমিয়ে দিয়েছেন, আর বলছেন— নাগরিক সুবিধা না থাকার কারণে এত লোক বসবাস করা যাবে না। তবে আমাদের পরামর্শ হচ্ছে— এই নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করে এই ‘ফার’ সুবিধা আরও বাড়ানো যেত। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত না করে যদি ‘ফার’ সুবিধা কমিয়ে রাখা হয়, তাহলে এর দোষ কি তাদের (এলাকাবাসী), না যারা শহর পরিচালনা করে তাদের?
কোথায় রাস্তা হওয়া দরকার, কোথায় পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকা দরকার, কোথায় গ্যাস কানেকশন দরকার, তা তো রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল নিশ্চিত করা। রাজউক তা না করে মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। যার ৬ তলা করার কথা, সেখানে তার ৪ তলা পর্যন্ত করতে হচ্ছে। আমরা মনে করি, এই ড্যাপের কারণে এলাকাবাসী বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি আরও বলেন, ক্লাইমেট চেঞ্জ হচ্ছে, হঠাৎ করে অনেক বৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকা পানি দিয়ে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। ডুবে যাচ্ছে চলাচলের পথ, বাড়ি-ঘর। শুধু শহরেই না শহরেই বাইরেও। এই ব্যাপারে ড্যাপের সুনির্দিষ্ট কোনও গাইডলাইন নাই। নদী-জলাধার ভরাট করে বাড়ি তৈরি হচ্ছে। কেন আপনারা (রাজউক) সে সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছেন?
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সহ-সভাপতি (জাতীয় বিষয়াদি) স্থপতি মো. আলী নকী। আরও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) স্থপতি খান মো. মাহফুজুল হক জগলুল, সাধারণ সম্পাদক স্থপতি নবী নেওয়াজ খান, সম্পাদক (পেশা) স্থপতি মো. নাজমুল হক বুলবুল, সম্পাদক (সেমিনার ও কনভেনশন) স্থপতি সাবরিনা আফতাব, সম্পাদক (পরিবেশ ও নগরায়ন) স্থপতি সুজাউল ইসলাম খান এবং স্থপতি আমিনুল ইসলাম ইমন প্রমুখ।









